জাতীয় বিষয়াবলি

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

 

বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা

বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা সবুজ আয়তক্ষেত্রের মধ্যে লাল বৃত্ত।১৯৭২ সালে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা বিধি প্রণীত হয়। বাংলাদেশের পতাকার দৈর্ঘ্য, প্রস্থ এবং লাল বৃত্তের ব্যাসার্ধের অনুপাত ৫:৩:১। বর্তমান জাতীয় পতাকার ডিজাইন করেন পটুয়া কামরুল হাসান।এর আগের মানচিত্রখচিত পতাকাটির নকশা করেছিলেন শিব নারায়ণদাস। ১৯৭১ সালের ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় এক ছাত্রসমাজ তৎকালীন ডাকসু ভিপি আ.স.ম আবদুর রব বাংলাদেশের পতাকা প্রথম উত্তোলন করেন।এ জন্য ২ মার্চ ‘জাতীয় পতাকা দিবস’ হিসেবে পালিত হয়। বাংলাদেশের পতাকার সাথে জাপানের পতাকার মিল আছে।

 

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ ভবন

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ ভবন ঢাকার শেরে বাংলানগরে অবস্থিত। েএর মূল  স্থপতি লুই আই কান যিনি ১৯০১ সালে এস্তোনিয়ার এক ইহুদি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তবে তার পিতা মাতার সাথে পরবর্তীতে আমেরিকাতে অভিবাসিত হন। পূর্ব বাংলার আইন সভা হিসেবে পূর্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল ব্যবহারিত হত। বাংলাদেশের প্রথম ও দ্বিতীয় সংসদগুলোর অধিবেশনগুলো অনুষ্ঠিত হয় পুরনো সংসদ ভবনে যা বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হিসেবে বর্তমানে ব্যবহারিত হচ্ছে। ১৯৬২ সালে বর্তমান সংসদ ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু হয় এবং ১৯৮২  সালে শেষ হয়। ১৯৮২ সালের ২৮ জানুয়ারি এই সংসদ ভবনের উদ্বোধন করেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আবদুস সাত্তার। একই বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি তারিখে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সংসদের অষ্টম অধিবেশনে বর্তমান ভবনটি প্রথম সংসদ হিসেবে ব্যবহার শুরু হয়। ১৯৮৯ সালে জাতীয় সংসদ স্থাপত্য উৎকর্ষতার জন্য আগা খান পুরস্কার লাভ করে। সংসদ ভবনের আয়তন প্রায় ২১৫ একর এবং ভবনটি ৯তলা বিশিষ্ট। জাতীয় সংসদের মূল ভবনের উচ্চতা সর্বোচ্চ ১১৭ ফুট। জাতীয় সংসদ সংলগ্ন লেকটি ‘ক্রিসেন্ট লেক’ হিসেবে পরিচিত।

জাতীয় সংসদের প্রতীক শাপলা ফুল এবং এটি এক কক্ষবিশিষ্ট। এ পর্যন্ত দুইজন রাষ্ট্রপ্রধান জাতীয় সংসদে বক্তৃতা করেছেন। তারা হলেন যুগোস্লাভিয়ার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মার্শাল যোশেফ টিটো ১৯৭৪ সালের ৩১ জানুয়ারি এবং ভারতের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ভিভি গিরি ১৯৭৪ সালের ১৮ জুন।

 

বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীক

বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীক উভয় পাশে ধানের শীষ বেষ্টিত পানিতে ভাসমান জাতীয় ফুল শাপলা। তার মাথার উপর পাট গাছের পরস্পর সংযুক্ত তিনটি পাতা যার উভয় পাশে দুটো করে মোট চারটি তারকা। চারটি তারকা সংবিধানের চারটি মূলনীতি নির্দেশ করে। বাংলাদেশের বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীকের রূপকার হলো কামরুল হাসান।

রাষ্ট্রীয় মনোগ্রাম

বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মনোগ্রামে রয়েছে লাল রঙের বৃত্তের মাঝে হলুদ রঙের বাংলাদেশের মানচিত্র। বৃত্তের উপরের দিকে লেখা আছে ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’, নিচে লেখা ‘সরকার’ এবং বৃত্তের পাশে দুটি করে মোট চারটি তারকা। আর এই মনোগ্রামের ডিজাইন করেছেন এ এন এ সাহা।

 

জাতীয় স্মৃতিসৌধ

জাতীয় স্মৃতিসৌধ (অন্য নাম সম্মিলিত প্রয়াস) বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতির উদ্দেশ্যে নির্মিত স্মারক স্থাপনা। এটি ঢাকা শহরের উপকন্ঠে সাভারে নবীনগরে অবস্থিত। এর স্থপতি হলেন সৈয়দ মাইনুল হোসেন। স্মৃতিসৌধটির উচ্চতা ১৫০ ফুট (৪৫.৭২ মিটার) সৌধটি সাতটি  ত্রিভুজাকৃতি দেয়াল নিয়ে গঠিত। এলাকাটির ক্ষেত্রফল ১০৯ একর। ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৫৬ সালের ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন, ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬-এর ছয়দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ এর গণ অভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ – এই সাতটি ঘটনাকে স্বাধীনতা আন্দোলনের পরিক্রমা হিসাবে বিবেচনা করে সৌধটি নির্মিত হয়। ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব স্মৃতিসৌধটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ১৯৮২ সালের ১৬ ডিসেম্বর তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হোসেন মুহম্মদ এরশাদ এর উদ্বোধন করেন। সাতটি ফলকবিশিষ্ট স্মৃতিসৌধটি ‘সম্মিলিত প্রয়াস’ নামে পরিচিত।

 

বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত

‘আমার সোনার বাংলা ….’। এই গানের রচয়িতা ও সুরকার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে গানটি রচিত হয়। আমার সোনর বাংলা …. গানটি রচিত হয়েছিল গগণ হরকরার ‘আমি কোথায় পাব তারে আমার মনের মানুষ যে রে’ বাউল গানটির সুরের অনুকরনে। ‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিকায় গানটি প্রথম প্রকাশিত হয়। গানটি রবীন্দ্রনাথের ‘গীতবিতান’ গ্রন্থের স্বরবিতান অংশভুক্ত। চলচ্চিত্রকার গহির রায়হার ১৯৭০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত তার বিখ্যাত ‘জীবন থেকে নেওয়া’ কাহিনী চিত্রে এই গানের সর্বপ্রথম চলচ্চিত্রায়ন করেন। ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ তারিখে পল্টন ময়দানে ঘোষিত স্বাধীনতার ইশতেহারে এই গানকে জাতীয় সঙ্গীত হিসাবে ঘোষনা করা হয়। ১৯৭২ সালে ১৬ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর বাংলাদেশের সংবিধানে এই গানকে জাতীয় সঙ্গীতের মর্যাদা দেওয়া হয়। এটি মূলত ২৫ চরণ বিশিষ্ট একটি কবিতা। এর প্রথম ১০ চরণ বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত। তবে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে ৪ চরণ বাজানো হয়।গানটির ইংরেজী অনুবাদ করেন সৈয়দ আলী আহসান। ভারতের জাতীয় সঙ্গীতের রচয়িতাও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

 

বাংলাদেশের রণ সঙ্গীত

‘চল চল চল, উর্ধ্বগগণে বাজে মাদল’ গানটি বাংলাদেশের রণ সঙ্গীত।

এই গানটির রচয়িতা, সুরকার এবং শিল্পী হচ্ছেন বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম। গানটি ‘সন্ধ্যা’ কাব্যগ্রন্থ হকে সংকলিত। ‘নতুনের গান’ শিরোনামে ঢাকার ‘শিখা’ পত্রিকায় সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয়। উৎসব অনুষ্ঠানে রণসঙ্গীতের ২১ চরণ বাজানো হয়।

 

 

 

বাংলাদেশের অন্যান্য জাতীয় বিষয়াবলী

জাতীয় ভাষা (National Language) বাংলা (Bangla)
জাতীয় কবি (National Poet) কাজী নজরুল ইসলাম (Kazi Nazrul Islam)
জাতীয় পাখি (National Bird) দোয়েল (Magpie Robin)
জাতীয় মাছ (National Fish) ইলিশ (Hilsa)
জাতীয় পশু (National animal ) রয়েল বেঙ্গল টাইগার (Royak Bengal Tiger)
জাতীয় বৃক্ষ (National Tree) আম গাছ (Mango Tree)
জাতীয় ফল (National Fruit) কাঠাল (Jack Fruit)
জাতীয় ফুল (National Flower) শাপলা (Water-Lily)
জাতীয় বন (National Forest) সুন্দরবন (Sundarbans)
জাতীয় ধর্ম (National religian) ইসলাম (Islam)
জাতীয় মসজিদ (National Mosque) বায়তুল মোকাররম, গুলিস্থান, ঢাকা
জাতীয় স্টেডিয়াম (National Stadium) বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম, গুলিস্থান, ঢাকা
জাতীয় গ্রন্থাগার (National Library) শেরে বাংলা নগর, আগারগাঁও, ঢাকা
জাতীয় জাদুঘর (National Musium) জাতীয় জাদুঘর, শাহবাগ, ঢাকা
জাতীয় পার্ক (National Park ) ভাওয়াল ন্যাশনাল পার্ক, গাজীপুর।(Bhawal National Park, Gazipur)
জাতীয় খেলা (National Game) কাবাডি (Kabaddi)(১৯৭২ সালে হাডুডু কে ‘কাবাডি নামকরণ হয় এবং জাতীয় খেলা হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
জাতীয় নাট্যশালা শিল্পকলা একাডেমি, সেগুনবাগিচা, ঢাকা

 

** বাংলাদেশের মানচিত্র অংকন করেন জেমস রেনেল।