চুক্তি ও সনদ

 

চুক্তি ও সনদ

 

ম্যাগনাকার্টা- Magna Carta

Magna Carta ল্যাটিন শব্দ। এর অর্থ মহা সনদ (Great Charter)। ইংল্যান্ডের রাজা জন ১২১৫ সালের ১৫ জুন সামন্তদের চাপে পড়ে রাজার অধিকার সংক্রান্ত এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এই চুক্তির কারণে রাজাকেও হতে হয়েছিল নিয়মের অধীন। এটি প্রজাদের অধিকার এবং রাজাদের ক্ষমতা হ্রাসের একটি যোক্তিক দলিল। ম্যাগনাকার্টাকে সাংবিধানিক শাসনের সূচনা বলা যেতে পারে। বর্তমানে ইংল্যান্ডের শাসনতন্ত্র বলতে কোনো নির্দিষ্ট দলিল নেই। Magna Carta কে বিট্রিশ শাসনতন্ত্রের বাইবেল এবং ইংল্যান্ডের প্রথম শাসনতন্ত্র বলা হয়।

 

Petition of Right

১৬২৮ সালে বিট্রিশ পার্লামেন্টে মানবাধিকার সম্পর্কিত ‘Petition of Right’ আইন পাস করা হয়।

 

English Bill of Rights

১৬৮৯ সালে বিট্রিশ পার্লামেন্টে মানবাধিকার সম্পর্কিত ‘Bill of Right ‘ আইন পাস হয়। এটি ‘English Bill of Rights’ নামেও পরিচিত।

 

International Bill of Human Rights

মানবাধিকার সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক বিল

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে গৃহীত একটি ঘোষণা এবং দুটি আন্তর্জাতিক চুক্তি একত্রে International Bill of Human Rights বলা হয়।যথা:

 

  1. Universal Declaration of Human Rights (মানবাধিকার সার্বজনীন ঘোষনা): ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর তারিখে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে এই ঘোষনা প্রদান করা হয়। প্রত্যেক মানুষের মানবাধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে এই সনদ ঘোষিত হয়। এতে মোট ৩০ টি ধারা আছে। ফ্রান্সের প্যারিসে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
  2. International Convenant on Civil and Political Rights(1966)-(বেসামরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক চুক্তি (১৯৬৬): ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৬৬ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে গৃহীত হয়। ২৩ মার্চ, ১৯৭৬ সালে চুক্তিটি কার্যকর হয়।
  3. International Convenant on Econo,ic, Social and Cultural Rights (1966)- অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক চুক্তি (১৯৬৬): ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৬৬ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে গৃহীত হয়। ৩ জানুয়ারি, ১৯৭৬ সালে চুক্তিটি কার্যকর হয়।

 

প্যারিসের শান্তি ১৭৮৩ (Peace of Paris 1783)

 

১৭৮৩ সালে আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধের অবসানের জন্য ৪টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, তাদেরকে একত্রে ‘পিস অব প্যারিস’ বলা হয়। ৩ সেপ্টেম্বর ১৭৮৩ ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় জর্জের প্রতিনিধি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধির সাথে প্যারিসে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেন- যা প্যারিস চুক্তি (১৭৮৩) নামে পরিচিত। ব্রিটেন যুক্তরাষ্ট্রকে একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় এবং আনুষ্ঠানিকভাবে আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধের অবসান হয়। ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় জর্জের প্রতিনিধি ফ্রান্সের ভার্সাই -এ ফ্রান্সের রাজা ষোড়শ লুই এর প্রতিনিধি, স্পেনের রাজা তৃতীয় চার্লসের  প্রতিনিধি এবং ডাচ প্রজাতন্ত্রের রাজ্যপ্রধানদের প্রতিনিধিদের সাথে অন্য তিনটি চুক্তি স্বাক্ষর করেন।

 

ভার্সাই চুক্তি (Treaty of Versailles)

১৯১৯ সালের ২৮ জুন ফ্রান্সের ভার্সাই নগরীতে এই চুক্তিটি হয়। এই চুক্তির মাধ্যমে ১ম বিশ্ব যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে। জার্মানি ও মিত্রপক্ষের মধ্যে এই চুক্তিটি সম্পন্ন হয়।এটি ১৯২০ সালের ১০ জানুয়ারি কার্যকর হয়।

 

Geneva Conventions –জেনেভা কনভেনশনসমূহ

 

যুদ্ধে উপদ্রুত এবং যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের সাথে জনহিতকর আচরণের জন্য যে আইন রয়েছে তার একটি মানদণ্ড নির্ধারণ করেছে জেনেভা কনভেনশন। এতে তিনটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি এবং তিনটি বাড়তি প্রোটোকল রয়েছে। বস্তুত একবচন হিসেবে জেনেভা কনভেনশন ১৯৪৯ সালের একটি সন্ধিপত্রকে নির্দেশ করে যেটি সম্পাদিত হয়েছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী প্রতিক্রিয়া এবং ফলাফল হিসেবে। এই সন্ধিপত্রেই চতুর্থ চুক্তিটি যোগ করা হয় এবং প্রথম তিনটি (১৮৬৪, ১৯০৬, ১৯২৯ সালে সম্পাদিত) চুক্তির হালনাগাগদ করা হয়।

১. প্রথম জেনেভা কনভেনশন: এই চুক্তিটি সম্পাদিত হয় ১৮৬৪ সালে, যার লক্ষ্য ছিল যুদ্ধক্ষেত্রে  আহত এবং অসুস্থ সৈন্যদের অবস্থার সার্বিক উন্নতি।

২. দ্বিতীয় জেনেভা কনভেনশন: এই চুক্তিটি সম্পাদিত হয় ১৯০৬ সালে, সমুদ্রস্থ যুদ্ধক্ষেত্রে  আহত, অসুস্থ এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত জাহাজের সৈন্যদের অবস্থার সার্বিক উন্নতির লক্ষ্যে।

৩. তৃতীয় জেনেভা কনভেনশন: যুদ্ধবন্ধীদের প্রতি আচরণ ও তাদের নিরাপত্তা এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত, ১৯২৯।

৪. চতুর্থ জেনেভা কনভেনশন: যুদ্ধবস্থায় বেসামরিক জনগণ রক্ষার্থে সম্পাদিত, ১৯৪৯।

এই কনভেনশনগুলোর সমষ্টিকেই বলা হয় “১৯৪৯ এর জেনেভা কনভেনশনসমূহ” বা সাধারণভাবে জেনেভা কনভেনশন। েএকে চারটি রেডক্রস কনভেনশন নামেও অভিহিত করা হয়।

 

আলজিয়ার্স চুক্তি – Algiers Agreement

 

এই চুক্তিটি ১৯৭৫ সালের ১৩ জুন সম্পাদিত হয়। এই চুক্তিটি ইরাক ও ইরানের মধ্যে সম্পাদিত হয়।

ক্যাম্প ডেভিড চুক্তি – Camp David Accords

১৯৭৮ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ইসরাইল ও মিশরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে ক্যাম্পডেবিট চুক্তি হয়।ক্যাম্পডেবিট চুক্তির উদ্যোক্তা ও মধ্যস্থতাকারী ছিলেন জিমি কার্টার। এতে সই করেন মিশরের প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদাত ও ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট মেনাখেম বেগিন। এই চুক্তির জন্য সাদাত ও বেগিন উভয়ই শান্তিতে নোবেল পান। আনোয়ার সাদাত প্রথম মুসলিম হিসেবে নোবেল পান। চুক্তির ফলে মিশরকে আরবলীগ ও OIC হতে সাময়িকভাবে বহিস্কার করা হয়।

 

শেনজেন চুক্তি – Schengen Agreement

 

১৯৮৫ সালের ১৪ জুন লুক্সেমবার্গের শেনজেন এ এই চুক্তিটি সম্পাদিত হয়। চুক্তিটিতে বেলজিয়াম, ফ্রান্স, পশ্চিম জার্মানি, লুক্সেমবার্গ ও নেদারল্যান্ড সই করে।পরবর্তীতে এই চুক্তিই ইউরোপে জল, স্থল ও আকাশপথে এক ভিসায় বা ভিসা ব্যতীত অবাধ চলাচল সংক্রান্ত চুক্তিতে পরিণত হয়। এর ফলশ্রুতিতে ১৯৯৫ সালের ১৬ মার্চ ভিসামুক্ত ইউরোপের যাত্রা শুরু হয়।

 

অসলো চুক্তি -Oslo Accords

 

১৯৯৩ সালের ২০ আগষ্ট নরওয়ের রাজধানী অসলোতে গোপন বৈঠকের মাধ্যমে পি.এল.ও (PLO) এবং ইসরাইল এই চুক্তির মাধ্যমে একমত হয়। ১৩ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির মাধ্যমে ইসরাইল এবং পি.এল.ও পরস্পরকে স্বীকৃতি দিলেও স্বাধীন ফিলিস্থিন রাষ্ট্র হিসেবে ইসরাইল স্বীকৃতি দেয়নি।এই  ‍চুক্তিটি ফিলিস্থিনির স্বায়ত্তশাসনের রোডম্যাপ প্রণয়ন করে তাই এই চুক্তিটি ফিলিস্থিনির স্বায়ত্তশাসন চুক্তি নামে পরিচিত।এই চুক্তির মধ্যস্থতা করেন তৎকালীন মিশরের প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারক।

PLO- Palestine Liberation Organization

 

ডেটন চুক্তি (Dayton Agreement)

ডেটন চুক্তির অন্য নাম প্যারিস প্রোটোকল, ডেটন-প্যারিস চুক্তি। এটি ১৯৯৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর তারিখে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে বসনিয়া এবং হার্জেগোভিনার মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়। ১৯৯৫ সালের নভেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ওহিও রাজ্যের ডেটনে এ চুক্তির ব্যাপারে মতৈক্য হয়। এর মধ্যস্থতাকরী ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের তখনকার প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন। এই যুক্তির ফলে বসনিয়া যুদ্ধের অবসান হয়।

 

বেলফাস্ট – Belfast Agreement

 

বেলফাস্ট চুক্তির অন্য নাম গুড ফ্রাইডে। বেলফাস্ট চুক্তিটি ১০ এপ্রিল ১৯৯৮ সালে নেদারল্যান্ডের বেলফাস্টে ব্রিটেন ও আয়ারল্যান্ডের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়। এর ফলে উত্তর আয়ারল্যান্ডে শান্তি স্থাপিত হয়।

 

উই রিভার চুক্তি – Wye River Memorandum

১৯৯৮ সালের ২৩ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডের উই রিভারে পি.এল.ও (PLO) এবং ইসরাইল এর মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এর মধ্যস্থতাকরী ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের তখনকার প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন।

 

কার্টাগেনা প্রটোকল – Cartagena Protocol

এটি জাতিসংঘের জৈব নিরাপত্তা বিষয়ক চুক্তি যা ২০০০ সালের ২৯ জানুয়ারিতে স্বাক্ষরিত হয়।

 

জেনেভা চুক্তি

 

সুইজারল্যান্ডের জেনেভাতে ১৯৫৪ সালে ফ্রান্স ও ভিয়েতনামের মধ্যে ঐতিহাসিক এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির মাধ্যমে ভিয়েতনামকে উত্তর ভিয়েতনাম ও দক্ষিন ভিয়েতনাম নামে দুটি রাষ্ট্রে বিভক্ত করা হয়।

 

তাসখন্দ চুক্তি

১৯৬৫ সালে কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে দ্বিতীয় বারের মত ভারত-পাকিস্থান যুদ্ধ হয়। কাশ্মীর প্রশ্নে ভারত-পাকিস্থান যুদ্ধের অবসান ও শান্তি স্থাপনের লক্ষ্যে ১৯৬৬ সালের ১০ জানুয়ারি উজবেকিস্থানের রাজধানী তাসখন্দে ভারত-পাকিস্থানের মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এতে ভারতের পক্ষে জওহরলাল নেহেরু এবং পাকিস্থানের পক্ষে আইয়ুব খান স্বাক্ষর করেন। মধ্যস্থতা করেন সাবেক সোভিয়েত প্রেসিডেন্ট কোসিগেন।

 

সিমলা চুক্তি

 

ভারতের হিমাচল প্রদেশের রাজধানী সিমলাতে ভারত ও পাকিস্থানের মধ্যে শান্তি স্থাপনের লক্ষ্যে ১৯৭২ সালে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এতে ভারতের পক্ষে ইন্দিরা গান্ধী এবং পাকিস্থানের পক্ষে জুলফিকার আলী ভুট্টো স্বাক্ষর করেন।

 

কিয়াটো প্রটোকল

বিশ্ব উষ্ণতা রোধ করার লক্ষ্যে জাপানের কিয়াটোতে ১৯৯৭ সালে কিয়াটো প্রটোকল স্বাক্ষরিত হয়। এর মেয়াদ শেষ হবে ২০২০ সালে। যুক্তরাষ্ট্র এই চুক্তি প্রত্যাহার করেছে।