কাজী নজরুল ইসলাম

Kazi Nazrul Islam

কাজী নজরুল ইসলাম

জন্মঃ বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম ১১ই জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ (২৪শে মে, ১৮৯৯ সালে) সালে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম ফকির আহমদ এবং মাতার নাম জাহেদা খাতুন।নজরুল ছিলেন তাদের ষষ্ঠ সন্তান। নজরুলের পিতা স্থানীয় একটি মাজারের খাদেম ছিলেন।নজরুলের ডাক নাম ‘দুখু মিয়া’।

জন্মস্থানঃ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহাকুমার চুরুলিয়া গ্রামে।

নজরুলের শিক্ষাজীবন

দশ বছর বয়সে গ্রামের মক্তব থেকে নিম্ন প্রাইমারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ (১৯০৯) হন। ১৯১৪ সালে আসানসোল রুটির দোকানে কাজ করা অবস্থায় আসানসোলের দারোগা কাজী রফিজউদ্দিন তাঁর গান শুনে মুগ্ধ হয়ে নিজের গ্রাম ময়মনসিংহের ত্রিশালের দরিরামপুর স্কুলে সপ্তম শ্রেণীতে ভর্তি করিয়ে দেন । ডিসেম্বরের বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হলে নজরুল সিমলা ত্যাগ করেন।পরে ১৯১৫ সালে পশ্চিমবঙ্গের রানিগঞ্জ শিয়ারশোল রাজস্কুলে অষ্টম শ্রেণীতে ভর্তি হন।এই স্কুল থেকে ১৯১৭ সালে দশম শ্রেণী প্রি-টেস্ট পরীক্ষার সময় লেখাপড়া অসমাপ্ত রেখে তিনি সেনাবাহিনীতে যোগ দেন।কাজী নজরুলে সাহিত্য জীবনের সূচনা হয় লেটোর দলে যোগদাসের মাধ্যমে।তিনি বারো বছর বয়সে লেটোর দলে যোগ দেন। লেটোর দলে তিনি ‘পালা গান’ রচনা করেন।

সৈনিক জীবন

১৯১৭ সালের শেষদিকে নজরুল সেনাবাহিনীতে যোগদেয়। এই সময়ের মধ্যে তিনি ৪৯ বেঙ্গল রেজিমেন্ট সৈনিক থেকে কোয়ার্টার মাস্টার হাবিলদার পর্যন্ত হন।তিনি করাচি সেনানিবাসে সৈনিক জীবন কাটান। সৈনিক থাকা অবস্থায় তিনি প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অংশ নেন। এ সময় তিনি ইরাক যাওয়ার কথা ছিল কিন্তু যুদ্ধ থেমে যাওয়ায় তার যাওয়া হয়নি। ১৯২০ সালে সৈনিক জীবন ছেড়ে কলকাতায় ফিরে আসেন।

সাংবাদিকতা

কাজী নজরুল ও কমরেড মুজফ্ফর আহমেদের যুগ্ন সম্পাদনায় ১৯২০ সালের ১২ জুলাই ‘দৈনিক নবযুগ’ সান্ধ্য পত্রিকা হিসাবে প্রকাশিত হয়। পত্রিকাটির প্রতিষ্ঠাকালীন সম্পাদক ছিলেন শেরে বাংলা একে ফজলুল হক। পত্রিকাটি বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। এটি পুনরায় ১৯৪০ সালের অক্টোবরে পনুঃপ্রকাশিত হলে নজরুল এককভাবে সম্পাদক হন। ১৯২২ সালের ১২ আগস্ট তারিখে কবি নজরুল ধুমকেতু পত্রিকাটি প্রকাশ করেন।এটি সপ্তাহে দুইবার প্রকাশিত হত।এই পত্রিকাকে আশীর্বাদ দিয়ে রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন-

“কাজী নজরুল ইসলাম কল্যাণীয়েষু, আয় চলে আয় ধূমকেতু

আধারে বাঁধ অগ্নিসেতু, দুর্দিনের এই দুর্গশিরে উড়িয়ে দে তোর বিজয় কেতন।”

পত্রিকার প্রথম পাতার উপরে এই বাণী লেখা হত। ধূমকেতুর ১৯২২ সালের ২৬ সেপ্টেম্বরের পূজার সংখ্যায় ‘আনন্দময়ী আগমনে’ কবিতা প্রকাশিত হয়। এই রাজনৈতিক কবিতা প্রকাশের পর উক্ত সংখ্যা নিষিদ্ধ করা হয়।একই বছরের ২৩ নভেম্বর ‘যুগবাণী’ বাজেয়াপ্ত করা হয় এবং কুমিল্লা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

১৯২৩ সালের ১৬ জানুয়ারী বিচারের পর নজরুলকে ১ বছরের সশ্রম কারাদন্ড দেওয়া হয়। তাঁর বন্দী অবস্থায় রবীন্দ্রনাথ তাঁর ‘বসন্ত’ গীতিনাট্যটি নজরুলকে উৎসর্গ করেন। এই খুশিতে নজরুল ‘সৃষ্টি সুখের উল্লাসে’ কবিতাটি রচনা করেন।

হুগলির জেলের কর্মকর্তাদের অন্যায় আচরণের বিরুদ্ধে নজরুল অনশন করলে রবীন্দ্রনাথ নজরুলের অনশন ভাঙ্গাতে যে পত্র লিখে পাঠান তাতে লেখা ছিলো – ‘Give up hunger strike.Our literature claims you.’

নজরুল ১৯২৩ সালের ১৫ অক্টোবর জেল থেকে মুক্তি পান।’

নজরুল সম্পাদিত নাঙ্গল পত্রিকা প্রকাশিত হয় ১৯২৫ সালে।

বৈবাহিক জীবন

আশালতা সেনগুপ্তের সাথে নজরুলের বিয়ে হয় ১৯২৪ সালের ২৪ এপ্রিল।বিয়ের পর নজরুল তাঁর নাম পরিবর্তন করে নতুন নাম দেন ‘প্রমীলা’। তিনি আশালতাকে আদর করে দোলন ও দুলু বলতেন।আশালতার ডাক নাম দুলি। আশালতাকে কেন্দ্র করে তাঁর দোলন-চাঁপা কাব্য লেখা। তাদের দুই পুত্র হয়। তাদের নাম যথাক্রমে কৃষ্ণ মোহাম্মদ ও অরিন্দম খালেদ।

অসুস্থতাঃ ১৯৪২ সালের ১০ অক্টোবর তিনি ‘পিকস্ ডিজিজ’ নামক মস্তিস্কের রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি তার বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেন।

পুরস্কার

১৮৪৫ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কবিকে ‘জগত্তারিণী’ স্বর্ণপদক প্রদান করেন।১৯৬০ সালে ভারত সরকার তাঁকে ‘পদ্মভূষণ’ পদক প্রদান করেন।১৯৬৯ সালে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় এবং ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাকে ‘ডি লিট’ পদক প্রদান করেন।১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে সাহিত্যে একুশে পুরস্কার প্রদান করা হয়।

বাংলাদেশে আগমন ও মৃত্যুঃ কাজী নজরুল মোট ১৩ বার ঢাকায় এবং ৫ বার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আসেন।তিনি ১৯২৬ সালের জুন মাসের শেষ সপ্তাহে প্রথম ঢাকায় আসেন অবিভক্ত বঙ্গের স্বদেশি নেতা হেমন্তকুমার সরকারের সাথে। তাঁর আগমনের উদ্দেশ্য ছিল বেড়ানো।এ সময় তিনি ঢাকার কাছারির নিকটবর্তী মোহিনীমোহন দাসের বাড়িতে আতিথ্য গ্রহন করেন।দ্বিতীয়বার ঢাকায় আসেন একই বছরের অক্টোবর মাসে। এই আগমনের উদ্দেশ্য নির্বাচনী প্রচারণা।তিনি ঢাকা বিভাগের মুসলিম কেন্দ্র থেকে ব্যবস্থাপক সভার সদস্য পদপ্রার্থী হন।নজরুল প্রথম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন ১৯২৬ সালের ২৭শে জুন।তিনি মুসলিত সাহিত্য সমাজের চতুর্থ বৈঠকে অংশগ্রহনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন।এই বৈঠকটি হয় সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে।  ১৯২৭ সালের ২৮ শে ফেব্রুয়ারী সাহিত্য সমাজের প্রথম বার্ষিকী সম্মেলনে যোগ দেওয়ার উদ্দ্যেশে ২য় বার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন। একই উদ্দেশ্যে ৩য় বারও বিশ্বদ্যিালয়ে আসেন।সেবারও সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে সম্মেলন হয়।সুস্থ অবস্থায় সর্বশেষ বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন ১৯৪০ সালের ১২ সেপ্টেম্বর।১৯৭২ সালের ২৪ মে ভারতী সরকারের অনুমতিক্রমে ভারত থেকে বাংলাদেশে স্থায়ীভাবে তাকে আনা হয়ে এবং জাতীয় কবির মর্যাদা দেওয়া হয়।১৯৭৪ সালের এক সংবর্ধনায় তাকে জাতীয় কবি ঘোষনা করা হয়।

১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে তাকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেওয়া হয়।

১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট (বাংলা ১২ ভাদ্র, ১৩৮৩) তিনি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহী মসজিদ প্রাঙ্গনে তাকে কবর দেওয়া হয়।

কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন কল্লোল যুগের একজন বিখ্যাত কবি। নজরুলের ছদ্মনাম ‘ধূমকেতু’।নজরুলের ৫টি গ্রন্থ (যুগবানী, ভাঙ্গার গান, প্রলয়-শিক্ষা, চন্দ্রবিন্দু, বিষের বাশিঁ) সরকার কর্তৃক বাজেয়াপ্ত হয়। ‘কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়’ নামে কবির স্মৃতি বিজড়িত ময়মনসিংহে ত্রিশালে একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। ২০০৫ সালের ১২ জুন ঢাকায় প্রথম আন্তর্জাতিক নজরুল সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

কবি নজরুল বাংলাদেশের রণসঙ্গীতের রচয়িতা । মূল কবিতাটি ২১ চরণের। ‘নতুনের গান’ শিরোনামে ঢাকার ‘শিখা’ পত্রিকায় ১৯২৮ (বাংলা ১৩৩৫) বার্ষিক সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। পরে ‘চল চল চল’ নামকরণ করা হয়।এটি ‘সন্ধা’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভক্ত।

কাব্যগ্রন্থ

কাজী নজরুলের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থগুলো – অগ্নিবীণা(১৯২২),মরুভাস্কর, বিষের বাঁশি(১৯২৪), সাম্যবাদী(১৯২৫), সঞ্চিতা, ভাঙার গান, সন্ধ্যা, সর্বহারা, ফণি-মনসা, জিঞ্জির, প্রলয় শিখা, চিত্তনামা, দোলন চাঁপা, সিন্ধু-হিন্দোল, চন্দ্রবিন্দু, ছায়ানট, ঝিঙেফুল, পুবের হাওয়া, চক্রবাক, নতুন চাঁদ (শেষ কাব্য)

অগ্নিবীণা: কাজী নজরুলে প্রকাশিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ।আর প্রকাশিত গ্রন্থ হিসেবে এটি দ্বিতীয়। কাব্যগ্রন্থটি তিনি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেন।এতে মোট ১২টি কবিতা আছে।কবিতাগুলো- প্রলয়োল্লাস, বিদ্রোহী, রক্তম্বরধারিণী মা, আগমণী, ধূমকেতু, কামালপাশা, আনোয়ার, রণভেরী, শাত-আল-আরব, খেয়াপারের তরণী, কোরবানী এবং মোহররম।

এই কাব্যের অন্যতম ও জনপ্রিয় কবিতা ‘বিদ্রোহী’।এই কবিতার জন্য তাকে বিদ্রোহী কবি উপাধি দেওয়া হয়।‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি ১৯২২ সালে ‘সাপ্তাহিক বিজলী’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

ঢাকার নবাব পরিবারের একজন মহিলা ‘সওগাত’ পত্রিকায় একটি ছবি পাঠিয়েছিলেন। ছবিতে ছিল ঝঞ্ঝাবিক্ষুদ্ধ উত্তাল সাগরে একটি পালতোলা নৌকা নির্ভীকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে –যার দাঁড়ে ইসলামের চার খলিফা এবং হালের বৈঠায় হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর নাম লেখা ও পালে ‘সাফায়েত’ লেখা। এই ছবি কবি ‘খেয়াপারের তরণী’ কবিতা রচনা করেন।

মরুভাস্কর: হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর জীবনী কাব্য এটি।১৩৩৭ বঙ্গাব্দে এটি রচিত হয়। ১৮ টি কবিতা এতে স্থান পেয়েছেন।

সঞ্চিতা: কবি নজরুল ইসলাম ‘সঞ্চিতা’ গ্রন্থটি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করেন।এতে তাঁর ৭৮টি কবিতা ও গান স্থান পেয়েছে। জীবিত অবস্থায় কবি নজরুল এগুলোকে তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্যসৃষ্টি বলে উল্লেখ করেন।

চিত্তনামা: এটি দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের জীবনীভিত্তিক কাব্য।এটি তিনি উৎসর্গ করেন চিত্তরঞ্জন দাশের স্ত্রী বাসন্তী দেবীকে।নজরুল তাকে মা বলে ডাকতেন।

ভাঙার গান: ১৯২৪ সালে এটি প্রকাশিত হয়। একই বছর ১১ই নভেম্বর বইটি নিষিদ্ধ করে।এতে ১১ টি কবিতা আছে।

বিষের বাশি: ১৯২৪ সালের আগস্ট মাসে কবি নিজেই এটি প্রকাশ করেন।এটি নজরুলের প্রথম নিষিদ্ধকৃত গ্রন্থ। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয় ১৯৪৫ সালে।

দোলন চাঁপা: ১৯২৩ সালের অক্টোবরে এটি প্রকাশিত হয়।এটি একটি প্রেমের কাব্য।এর প্রথম কবিতা ‘আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে’।এর উল্লেখযোগ্য অন্য কবিতাগুলো- পূজারিণী, কবি-রানী।

সিন্দু-হিন্দোল: এটি একটি প্রেমের কাব্য।এটি ১৯২৭ সালে প্রকাশিত হয়। এতে মোট ১৯টি কবিতা আছে।এর উল্লেখযোগ্য কবিতা হলো- সিন্দু, দারিদ্য, অভিযান।

সন্ধ্যা: এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়। এতে মোট ২৪টি কবিতা রয়েছে। উল্লেখযোগ্য কবিতা হলো-চল্ চল্ চল্, গাহি তাহাদের গান, জীবন বন্দনা।

চন্দ্রবিন্দু: এটি একটি হাসি ও ব্যঙ্গের কাব্য।

সাম্যবাদী: উল্লেখযোগ্য কবিতা হলো-নারী, মানুষ

 

কবিতা

মুক্তি: কবির প্রকাশিত প্রথম কবিতা এটি। ১৩২৬ বঙ্গাব্দে ‘বঙ্গীয় মুসলিম পত্রিকায়’ এই কবিতাটি প্রকাশিত হয়।

সাম্যবাদী: এটি ‘লাঙ্গল’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।‘সাম্যবাদী’ গ্রন্থের প্রথম কবিতা এটি।

কান্ডারী হুশিয়ার: ‘সর্বহারা’ কাব্যগ্রন্থের অর্ন্তভুক্তি একটি কবিতা কান্ডারী হুশিয়ার।

আনন্দময়ীর আগমনে: এই কবিতার জন্য কাজী নজরুল ইসলামকে একবছরের কারাদন্ড দেওয়া হয়।এটি ধূমকেতু পত্রিকায় ২২ সেপ্টেম্বর, ১৯২৩ সালে প্রকাশিত হয়।

*বাতায়ন পাশে গুবাক তরুর সারি: গুবাক মানে সুপারি।

তার অন্যান্য কবখ্যাত কবিতা গুলো হলো: তোষামোদে, সংকল্প, অগ্রপথিক(জিঞ্জির), সব্যসাচী(ফনি-মনসা), যৌবনের গান(দুর্দিনের যাত্রী)।

 

উপন্যাস

কাজী নজরুল ইসলামের উপন্যাস তিনটি। এগুলো হল: বাঁধনহারা, মৃত্যুক্ষুধা ও কুহেলিকা।

 

বাঁধনহারা(১৯২৭): কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রথম উপন্যাস ‘বাঁধনহারা’। এটি বাংলা সাহিত্যে প্রথম পত্রোপন্যাস। এর পত্র সংখ্যা ১৮টি।‘মোসলেম ভারতে’ পত্রিকায় এটি প্রথম প্রকাশিত হয়।প্রধান চরিত্র: নুরু, মাহবুবা, রাবেয়া, সাহসিকা।

মৃত্যুক্ষুধা(১৯৩১): এটি সওগাত পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। এই উপন্যাসে ময়মনসিংহের ত্রিশাল গ্রামের সাধারণ মানুষের জীবনচিত্র ফুটে উঠেছে। উপন্যাসটিতে দারিদ্র্য, ক্ষুধা ও দুর্ভিক্ষের পাশাপাশি সমাজের নিগৃহীত মহিলাদের কাহিনী চিত্রিত হয়েছে।

কুহেলিকা (১৯৩১): এটি ‘নওরোজ’ পত্রিকায় প্রকাশ শুরু হয়। এটি একটি রাজনৈতিক উপন্যাস।প্রধান –জাহাঙ্গীর, তাহমিনা(ভূণী), চম্পা, ফিরদৌস বেগম।

গল্পগ্রন্থ

নজরুলের বিখ্যাত গল্পগ্রন্থ হল – ব্যথার দান, রিক্তের বেদন ও শিউলিমালা।

ব্যথার দান: এটি নজরুলের প্রকাশিত প্রথম গ্রন্থ। এতে মোট ৬টি গল্প।গল্পগুলো- ব্যথার দান, হেনা, অতৃপ্ত কামনা, বাদল-বরিষণে, ঘুমের ঘোরে, রাজবন্দীর চিঠি।

রিক্তের বেদন: ১৯২৪ সালে প্রকাশিত নজরুলে দ্বিতীয় প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ।এর অন্তর্ভুক্ত গল্পগুলো হলো-বাউন্ডেলের আত্মকাহিনী(কবির প্রকাশিত প্রথম লেখা। এটি ১৯১৯ সালের মে মাসে ‘সওগাত’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।), মেহের নেগার, সাঁজের তারা, রাক্ষুসী, সালেক, স্বামীহারা, দুরন্ত পথিক।

শিউলিমালা: এটি ১৯৩১ সালে প্রকাশিত হয়।গল্পগুলো-পদ্ম-গোখরো, জিনের বাদশা, অগ্নি-গিরি, শিউলিমালা।

প্রবন্ধগ্রন্থ

তার গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধগুলো: রজাবন্দীর জবানবন্দী, যুগবাণী(প্রথম), রুদ্রমঙ্গল, দুর্দিনের যাত্রী, মন্দির ও মসজিদ, আমি সৈনিক।

রাজবন্দীর জবানবন্দী:নজরুল সম্পাদিত অর্ধ সাপ্তাহিক ‘ধূমকেতু’ ব্রিটিশ সরকার নিষিদ্ধ করে। সেই পত্রিকায় ‘আনন্দময়ীর আগমনে’ও নিষিদ্ধ হয় এবং তাকে আটক করা হয়।পরে তাঁর বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি লিখিতভাবে আদালতের কাছে মাত্র চার পৃষ্ঠার বক্তব্য পেশ করেন।১৯২৩ সালে প্রেসিডেন্সি জেলে তিনি রচনা করেন। পরে এটি ধূমকেতু, প্রবর্তক, উপাসনা পত্রিকায় ১৯২৩ সালেই প্রকাশিত হয়।

 

সংগীতগ্রন্থ: চোখের চাতক, রাঙাজবা, বুলবুল, গানের মালা, বনগীতি, নজরুল গীতিকা, গানের মালা, গুলবাগিচা, সুর সাকী।

 

চলচ্চিত্র

কাজী নজরুলের চলচ্চিত্রের জীবন শুরু হয় ১৯৩১ সালে পাইওনিয়ার ফিল্ম কোম্পানিতে যোগদানের মাধ্যমে।নজরুল হলে প্রথম বাঙ্গালি মুসলিম চলচ্চিত্রকার।তিনি যে সব চলচ্চিত্রে কাজ করেন সেগুলো হল- বাংলাঃ ধ্রুব, পাতালপুরী, গ্রহের ফের, বিদ্যাপতি, গোরা, সাপুড়ে, চৌরঙ্গী, দিকশূল, অভিনয় নয়

হিন্দি: বিদ্যাপতি, সাপেড়া, চৌরঙ্গী।

নজরুল পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘ধূপছায়া’।

ধ্রুব চলচ্চিতত্রে কাজী নজরুল পরিচালনার পাশাপাশি অভিনয় করেন।এতে তার চরিত্র ছিল নার।

নজরুলের দুটি কাব্য নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মিত হয়। এগুলো হল- ‘খুকু ও কাঠবিড়ালী’ এবং ‘লিচুচোর’।

কাজী নজরুলকে নিয়ে নির্মিত কানাডায় যে চলচ্চিত্র নির্মিত হয় তার নাম ‘নজরুল’ এর এর পরিচালক ছিলেন ফিলিপ স্পারেল।

অন্যান্য:

রুবাইয়াৎ-ই-হাফিজ: এটি নজরুলের অনুবাদ গ্রন্থ।ইরানের জীবনবাদী কবি ওমর খৈয়ামের রুবাই বা কবিতা অনুবাদ করেন তিনি।এর ভূমিকায় লেখেন সৈয়দ মুজতবা আলী।

 

নাটক: ঝিলিমিলি গ্রন্থটি নজরুলের তিনটি ছোট নাটকের সন্নিবেশ।নাটকগুলো – ঝিলিমিলি, সেতুবন্ধন ও শিল্পী।

  • নজরুল রাজনীতিতে যোগ দেন ১৯২৫ সালে ফরিদপুরে কংগ্রেসের প্রাদেশিক সম্মেলনে।
  • ১৯২৯ সালের ১৫ই ডিসেম্বর কলকাতার অ্যালবার্ট হলে তাকে জাতীয় সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
  • নজরুলের প্রকাশিত প্রথম গ্রন্থ বা গল্পগ্রন্থ ‘ব্যথার দান’।
  • নজরুলের প্রথম প্রকাশিত রচনা হল ‘বাইন্ডেলের আত্মকাহিনী’।
  • অগ্নীবীণার প্রথম কবিতা প্রলয়োল্লাস।
  • লিচুচোর কবিতাটি কুমিল্লার পুস্তক প্রকাশক ও ব্যবসায়ী আলী আকবরের আগ্রহে কবি নজরুল লিখেন।

 

নজরুলের বিখ্যাত উক্তি:

১.আমি চিরদুর্দম, দুর্বিনীত নৃশংস,

  মহা-প্রলয়ের আমি নটরাজ, আমি সাইক্লোন, আমি ধ্বংস।

২. মম একহাতে বাঁকা বাঁশের বাশঁরী, আর হাতে রণতূর্য

৩. আমি বেদুইন, আমি চেঙ্গিস

   আমি আপনারে ছাড়া করিনা কাহারে কুর্নিশ।(বিদ্রোহী)

৪.যাত্রীরা রাত্রিরে হতে এল খেয়া পার

  বাজ্রেরি তুর্যে এ গর্জেছে কে আবার?