আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক জোট

আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক সংগঠন

International Political Alliance

 

কমনওয়েলথ অব নেশনস

Commonwealth of Nations

ইংরেজ শাসন থেকে স্বাধীনতা প্রাপ্ত দেশসমূহ কমনওয়েলথ এর সদস্য। মোজাম্বিক ও রয়ান্ডা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত দেশ না হয়েও কমওয়েলথভুক্ত দেশ। আবার যুক্তরাষ্ট্র, মিয়ানমার, আয়ারল্যান্ড প্রভৃতি দেশ ব্রিটিশ শাসনাধীন ছিল কিন্তু সদস্য নয়।

 

প্রতিষ্ঠা (Formation): ১৯২৬ সালের ইম্পিরিয়াল সম্মেলনের মধ্য দিয়ে কমনওয়েলথ এর যাত্রা শুরু হয়।তখন নাম ছিল ব্রিটিশ কমনওয়েলথ অব নেশনস। ১৯৩১ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ‘স্ট্যাচু অব ওয়েস্ট মিনিস্টার’ নামে একটি আইন অনুমোদিত হয়। এর ফলে কমনওয়েলথ স্বাতন্ত্র্য মর্যাদা পায়।১৯৪৯ সালে র ২৮ এপ্রিল লন্ডন ঘোষনায় কমনওয়েলথ নাম থেকে ব্রিটিশ কথাটি বাদ দেওয়া হয় এবং কমনওয়েলথ অব নেশনস প্রতিষ্ঠা লাভ করে।

 

সদস্যপদ (Membership): কমনওয়েলথ অব নেশনস এর বর্তমান সদস্য সংখ্যা ৫৩টি দেশ। ৫৩টি দেশের মধ্যে ৭টি এশিয়ার, ইউরোপের ৩টি, আফ্রিকার ১৮টি, উত্তর আমেরিকার ১২টি, দক্ষিন আমেরিকার ১টি এবং ওশেনিয়ার ১১টি দেশ।

 

কমনওয়েলথ ত্যাগকারী দেশ: আয়ারল্যান্ড ১৯৪৯ সালে, জিম্বাবুয়ে ২০০৩ সালে, গাম্বিয়া ২০১৩ সালে এবং সর্বশেষ ২০১৬ সালে মালদ্বীপ কমনওয়েলথ ত্যাগ করে।বর্তমানে সদস্যপদ স্থগিত আছে ফিজির। ২০০৬ সালে সামরিক শখাসন শুরু হলে ফিজির সদস্যপদ স্থগিত করা হয়।

 

আয়তনে কানাডা এবং জনসংখ্যায় ভারত কমনওয়েলেথের সবচেয়ে বড় দেশ। নাউরু আয়তনে কমনওয়েলেথের সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম দেশ।

 

বাংলাদেশ ১৯৭২ সালে কমনওয়েলথের ৩২তম দেশ হিসেবে সদস্যপদ পায়।

 

সদর দপ্তর: মার্লবোরো হাউজ, লন্ডন, যুক্তরাজ্য।

Headquarters: Marlborough House, London, UK

কমনওয়েলথের এর প্রধান ব্রিটেনের রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ। কমনওয়েলথভুক্ত দেশ অস্ট্রেলিয়া যুক্তরাজ্যের রানীকে তাদের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে স্বীকার করে।

 

কমনওয়েলথের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় সর্বসম্মতিক্রমে। কমনওয়েলথভুক্ত দেশসমূহের ডিপ্লোমেটিক কর্মকর্তাকে হাইকমিশনার বলা হয়। কমনওয়েলথ এর বর্তমান মহাসচিব ডমিনিকার বংশোদ্ভুত ব্রিটিশ আইনজীবী ‘প্যাট্রিসিয়া জ্যানেট স্কটল্যান্ড’ তিনি কমনওয়েলেথ এর প্রথম নারী এবং ব্রিটিশ নাগরিক মহাসচিব। সর্বশেষ কমনওয়েলথ এর সম্মেলন হয় মাল্টার ভ্যালেটাতে।প্রতিবছর মার্চ মাসের দ্বিতীয় সোমবার কমনওয়েলথ দিবস পালিত হয়।

 

 

জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন-

NAM- Non Aligned Movement

 

পূর্ণরূপ: Non Aligned Movement

প্রতিষ্ঠাকাল: ১৯৬১ সালের তৎকালীন যুগোশ্লাভিয়ার বেলগ্রেডে প্রথম শীর্ষ সম্মেলনের মাধ্যমে ন্যামের জন্ম হয়। NAM এর প্রতিষ্ঠাতা ৫ জন।এরা হলেন – যুগোশ্লাভিয়ার প্রেসিডেন্ট যোসেফ মার্শাল টিটো, মিশরের প্রেসিডেন্ট জামাল আবদাল নাসের, ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট সুকর্ন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু এবং ঘানার প্রেসিডেন্ট নক্রুমা।

 

বান্দুং সম্মেলন: NAM প্রতিষ্ঠার লক্ষে ১৯৫৫ সালে ইন্দোনেশিয়ার বান্দুং এ একটি সম্মেলন হয়। সম্মেলনের উদ্দেশ্য ছিল তৎকালীন বিশ্বে পুঁজিবাদী ও সমাজতান্ত্রিক দেশগুলোর মধ্যে আদর্শিক ও অর্থনৈতিক যুদ্ধ তথা স্নায়ুযুদ্ধ চলছিল তা এড়িয়ে চলা।অর্থাৎ পুঁজিবাদ বা সমাজতন্ত্র কোনো জোটে না গিয়ে নিরপেক্ষতা অবলম্বন করা এবং নিজস্ব স্বার্থ রক্ষা করা।এজন্য এই বান্দুং সম্মেলনে পাঁচটি নীতি নির্ধারিত হয় ‘পঞ্চশীল নীতি’ রক্ষা করা। ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরালাল নেহেরু এই পঞ্চশীল নীতির প্রবক্তা।

 

NAM এর বর্তমান সদস্য সংখ্যা ১২০টি।সর্বশেষ সদ্যস আজারবাইজান ও ফিজি।  

বাংলাদেশ NAM এর সদস্যপদ পায় ১৯৭২ সালে।ন্যামের সর্বশেষ সম্মেলন হয় ২০১৮ সালে আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে।

NAM এর বার্তাসংস্থার নাম NNN (Nam News Network)। এর সদর দপ্তর মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে। NAM এর কোন সদরদপ্তর নেই।

ইসলামী সম্মেলন সংস্থা- ওআইসি

OIC Organization of Islamic Co-operation

 

১৯৬৭ সালে আরব-ইসরাইল যুদ্ধে ইসরাইল জয়ী হয়ে বিস্তীর্ণ আরব ভূখন্ড দখল করে নেয়।ইসরাইল ১৯৬৯ সালের ২১ আগস্ট ইসলাম ধর্মের অন্যতম পবিত্র একটি স্থান জেরুজালেমের ‘বায়তুল মোকাদ্দেস’ মসজিদে আগুন লাগিয়ে দেয়। এর প্রতিক্রিয়ায় ১৯৬৯ সালের ২২ সেপ্টেম্বর মরক্কোর রাজধানী রাবাতে মুসলিম দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের এক শীর্ষ সম্মেলনে মুসলিম উম্মাহর স্বার্থ সংরক্ষনের জন্য ‘ইসলামি সম্মেলন সংস্থা’ গঠিত হয়।২৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৬৯ আনুষ্ঠানিক ভাবে ‘ইসলামি সম্মেল সংস্থা’ প্রতিষ্ঠা লাভ কর্মোলয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী টেংকু আব্দুর রহমান এর প্রথম সেক্রেটারি জেনারেল (মহাসচিব) নিযুক্ত হন।

 

পূর্ণরূপ: Organization of Islamic Co-operation

পূর্ব পূর্ণরূপ: Organization of Islamic Countries

সদরদপ্তর: সৌদি আরবের জেদ্দায়।

সদস্য: ৫৭ টি দেশ।সর্বশেষ সদস্যদেশ আইভরিকোস্ট।

মহাসচিব: ড. ইউসুফ বিন আল-থাইমিন (সৌদি আরব)।

সর্বশেষ সম্মেলন: ২০১৯ সালে গাম্বিয়াতে।

বাংলাদেশ OIC এর সদস্যপদ পায় ১৯৭৪ সালে (লাহোর সম্মেলনে)

অমুসলিম রাষ্ট্র হয়েও রুয়ান্ডা, মোজাম্বিক, বেনিন, গায়ানা, সুরিনাম, উগান্ডা, ক্যামেরুন OIC এর সদস্য।

OIC এর মহাসচিবের মেয়াদ ৫ বছর।

অফিসিয়াল ভাষা ৩টি। এগুলো হল- আরবী, ইংরেজী ও ফ্রেঞ্চ।

অঙ্গ সংস্থা: ৪টি।

১. রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকার প্রধানধের সম্মেলন

২. পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলন

৩. সাধারণ সচিবালয়

৪. আন্তর্জাতিক ইসলামি আদালত