জহির রায়হান

জহির রায়হান

 

জহির রায়হান ১৯৩৫ সালের ১৯ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন।[ সূত্র: বাংলা একাডেমি চরিতাভিধান]। তবে উচ্চমাধ্যমিক বাংলা সংকলনে তাঁর জন্ম ১৯৩৩ দেয়া।তিনি বৃহত্তর ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাল্য নাম জহিরুল্লাহ।প্রকৃত নাম মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।শহীদুল্লাহ কায়সার তাঁর আপন ভাই।১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারী তাঁর জ্যৈষ্ঠ ভ্রাতা শহীদুল্লাহ কায়সারকে খুঁজতে মিরপুর যান এবং নিখোঁজ হন।

ছাত্রাবস্থাতেই তিনি মহান ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন।এছাড়াও তিনি ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেন।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি বাংলায় অনার্সসহ বিএ পাস করেন ১৯৫৮ সালে।

জহির রায়হান ১৯৬৪ সালে আদমজী পুরস্কার পান। এছাড়াও ১৯৭১ সালে বোংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৭৭ সালে একুশে পদক ও ১৯৯২ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন।  

 

জহির রায়হান ছিলেন কথাশিল্পী ও চলচ্চিত্র পরিচালক।বাংলাদেশের সর্বশ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রকার জহির রায়হান।১৯৫৬ সালের শেষের দিকে চলচ্চিত্রে প্রবেশ করেন।

চলচ্চিত্র

তাঁর পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘কখনো আসে নি’ (১৯৬১)।

কাঁচের দেয়াল (১৯৬৩): এই চলচ্চিত্রের জন্য তিনি ‘নিগার’ পুরস্কার পান।

সঙ্গম (১৯৬৪): বাংলাদেশের প্রথম রঙ্গিন চলচ্চিত্র এটি।

জীবন থেকে নেওয়া (১৯৭০): বায়ান্নার ভাষা আন্দোলনভিত্তিক। বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বপ্রথম এই চলচ্চিত্রে জাতীয় সঙ্গীত বাজানো হয়।

Stop Genocide: পাকিস্থানি হানাদার বাহিনীর গণহত্যার প্রামাণ্যচিত্র।

A state in Born: মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র।

Let there be light: প্রামাণ্যচিত্র।

তাঁর সৃষ্ট প্রথম সিনেমাস্কোপ ছবি ‘বাহানা’।

তাঁর অন্যান্য চলচ্চিত্র – সোনার কাজল, বেহুলা, আনোয়ারা, টাকা আনা পাই, চিলড্রেন অব বাংলাদেশ, বার্থ অব দ্য নেশন।

 

উপন্যাস

জহির রায়হানের উপন্যাস সমূহ হলো- তৃষ্ণা, শেষ বিকেলের মেয়ে (প্রথম উপন্যাস), একুশে ফেব্রুয়ারি, হাজার বছর ধরে, আরেক ফাল্গুন, বরফ গলা নদী, আর কত দিন ও কয়েকটি মৃত্যু।

 

হাজার বছর ধরে: ১৯৬৪ সালে রচিত এই উপন্যাসে বাংলার জীবন ও জনপদ ফুটে উঠেছে।উপন্যাসটির জন্য জহির রায়হান আদমজী সাহিত্য পুরস্কার পান। এই উপন্যাসের উপর পরবর্তীতে নির্মিত চলচ্চিত্র জাতীয় পুরস্কার লাভ করেন।প্রধান চরিত্র – টুনি, মন্ত্ত ও মকবুল বুড়ো।টুনি এই উপন্যাসের একমাত্র জীবন্ত চরিত্র বাকি সবই যেন মৃত ও বির্বণ।

আরেক ফাল্গুন (১৯৬৮): বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম উপন্যাস। প্রধান চরিত্র- নায়ক মুনিম, আসাদ, রসুল, সালমা।

 

গল্পগ্রন্থ

তাঁর সুপরিচিত গল্পগ্রন্থ – সূর্যগ্রহণ (১৯৬২)

 

গল্প

তাঁর বিখ্যাত গল্প হল – একুশের গল্প, সময়ের প্রয়োজনে, সোনার হরিণ, একটি জিজ্ঞাসা, হারানো বলয়, অনিচ্ছা, দেমাক, কয়েকটি সংলাপ।

একুশের গল্প: এই গল্পের বিখ্যাত উক্তি ‘তপুকে আবার ফিরে পাব, একথা ভুলেও ভাবিনি।’ প্রধান চরিত্র –তপু, রেণু।

** জহির রায়হান ছাত্র জীবনে সাহিত্য মাসিক প্রবাহ ও ইংরেজী সাপ্তাহিক এক্সপ্রেস পত্রিকার সম্পাদনা ও প্রকাশনায় যুক্ত ছিলেন।