চণ্ডীদাস

চণ্ডীদাস

 

মধ্যযুগের একাধিক কবি নিজেকে চণ্ডীদাস দাবি করলে সমস্যার সৃষ্টি হয়। ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, চন্ডীদাস তিন জন।এরা হলেন –বড়ু চণ্ডীদাস, দ্বিজ চণ্ডীদাস ও দীন চণ্ডীদাস।তাঁদের মধ্যে বড়ু চণ্ডীদাস সবচেয়ে প্রাচীন।

বড়ু চণ্ডীদাস বাংলার প্রথম মহাকবি।তিনি বাঁকুড়ার ছাতনা মতান্তরে বীরভূমের নানুর বাড়ি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর একটি কাব্য পাওয়া গেছে। এর নাম ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’।এটি এক দীর্ঘ কাব্য যেটি অনেকগুলো পদ বা কবিতার সমষ্টি।১৯০৯ সালে বসন্তরঞ্জন রায় পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামের এক গৃহস্থবাড়ির গোয়াল ঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন উদ্ধার করেন।১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন বসন্ত রঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়। আনুমানিক ১৩৯৯ সালে মারা যান।

তাঁর উক্তিগুলো-

  • ১. সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপর নাই।
  • ২. সই কে শুনাইল শ্যাম নাম।
  • ৩. সই কেমনে ধরিব হিয়া

 

         আমার বঁধূয়া আন বাড়ি যায়

         আমার আঙিনা দিয়া।

 

  • দহুঁ কোরে দুই কাঁদে বিচ্ছেদ ভাবিয়া।
  • আধ তিল না দেখিলে যায় যে মরিয়া।

 

দ্বিজ চণ্ডীদাস জন্মগ্রহণ করেন চতুর্দশ শতকের শেষভাগে।তিনি ছিলেন বাশুলীদেবীর ভক্ত।তাঁর সম্বন্ধে অনেক উপকথা চালু আছে।বৈষ্ণব ধর্মের প্রবর্তক চৈতন্যদেব দ্বিজ চণ্ডীদাসের পদাবলি পাগলের মত জপতেন।চণ্ডীদাসের জনপ্রিয়তার কারন তাঁর রাধা।