ই-মেইল

ই-মেইল  (E-Mail)

ই-মেইল ইলেকট্রনিক মেইল (Electronic Mail)এর সংক্ষিপ্ত রূপ। এর প্রধান কাজ হচ্ছে এক কম্পিউটার হতে অন্য কম্পিউটারে বা ফ্যাক্স মেশিনে তথ্য পাঠানো।

ইএটি বর্তমানে বহুল ব্যবহারিত একটি যোগাযোগ মাধ্যম। পোস্টাল ও কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে আমরা যেমন চিঠিপত্র আদান-প্রদান করতে পারি তেমনি কম্পিউটারের সাহায্যেও চিঠিপত্র আদান-প্রদান করা যায়। অতএব, কম্পিউটারের সাহায্যে চিঠিপত্র আদান-প্রদানের এই ব্যবস্থাকে ই-মেইল বলে।

ই-মেইল ঠিকানা: ই-মেইল ঠিকানা হল ইন্টারনেটেরে মাধ্যমে যোগাযোগ করার পরিচয। যেমনভাবে কারো নিকট কোন চিঠি পৌছাতে হলে তার একটি পোস্টাল ঠিকানা থাকা দরকার, তেমনি ই-মেইলের মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদান করতে তার একটি ই-মেইল ঠিকানা থাকা জরুরি। এ ঠিকানা User name@Domain গঠিত হয়।যেমন : habibsobuj@gmail.com একটি ইমেইল ঠিকানা। লক্ষনীয় যে E-mail ঠিকানা @ চিহ্ন দ্বারা দুইভাগে বিভক্ত।প্রথমভাগে অর্থাৎ @ চিহ্নের আগের অংশে User name অর্থাৎ ব্যবহারকারীর ঠিকানা থাকে। E-mail ঠিকানায় @ চিহ্নের পরের অংশটি হলো Domain name। ডোমেইন নেইম (.) চিহ্ন দ্বারা কয়েকটি অংশে বিভক্ত হয়। @ চিহ্নের পরের শব্দটিকে হোস্ট মেশিনের নেম বলা হয়।উক্ত ঠিকানায় gmail হল হোস্ট মেশিনের নেম। ১৯৭২ সালে ইমেইল ঠিকানায় সর্বপ্রথম @ চিহ্ন ব্যবহৃত হয়।

ই-মেইল সার্ভার

ই-মেইল সার্ভার বা সংক্ষেপে মেইল সার্ভার হল নেটওয়ার্কের একটি কম্পিউটার যা ভার্চ্যুয়াল পোস্ট অফিস হিসেবে কাজ করে। মেইল সার্ভারে POP বা IMAP এবং STMP প্রোটোকল ব্যবহার করা হয়।

POP: POP এর পূর্ণরূপ হল Post office Protocal।ব্যবহারকারী যে সকল মেইল গ্রহণ করে বা তার কাছে আসে সেগুলোকে অর্ন্তমুখী বা ইনকামিং মেইল বলা হয়। মেইল সার্ভার থেকে ইনকামিং মেইল গ্রহণ করার জন্য সর্বাধিক জনপ্রিয় প্রোটোকল POP3।

SMTP SMTP এর পূর্ণরূপ হল Single Mail Transfer Protocol। যে সকল মেইল বাহিরে পাঠানো হয়, সেগুলোকে বর্হিমুখী বা আউটগোয়িং মেইল বলা হয়। আউটগোয়িং মেইল পাঠানোর জন্য এই প্রোটোকল ব্যবহার করা হয়।

ই-মেইল পাঠানো

Cc: এর ঘরে সে সমস্ত ঠিকানা টাইপ করতে হয় যাদের বরাবর প্রেরক ই-মেইল কপি পাঠাতে চায়।এখানে ই-মেইল ঠিকানাগুলো পরপর কমা দিয়ে টাইপ করতে হয়।  Cc দিয়ে Carbon Copy বুঝায়।

Bcc: এর ঘরে সে সমস্ত ঠিকানা টাইপ করতে হয় যাদেরকে প্রেরক ই-মেইল কপি পাঠাতে চায় কিন্তু প্রাপকদের জানাতে চায়না কাকে কাকে এর কপি পাঠানো হয়েছে। Cc এবং Bcc এর কাজ প্রায় একই রকম তবে Cc তে যাদের উল্লেখ থাকে ই-মেইলের প্রাপক ডকুমেন্টের শেষে তাদেরকে প্রত্যেকের ঠিকানা ছাপানো অবস্থায় দেখতে পায়।অর্থাৎ প্রাপক ই-মেইলটি পেয়ে বুঝতে পারে কাকে টাইপ করা কাকে এর কপি প্রেরণ করা হয়েছে। Bcc তে ঠিকানাগুলো ডকুমেন্টের সাথে যাবেনা। ফলে প্রপক জানতে পারবে না কাদেরকে ই-মেইলে কপি পাঠানো হয়েছে। Bcc হচ্ছে Blind carbon copy।

এটাচমেন্ট (Attachment)

এটাচমেন্ট ই-মেইল ম্যাসেজের অংশবিশেষ।একটি আলাদা ফাইল ইমেইলের সাথে সংযুক্ত করে পাঠানো হলে তাকে বলা হয় এটাচমেন্ট। এটাচমেন্ট ফাইল বিভিন্ন প্রকারের হতে পারে। যেমন- ওয়ার্ড ডকুমেন্ট, ওয়ার্কসিট, ছবি, পাওয়ারপয়েন্ট ফাইল ইত্যাদি।

Spam (স্প্যাম)

ভুয়া এবং অযাচিত মেইল এখানে জমা হয়।

ওয়েব মেইল (Web mail) বা ওয়েব বেজড মেইল (Web Based mail)

*জিমেইল Gmail

* ইয়াহুমেইল Yahoomail

* হটমেইল Hotmail

* এওএলমেইল AOLmail

 

ই-মেইল ব্যবহারের সুবিধা:

বাংলাদেশ থেকে যেখানে আন্তর্জাতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে টেলিফোন বা ফ্যাক্সে মিনিটে ৩০ টাকা খরচ হয় সেখানে ই-মেইল এ খরচ হয় নাম মাত্র মূল্যে। ইমেইল পাঠালে ঐ ঠিকানা এড্রেস বুকে সংরক্ষিত থাকে। পুনরায় ঠিকানা টাইপ করতে হয়না।এটি দ্রতুতর ও সাশ্রয়ী। Autoresponders দ্বারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ই-মেইল পাঠানো যায়।শুভেচ্ছা কার্ড, ছবি, নিজ পণ্যের ও সেবার বিজ্ঞাপনও প্রচার করা যায়।

 

অসুবিধাসমূহ: অনেক সময় ভাইরাস আক্রমণ করে যা কম্পিউটারের জন্য ক্ষতিকর।এছাড়াও অনাকাঙ্ক্ষিত স্প্যাম আসে যা চেক করা ও বাতিল করা সময় সাপেক্ষ। হ্যাকিংরে সম্ভবনা থাকে।

কিভাবে ই-মেইল চেক করা হয়:

ইমেইল পড়ার জন্য কাঙ্ক্ষিত ওয়েব পেইজে ঢুকে এবং সেখানে নির্দিষ্ট ঘরে আপনার ইউজার নেইম ও পাসওয়ার্ড লিখে লগ ইন বাটনে ক্লিক করে ঢুকতে হবে।ঢুকার পর ইনবক্সে ঢুকে দেখবেন যদি কোন মেইল আসে তবে তার উপর ক্লিক করলে অল্পক্ষনের মধ্যে তা মনিচরে দেখা যাবে।এভাবে ই-মেইল পড়া যায়।আর কোন ই-মেইল মুছতে গেলে ইনবক্সে ঢুকে যে মেইলটি ডিলেট করবেন তার উপর ক্লিক করলে পেইজের উপরে ঠুলবক্সে ডিলেট বাটন ক্লিক করলে তৎক্ষণাৎ তা মুছে যাবে।

 

ফ্যাক্স

ফ্যাক্স (Fax) একটি সংক্ষিপ্ত ইংরেজি শব্দ যার পূর্ণরূপ ফ্যাক্সিমিলি (Faximile)। ফ্যাক্স এমন একটি যন্ত্র যার দ্বারা লিখিত বক্তব্য একস্থান থেকে অন্য স্থানে পাঠানো যায়।গ্রাহক যন্ত্র এ বক্তব্য গ্রহণ করে করে পূর্্ৎ করে প্রিন্টারের সাহায্যে অবিকলভাবে প্রকাশ করে, মাইক্রোওয়েভ এবং স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সংবাদ আদান প্রদান করা হয়।

ছবি, ম্যাপ ইত্যাদি ফ্যাক্সে প্রেরন করা যায়। এছাড়াও টেলিফোন ও ফটোকপিও করা যায়।