দীনবন্ধু মিত্র

দীনবন্ধু মিত্র

 

দীনবন্ধু মিত্র ১৮৩০ সালে পশ্চিমবঙ্গের নদীয় জেলার চৌবাড়িয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।তাঁর পিতা প্রদত্ত নাম ছিল গন্ধর্ব নারায়ন।তিনি ১ লা নবেম্বর ১৮৭৩ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

১৮৫৪ সালে দীনবন্ধু মিত্র পাটনায় পোস্ট-মাস্টার নিযুক্ত হন।ক্রমে পদোন্নতি লাভ করে তিনি ওড়িশা, নদিয়া, ও ঢাকা বিভাগে এবং পিরে কলকাতায় সুপারটেন্ডেন্ট পোস্টমাস্টার নিযুক্ত হন।লুসাই যুদ্ধের সময় তিনি ডাকবিভাগের কাজে কাছাড়ে প্রেরিত হন।এসময় তদারকি কাজে সন্তুষ্ট হয়ে তৎকালীন সরকার তাকে ‘রায়বাহাদুর’ উপাধি দান করেন।

তাঁর সাহিত্য জীবনের শুরু কবিতা দিয়ে।তিনি ঈশ্বরচন্দ্রের অনুপ্রেরণায় কবিতা লিখতেন।তাঁর কবিতা সংবাদ প্রভাকর ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।তবে তিনি নাকট রচনা করে খ্যাতি অর্জন করেন।

 

নাটক

তাঁর বিখ্যাত নাটকগুলো- নীলদর্পণ, নবীন তপস্বিনী, কমলে কামিনী (সর্বশেষ নাটক), লীলাবতী।

নীলদর্পণ (১৮৬০): ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম গ্রন্থ নীলদর্পণ। মেহেরপুর অঞ্চলের নীলকর সাহেবদের অত্যাচারের চিত্র এতে অঙ্কিত হয়েছে।এর প্রধান চরিত্রগুলো- গোলক বসু, নবীন মাধব, রাইচরণ, তোরাপ প্রমুখ।মাইকেল মধুসূধন দত্ত A Native ছদ্মনামে নাটকটির ইংরেজী অনুবাদ করেন যার নাম দেন ‘Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror’।নাটপকটি প্রথম ঢাকায় মঞ্চস্থ করা হয়।এই নাটকটি দেখতে এসে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর অভিনেতাদের লক্ষ্য করে মঞ্চে জুতা ছুড়ে মারেন।

 

প্রহসন

তাঁর প্রহসনগুলো হল- সধবার একাদশী, বিয়ে পাগলা বুড়ো, জামাইবারিক।

সধবার একাদশী- এটি একটি বিখ্যাত সামাজিক নাটক।উনবিংশ শতাব্দির মধ্যভাগে ইংরেজী শিক্ষিত নব্য সুরা বা মদ্যপান ও বেশ্যা বৃত্তি যুবকদের জীবনে বিপর্যয় সৃষ্টি করছিল।সামাজিক এই বিপর্যয়ের কাহিনী এটি রচিত হয়।নাটকটির মূল চরিত্র- নিমচাঁদ, কেনারাম।

 

কাব্য: তাঁর রচিত কাব্যগুলো-  সুরধুনী কাব্য, দ্বাদশ কবিতা।