কৃষিজ সম্পদ

  1. যে সকল কৃষকের নিজেদের জমির পরিমাণ ১ একরের নীচে তাদেরকে ভূমিহীন কৃষক বা চাষী বলে।

  2. ফসল উৎপাদনের জন্য পুরো বছরকে ২ টি মৌসুমে বিভক্ত করা হয়েছে। যথাঃ রবি মৌসুম ও খরিপ মৌসুম।

রবি মৌসুমঃ

         আশ্বিন মাস থেকে ফাল্গুন মাস পর্যন্ত সময়কে রবি মৌসুম বলে। রবি শস্য মূলত শীতকালীন শস্য বা ফসল হিসেবে পরিচিত।

খরিপ মৌসুমঃ

         খরিপ মৌসুমকে দুইভাগে ভাগ করা হয়।

        ক) খরিপ- ১: চৈত্র মাস থেকে জৈষ্ঠ মাস পর্যন্ত সময়কে খরিপ-১ বলা হয়। এইসময়কে গ্রীষ্মকালও বলা হয়।

        খ) খরিপ-২ঃ আষাঢ় মাস থেকে ভাদ্র পর্যন্ত সময়কে খরিপ-২ বলে। এই সময় বর্ষাকাল ।

জুম চাষ

জুম চাষ পাহাড়ি এলাকায় প্রচলিত একধরনের কৃষিপদ্ধতি বা চাষাবাদ। এই চাষাবাদ একধরনের কৃষি অর্থনীতি। ‘জুম চাষ’ এক ধরনের স্থানান্তরিত কৃষি পদ্ধতি। এই চাষ পদ্ধতিতে বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামে চাষাবাদ করা হয়।

  • জিডিপিতে কৃষিখাতের অবদান ১৪.৭৯%

 

বাংলাদেশের কৃষিশুমারি

সময়কাল বৈশিষ্ট্য
১৯৬০ প্রথম কৃষিশুমারী
১৯৭৭ স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম কৃষিশুমারী
১৯৮৬ দ্বিতীয় কৃষিশুমারী
১৯৯৭ তৃতীয় কৃষিশুমারী
২০০৮ চর্তুথ ও সর্বশেষ এবং দেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ কৃষিশুমারী যা শহর ও গ্রাম একযোগে অনুষ্ঠিত হয়।

খাদ্যশস্য

বাংলাদেশে উৎপাদিত খাদ্যশস্যের মধ্যে ধান, গম, ডাল, তেলবীজ, ভুট্টা, যব এবং নানা রকমের মসলা প্রধান।

ধান

ধান বাংলাদেশের প্রধান খাদ্য শস্য।বর্তমানে বাংলাদেশ ধান উৎপাদনে চতুর্থ। ধান উৎপাদনে ও আমদানিতে চীন প্রথম।রপ্তানিতে থাইল্যান্ড প্রথম।বাংলাদেশে উৎপাদিত ধানকে প্রধানত আউশ, আমন ও বোরো এই তিন ভাগে ভাগ করা হয়।বাংলাদেশের প্রধান ধান হচ্ছে বোরো। এটি বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি উৎপন্ন হয় এটি শীত কালে চাষ করা হয়। আউশ ধামন উচু জমিতে, আমন ধান অপেক্ষাকৃত নিচু জমিতে এবং বোরো ধান শীতকালীন ফসল হিসেবে বিভিন্ন নিচু জলাশয়, বিল, হাওড় সহ অন্যান্য জমিতে উৎপাদিত হয়। আমন ধান অগ্রাহয়ন-পৌষ মাসে উঠে।বাংলাদেশে সর্বপ্রথম ইরি-৮ জাতের উফশি ধান আমদানি করা হয় যা এখনো এদেশে চালু রয়েছে।উত্তর বঙ্গে মঙ্গা পীড়িত এলাকার জন্য উপযোগী ধান বি-৩৩। মঙ্গার সময় হচ্ছে ভাদ্র – কার্তিক মাস। বাংলাদেশের পরমাণু কৃষি গভেষনা ইনস্টিটিউট কর্তৃক উদ্ভাবিত লবনাক্ত সহিষ্ণু ধান বিনা- ৮। একটি দেশজ নতুন জাতের ধান হলো হরিধান।এই উচ্চ ফলনশীল ধানের আবিষ্কারক নড়াইলের হরিপদ কাপালী। নারিকা- ১ হলো উগান্ডা থেকে আনা একধরনের খরা সহিষ্ণু ধান।উৎকৃষ্ট মানের ধান হিসেবে বরিশাল ও পটুয়াখালীতে বালাম, দিনাজপুরের বিখ্যাত কাটারীভোগ, নোয়াখালী ও কুমিল্লা অঞ্চলের কালিজিরা ও চিনিগুড়া উল্লেখযোগ্য।

পূর্বাচী ধান আনা হয় গণচীন থেকে।

‘ব্রিশাইল’ (বি আর ৪) ও ‘ ইরাটম’ উন্নত জাতের ধান। বাংলামতি সুগন্ধি ধান।এছাড়াও অন্যান্য ধানের জাত গুলো হলো সোনার বাংলা -১, সুপার রাইচ, হাইব্রীড হীরা, মালাইকারি ইত্যাদি।অঘিনিবোরা চাল পানিতে ভেজালেই পাওয়া যাবে ভাত।

  • বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি ধান হয় ময়মনসিংহে।
  • সবচেয়ে বেশি চিনি কল নওগাঁতে।
  • ধান গভেষনা ইনস্টিটিউট (BRRI/বিরি) জয়দেবপুর, গাজিপুর।
  • আর্ন্তজাতিক ধান গভেষনা ইনস্টিটিউট (IRRI) অবস্থিত ম্যানিলা, ফিলিপাইন।
  • ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৩৪৮.১৮ লক্ষ মেট্রিক টন ধান উৎপাদিত হয়।
  • নবান্নের পহেলা অগ্রহায়ন বা ১৫ নভেম্বরকে ‘জাতীয় কৃষি দিবস হিসেবে পালন করা হয়।

গম

২০১৬-১৭ অর্থবছরে দেশে উৎপাদিত গমের পরিমাণ ১৪.৩১ লাখ মে. টন। বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি গম উৎপাদিত হয়। গম গভেষনা কেন্দ্র অবস্থিত নশিপুর, দিনাজপুর ।

গমের জাত – অগ্রনী, সোনালিকা, বলাকা, দোয়েল, আনন্দ, আকবর, কাঞ্চন, বরকত, জোপাটিবাদ, ইনিয়া ৬৬।

গম উৎপাদনে শীর্ষ দেশ চিন।

গম রপ্তানিতে শীর্ষ দেশ যুক্তরাষ্ট্র ।

গম আমদানিতে শীর্ষ দেশ মিসর।

ভুট্টা

২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৩৪.৩৯ লক্ষ মেট্রিক টন ভুট্টা উৎপাদিত হয়।

বর্ণালী ও শুভ্র উন্নত জাতের ভুট্টা। উত্তরণ ব্র্যাক কর্তৃক উদ্ভাবিত ভুট্টার জাত।

আলু

স্প্যানিশ ‘ patata’ শব্দ হতে ইংরেজী ‘Potato’ শব্দ এসেছে।আলু বাংলাদেশের অন্যতম অর্থকরী ফসল। নেদারল্যান্ড থেকে প্রথম আলু বাংলাদেশে আনা হয়।বিশ্বে আলু কন্দাল জাতীয় ফসল। বাংলাদেশের মুন্সিগঞ্জ জেলাতে সবচেয়ে বেশি আলু উৎপাদিত হয়।আলু উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে ৮ম আর এশিয়াতে ৩য়।

আলুর জাতঃ ডায়মন্ড, কার্ডিনেল, কুফরী, সিন্দুরী।

আম:

আম গাছ আমাদের জাতীয় গাছ। আম গবেষনা কেন্দ্র চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

আমের জাতঃ মহানন্দা, মোহনভোগ, লেংড়া, গোপালভোগ।

অর্থকরী ফসল

যে সকল ফসল সরাসরি বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে চাষ করা হয় তাদের অর্থকরী ফসল বলে।

অর্থকরী ফসলের মধ্যে পাট, চা, আখ, তামাক, রেশম, রাবার ও তুলা প্রধান।

পাট

পাট বাংলাদেশের প্রধান অর্থকরী ফসল।বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে পাটকে ‘ সোনালী আঁশ’ বলা হয়। পাট উৎপাদনে বাংলাদেশ ২য় তবে রপ্তানিতে ১ম। পাট উৎপাদনে ভারত প্রথম। বাংলাদেশের মোট আবাদি জমির শতকরা ১০ ভাগ জমিতে পাট চাষ করা হয়।পাট গভেষনা ইনস্টিটিউট ১৯৫১ সালে ঢাকার শেরে বাংলা নগরে স্থাপিত হয়। পাট গভেষনা বোর্ড মানিকগঞ্জে অবস্থিত। পাটকে তিনটি শ্রেনিতে বিভক্ত করা হয়।যথাঃ সাদা, তোষা, মেছতা। তোষা পাট হতে উন্নত মানের আঁশ পাওয়া যায়। একটি কাঁচা পাটের গাঁইটের ওজন ৪.৫ মণ। পাট পচানোর পদ্ধতিকে বলা হয় রিবন রেটিং। পানির অভাবে যেসব এলাকায় উৎপাদিত পাট পচানোর সমস্যা হয় সেসব এলাকার চাষী ভাইদের জন্য পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানিরা রিবন রেটিং (পাটের ছালকরণ) পদ্ধতি  উদ্ভাবন করেছে। পাটবলয় হলো ময়মনসিংহ – টাঙ্গাইল – জামালগঞ্জ – কিশোরগঞ্জ – ঢাকা – কুমিল্লা।

২০১০ সালে বাংলাদেশের বিজ্ঞানী ড. মাকসুদুল আলম পাটের জীবন রহস্য উন্মোচন করেন। তিনি পাট, ভুট্টা, তুলা, সয়াবিনসহ ৫০০ টি উদ্ভিদের ক্ষতিকারক ছত্রাকের জীবনরহস্য উন্মোচন করেন। পাট বীজ ফেব্রুয়ারি – এপ্রিলে বপন করা হয় এবং জুন- সেপ্টেম্বরে কাটা হয়। সবচেয়ে বড় পাট কল আদমজী পাটকল। এটি নারায়নগঞ্জে অবস্থিত এবং ২০০২ সালের ৩০ জুন বন্ধ করে দেয়া হয়।

বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলাতে সবচেয়ে বেশি পাট হয়। শ্রেষ্ঠ পাটবলয় অঞ্চল ময়মনসিংহ -ঢাকা- কুমিল্লা।

IJSG – International Jute Study Group

জুটন

পাট ও তুলার সংমিশ্রনে এক ধরনের কাপড় হলো জুটন। এতে ৭০ ভাগ পাট ও ৩০ ভাগ তুলা ব্যবহার করা হয়। ড. মোহাম্মদ সিদ্দিকুল্লাহ জুটন আবিষ্কার করেন।

চা

চা বাংলাদেশের দ্বিতীয় প্রধান অর্থকরী ফসল। চা এর আদিবাস চীনে। বাংলাদেশে প্রথম চা চাষ আরম্ভ হয় ১৮৪০ সালে চট্টগ্রামের ক্লাব এলাকায়। প্রথম বানিজ্যিকভাবে চায়ের চাষ শুরু হয় ১৮৫৭ সালে সিলেটের মালনিছড়ায়। সিলেটে প্রচুর চা জন্মাবার কারন হলো পাহাড় ও প্রচুর বৃষ্টি। চা চাষের জন্য উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ু ( ১৬-১৭ ডিগ্রি সে তাপমাত্রা ) এবং ২৫০ সে.মি. বৃষ্টিপাত এবং আবাদি এলাকায় ৪০% ছায়ার প্রয়োজন।  

বাংলাদেশে প্রথম অর্গানিক চা চাষ উৎপাদন শুরু হয়েছে পঞ্চগড় জেলাতে। বর্তমানে দেশে ১৬৬ টি চা বাগান রয়েছে। সবচেয়ে বেশি চা বাগান রয়েছে মৌলভীবাজার জেলাতে । চা গভেষনা কেন্দ্র অবস্থিত মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলে। টি মিউজিয়াম বা চা যাদুঘরও শ্রীমঙ্গলে। একমাত্র চায়ের নিলামঘর অবস্থিত চট্টগ্রামে।

অন্যান্য:

  • যশোর তুলা চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী। রুপালী ও ডেলফোজ তুলার জাত।
  • অধিক বৃষ্টিপাতযুক্ত অঞ্চল চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সিলেটে রাবার উৎপন্ন হয়।১৯৬১ সালে কক্সবাজারের রামুতে প্রথম দেশের রাবান বাগান হয়।
  • রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুর ও বগুড়ায় অঞ্চলে রেশম চাষ হয়। রেশম পোকা বা মথ তুঁত গাছের পাতা খেয়ে বেঁচে থাকে। রেশম গভেষনা কেন্দ্র রাজশাহীতে অবস্থিত।
  • যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালীকে ফুলের রাজধানী বলা হয়।
  • পাহাড়ি এলাকায় সাধারণত টুরেসিং বা কন্টুর পদ্ধতিতে আনারস চাষ হয়। আনারস চাষের ফলে ভূমিক্ষয় বেশি হয়।

 

কৃষি তথ্য:

                           ফসল বর্ণনা
                           ধান ধান উৎপাদনের পৃথিবীতে বাংলাদেশের স্থান ৪র্থ।
নওগাঁ জেলায় সবচেয়ে বেশি চালকল রয়েছে।
গম বাংলাদেশের রংপুরে সবচেয়ে বেশি গম উৎপাদিত হয়।
আলু আলু উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে ৮ম এবং এশিয়া মহাদেশে তৃতীয়।
মুন্সিগঞ্জ জেলাতে আলু সবচেয়ে বেশি উৎপাদন বেশি হয়।
পাট পাট উৎপাদনে শীর্ষ দেশ ভারত। ২য় বাংলাদেশ।
বর্তমানে সবচেয়ে বেশি পাট উৎপাদিত হয় ফরিদপুর জেলাতে। পাট রপ্তানিতে বাংলাদেশ বিশ্বে প্রথম।যুক্তরা্ষ্ট্র বাংলাদেশ হতে সবচেয়ে বেশি পাটজাত দ্রব্য আমদানি করে।
রাবার বাংলাদেশে মোট ১৮ টি রাবার বাগান আছে বনশিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশনের অধীনে।
রেশম বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি রেশম গুটির চাষ হয় চাপাঁইনবাবগঞ্জে।
   বিটি বেগুন সম্প্রতি জেনেটিক্যালি মোডিফাইড শস্য বিটি বেগুন নিয়ে বাংলাদেশে বির্তক হচ্ছে।
                            তুলা   যশোরে সবচেয়ে বেশি তুলা চাষ হয়।

বাংলাদেশের কৃষি বিষয়ক প্রতিষ্ঠান

 

প্রতিষ্ঠানের নাম

অবস্থান

বাংলাদেশ কৃষি গভেষণা ইনস্টিটিউট

জয়দেবপুর, গাজীপুর

বাংলাদেশ ধান গভেষণা ইনস্টিটিউট জয়দেবপুর, গাজীপুর
বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গভেষণা ইনস্টিটিউট ময়মনসিংহ
বাংলাদেশ পাট গভেষণা ইনস্টিটিউট মানিক মিয়া এভিনিউ, ঢাকা
বাংলাদেশ ইক্ষু গভেষণা ইনস্টিটিউট ঈশ্বরদী, পাবনা
বাংলাদেশ চা গভেষণা ইনস্টিটিউট শ্রীমঙ্গল, সিলেট
বাংলাদেশ পশু গভেষণা ইনস্টিটিউট সাভার, ঢাকা
বাংলাদেশ রেশম গভেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট রাজশাহী
বাংলাদেশ চামড়া গভেষণা ইনস্টিটিউট সাভার, ঢাকা
বাংলাদেশ মৌমাছি গভেষণা ইনস্টিটিউট ঢাকা
বাংলাদেশ আম গভেষণা ইনস্টিটিউট চাপাইনবাবগঞ্জ
বাংলাদেশ গম গভেষণা ইনস্টিটিউট নশিপুর,দিনাজপুর
বাংলাদেশ মসলা গভেষণা ইনস্টিটিউট শিবগঞ্জ, বগুড়া
বাংলাদেশ ডাল গভেষণা ইনস্টিটিউট ইশ্বরদী, পাবনা
মৃত্তিকা গভেষণা ইনস্টিটিউট ফার্মগেট, ঢাকা
বাংলাদেশ রাবার র্বোড চান্দগাঁও, চট্টগ্রাম

উন্নত ফসলের জাত

ফসলের নাম

ফসলের জাত

ধান

ইরাটম, ব্রিশাইল, সোনার বাংলা-১, সুপার রাইস, হাইব্রীড হীরা, ময়না, হরিধান, মালাইরি, নারিকা-১, চান্দিনা, বিপ্লব,  ব্রি বালাম, রহমত, গাজী, দিশারী, হাসি, মঙ্গল,  মোহিনী,  নিজামী, প্রগতি, সুফলা, আশা, দুলাভোগ।

গম

অগ্রনী, সোনালিকা, বলাকা, দোয়েল, আনন্দ, আকবর, কানঞ্চ, বরকত, সুফী, বিজয়, প্রদীপ 

ভুট্টা

উত্তরণ (ব্রাক উদ্ভাবিত), বর্ণালী, শুভ্র, মোহর

সরিষা

সফল, অগ্রণী

তুলা

রূপালী ও ডেলফোজ

তামাক

সুমাত্রা ও ম্যানিলা

মরিচ

যমুনা

পুঁইশাক

সবুজ,  চিত্রা

টমেটো

মিন্টু (বাংলাদেশে উদ্ভাবিত প্রথম হাইব্রিড টমেটো, বাহার, মানিক, রতন, ঝুমকা, সিঁধুর, শ্রাবণী

আলু

ডায়মন্ড, কার্ডিনাল, কুফরী, সিন্দুরী

বাধাঁকফি

গোল্ডেন ক্রস, কে ওয়াই ক্রস, গ্রীন এক্সপ্রেস, ড্রাম হেড

আম

মহানন্দা, মোহনভোগ, লেংড়া, গোপালভোগ, হাড়িভাঙ্গা

তরমুজ

পদ্মা, মধুবালা (হলদে জাতের তরমুজ)

কলা

অগ্নিশ্বর, কানাইবাঁশী, মোহনবাঁশী, বীট জবা, অমৃতসাগর, সিংগাপুরী

  • বেগুনের জাত শুকতারা , নয়নতারা,  তারাপুরী, ইওরা।
  • মিষ্টি কুমড়ার জাত – হাজী ও দানেশ

অন্যান্য তথ্যঃ

  • বাংলাদেশের পানি সম্পদের চাহিদা সবচেয়ে বেশি কৃষিতে।
  • বাকল্যান্ড বাধঁ বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত।
  • বাংলাদেশে মোট আবাদযোগ্য জমি প্রায় ২ কোটি একর
  • বাংলাদেশে গো- চারনের জন্য বাথান আছে সিরাজগঞ্জ ও পাবনায়।
  • গো প্রজনন কেন্দ্র অবস্থিত সাভারে।
  • অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০১৭ অনুযায়ী, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের GDP তে পশু সম্পদের অবদান ১.৬৬ %
  • বাংলাদেশে একটি জীবন্ত জীবাশ্মর নাম – রাজ কাঁকড়া।
  • বাংলাদেশের মৎস আইনে ২৩ সে.মি এর নিচে রুই জাতীয় পোনা ধরা নিষেধ।
  • এশিয়ার সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র হালদা নদীতে।
  • কৃষি কাজের জন্য উত্তম মাটি- দো আঁশ মাটি।
  • বাংলাদেশের রুটির ঝুড়ি – ঠাকুরগাঁও।
  • বাংলাদেশের White Gold – চিংড়ি।
  • একমাত্র মৎস্য গভেষনা ইনস্টিটিউট – ময়মনসিংহ
  • ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের একটি জাত। একে কুষ্টিয়া গ্রেডও বলা হয়।
  • বাংলাদেশের কৃষি ধান প্রধান নিবিড় স্বয়ংভোগী
  • সাথি ফসল হিসেবে আখের সাথে তিল চাষ করা হয়
  • আলু সাথে একটি ভালো মিশ্র চাষ লালশাক।
  • লর্ড লিনলিথগো দেশি গরুর উন্নয়নের জন্য বাংলা প্রদেশে কয়েকটি গরু আমদানি করেন।
  • লাল তীর লাইফস্টক লি. এর গবেষকরা ২০১৪ সালে মহিষের বৈশিষ্ট্য নির্ধারণকারী জিনবিন্যাস উন্মোচন করেন। এটি বাংলাদেশের বিজ্ঞানীদের প্রথম কোন প্রাণীর ‘জিনগত নকশা’  উন্মোচন।

 

প্রাণিজ সম্পদ

 

গবাদি পশুর জাত উন্নয়নে উপমহাদেশে প্রথম অগ্রনী ভূমিকা রাখেন ব্রিটিশ নাগরিক লর্ড লিন লিথগো
বাংলাদেশে গবাদি পশুর ভ্রুণ প্রথম বদল করা হয় ৫ মে, ১৯৯৫ (জাইকার সহযোগিতায়)
বাংলাদেশ গবাদি পশু গবেষণা ইনস্টিটিউট ঢাকার সাভারে
কেন্দ্রীয় গো-প্রজনন ও দুগ্ধ খামার ঢাকার সাভারে
দুগ্ধজাত সামগ্রীর জন্য বিখ্যাত লাহিড়ীমোহন হাট অবস্থিত পাবনায়
মহিষ প্রজনন কেন্দ্র বাগেরহাট
ছাগল প্রজনন কেন্দ্র সিলেটের টিলারগড়ে
ছাগল উন্নয়ন ও পাঠা কেন্দ্র রাজবাড়ি হাট
বন্য প্রাণী প্রজনন কেন্দ্র (সরকারি) করমজল, সুন্দরবন
হরিন প্রজনন কেন্দ্র কক্সবাজারের ডুলাহাজরায়
কুমির প্রজনন কেন্দ্র ময়মনসিংহের ভালুকাতে
গাধা প্রজনন কেন্দ্র রাঙ্গামাটি জেলাতে
উন্নত জাতের গাভী ফ্রিসিয়ান, হরিয়ানা, সিন্দী, হিসার, জারসি শাহীওয়াল, আয়ের শায়ের
সবচেয়ে বেশি দুধ দেয় ফ্রিসিয়ান
ব্রয়লার যে সব মুরগি শুধুমাত্র মাংসের জন্য উৎপাদন করা হয় তাদের বয়লার মুরগি বলে
উন্নত জাতের ব্রয়লার মুরগি হাইব্রো, স্টারব্রো, ইন্ডিয়ান রোভাব, মিনিব্রো
লেয়ার ডিমপাড়ার জন্য উৎপাদিত মুরগি লেয়ার
সবচেয়ে বেশি ডিম দেয় রেগর্হন
মাংস ও ডিম উভয় পাওয়া যায় রোড আইল্যান্ড রেড এবং অস্টারলক জাতের মুরগি থেকে
যমুনা পাড়ী ছাগলের অপর নাম রামছাগল
ব্লাক বেঙ্গল একধরনের ছাগল।বাংলাদেশের ৯০ শতাংশই ব্লাক বেঙ্গল ছাগল।
কুষ্টিয়া গ্রেড বিশ্ব বাজারে ব্লাক বেঙ্গল ছাগলের চামড়ার নাম
বনরুই একধরনের বিড়াল
ঘড়িয়াল দেখা যায় পদ্মা নদীতে
মুরগির রোগ রানীক্ষেত, বসন্ত, রক্তআমাশয়, কলেরা, বার্ড ফ্লু
হাঁসের রোগ ডাক প্লেগ, রোপা
গবাদি পশুর রোগ গো-বসন্ত, যক্ষ্ম, ব্লাক কোয়াটার, অ্যানথ্রাক্স
কেন্দ্রীয় মুরগি খামার মিরপুর, ঢাকা
কেন্দ্রীয় হাঁস প্রজনন কেন্দ্র নারায়ণগঞ্জ

* বৃহত্তর পাবনা জেলার বড়াল ও গয়লা নদীর অববাহিকায় স্থায়ীভাবে বাথাম নামে পরিচিত মৌসুমি চারণভূমি আছে।

মৎস্য সম্পদ

 

বাংলাদেশের প্রধান জলজসম্পদ মাছ ও পানি
বাংলাদেশের মৎস আইনে রুই জাতীয় মাছের পোনা ধরা নিষেধ ৯ ইঞ্চি বা ২৩ সে.মি কম দৈর্ঘ্যের মাছ
পিরনহা একধরনের রাক্ষুসে মাছ
মুখে ডিম রেখে বাচ্চা ফুটায় তেলাপিয়া মাছ
বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট অবস্থান ময়মনসিংহ
পাঁচটি কেন্দ্র স্বাদু পানি কেন্দ্র,ময়মনসিংহ
লোনা পানি কেন্দ্র, পাইকগাছা, খুলনা
নদী কেন্দ্র, চাঁদপুর
সামুদ্রিক মৎস্য ও প্রযুক্তি কেন্দ্র, কক্সবাজার
চিংড়ি গবেষণা কেন্দ্র, বাগেরহাট

* বাংলাদেশের আইনে ২৫সেমি কম দৈর্ঘ্যের জাটকা ও ৩০ সেমি. কম দৈর্ঘ্যের কম পাঙ্গাশ,  শিলং ও আইড় ধরা নিষিদ্ধ।

White Gold

আর্থোপোড পর্বভুক এবং বর্জ্যজীবী সন্ধীপদী প্রাণী চিংড়ি। গলদা চিংড়ি চাষ হয় স্বাদু পানিতে আর বাগদা চিংড়ি চাষ হয় লোনা পানিতে। বাগদার চাষ বাণিজ্যিকভাবে শুরু হয় ১৯৭৬। বাগদা চিংড়ি আশির দশক থেকে রপ্তানি পণ্য হিসেবে স্থান করে নেয় । প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় হওয়ায় বাংলাদেশের চিংড়ি সম্পদকে White Gold বলা হয়। আর হিমায়িত খাদ্যকে Thurst Sector বলা হয়।

  1. * মেরিন ফিশারিজ একাডেমি চট্টগ্রামে।

পানি সম্পদ

 

সবচেয়ে বেশি পানি সম্পদের চাহিদা কৃষি খাতে।
বাংলাদেশের মানুষ পানীয় জলের জন্য নির্ভর করে  নলকূপের উপর
বাংলাদেশের পানিতে বিপদজনক মাত্রায় আর্সেনিক পাওয়া যায় অগভীর নলকূপে
নলকূপের পানিতে বাংলাদেশে প্রথম আর্সেনিক পাওয়া যায় ১৯৯৩ সালে চাপাইনবাবগঞ্জে
পানিতে স্বাভাবিকের পেয়ে বেশি মাত্রায় আর্সেনিক পাওয়া গেছে ৬১ টি জেলাতে
পানিতে মাত্রাতিরিক্ত  আর্সেনিক পাওয়া যায়নি তিনটি জেলাতে।এগুলো- রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি।
বাংলাদেশের সর্বাধিক আর্সেনিক আক্রান্ত জেলা চাঁদপুর
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) মতে পানিতে আর্সেনিক  এর গ্রহণযোগ্যতা ০.০১ মি.গ্রা./লিটার
বাংলাদেশের খাবার পানিতে আর্সেনিকের গ্রহণযোগ্য মাত্রা- ০.০৫ মি.গ্রা./লিটার
বাংলাদেশের পানিতে আর্সেনিকের মাত্রা- ১.০১ মি.গ্রা./লিটার
বাংলাদেশে সর্বপ্রথম আর্সেনিক ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপন করা হয়- গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে
আর্সেনিক দূরীকরনে সনো ফিল্টারের উদ্ভাবক প্রফেসর আবুল হুসসাম
আর্সেনিক দূরীকরনে আর্থ ফিল্টারের উদ্ভাবক অধ্যাপক দুলালী চৌধুরী
অত্যধিক দূষিত নদীর পানি বুড়িগঙ্গা

 

বাংলাদেশের পানি শোধনাগার

 

চাঁদনীঘাট, ঢাকা ১৮৭৪ খ্রি বাংলাদেশের প্রথম পানি শোধনাগার
সোনাকান্দা, নারায়নগঞ্জ ১৯২৯ খ্রি
গোদানাইল, নারায়নগঞ্জ ১৯২৯ খ্রি
সায়েদাবাদ, ঢাকা ২০০২ খ্রি বাংলাদেশের বৃহত্তম পানি শোধনাগার

 

সেচ প্রকল্প, বাঁধ ও নিয়ন্ত্রন

বাংলাদেশের প্রথম সেচপ্রকল্প গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প, ১৯৫৪ সালে স্থাপিত হয়।
জি.কে প্রকল্পের আওতাভুক্ত অঞ্চল তিস্তা বাঁধ প্রকল্প
তিস্তা বাঁধ এর অবস্থান লালমনিরহাট জেলাতে।
তিস্তা বাঁধ প্রকল্পের আওতাভুক্ত অঞ্চল  দিনাজপুর ও রংপুর
তিস্তা বাঁধ প্রকল্পের নির্মাণ কাজ শুরু হয় ১৯৫৬-৬০
তিস্তা বাঁধ প্রকল্প উদ্ভোদন হয় ১৯৯০
DNA বাধেঁর পুরো নাম ঢাকা-নারায়নগঞ্জ-ডেমরা
বাকল্যান্ড বাধঁ অবস্থিত বুড়িগঙ্গার তীরে।