নোবেল পুরস্কার ও অন্যান্য

১) নোবেল পুরস্কার

সারা বিশ্বে বিভিন্ন ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানকে সফল ও অনন্য সাধারন গভেষনা ও উদ্ভাবনের এবং মানবকল্যানশূলক কর্মকান্ডের জন্য প্রতিবছর একবার করে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়।

নোবেল পুরস্কারের ইতিহাস: নোবেল পুরস্কারের প্রবর্তক আলফ্রেড নোবেল ১৮৩৩ সালে সুইডেনের স্টকহোহে জন্মগ্রহন করেন। তিনি ডিনামাইট (উন্নত মানের বিস্ফোরক) আবিষ্কার করে বিশাল সম্পত্তির মালিক হয়ে যান। আবিষ্কারের অল্প কিছু দিনের মধ্যেই এর চাহিদা বাড়তে থাকে। এটি ছিল বারুদ এবং নাইট্রোগ্লিসারিনের চেয়ে অধিক নিরাপদ। নোবেল তাঁর প্যাটেন্ট কঠোর ভাবে নিয়ন্ত্রণ করতেন। কেউ অবৈধ ভাবে ডিনামাইট উৎপাদন করলে দ্রুত তা বন্ধ করার ব্যবস্থা করতেন। এরপরেও যুক্তরাষ্ট্রে কিছু ব্যবসায়ী কিছুটা ভিন্ন উপায়ে ডিনামাইট উৎপাদন করে তার প্যাটেন্ট নিয়েছিল। তারা তা ব্যাপকভাবে যুদ্ধাস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে থাকে।ফলে নোবেল এর অপব্যবহারে হতাশ হয়ে পড়েন। তিনি তার আবিষ্কারের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হয়ে মৃত্যুর বছরখানের আগে তার সম্পত্তির ৯৪% উইল করে যান। আর এই উইল মোতাবেক ১৯০১ সালে নোবেল পুরস্কার প্রর্বতিত হয়।সর্বপ্রথম পাঁচটি বিষয়ে নোবেল পুরস্কার চালু হয়। বর্তমানে ৬ টি বিষয়ে নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয়। এগুলো হলঃ 

১) পদার্থবিদ্যা  ২) রসায়ন   ৩) সাহিত্য  ৪) চিকিৎসা  ৫) শান্তি ও ৬) অর্থনীতি

অর্থনীতিতে ১৯৬৯ সাল থেকে নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয়।

আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যু দিবস ১০ ডিসেম্বর নরওয়ের অসলোতে শান্তি পুরস্কার এবং সুইডেনের স্টকহোমে বাকি পুরস্কার গুলো তুলে দেয়া হয় বিজয়ীদের হাতে।

নোবেল পুরস্কার ২০১৮

বিষয় বিজয়ীর নাম যে কারনে পেয়েছেন
চিকিৎসাশাস্ত্র  যুক্তরাষ্ট্রের জেমস পি. এলিসন এবং জাপানের তাসুকু হনজো ক্যানসারের চিকিৎসায় নেতিবাচক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াবিহীন থেরাপি আবিষ্কারের জন্য।
পদার্থবিজ্ঞান  যুক্তরাষ্ট্রের আর্থার অ্যাশকিন, ফরাসী জেরার ম্যুরো এবং কানাডার ডোনা স্ট্রিকল্যান্ড ক্ষুদ্র ও তীব্র লেজার স্পন্দন আবিষ্কারের জন্য।
রসায়ন আমেরিকার ফ্রান্সেস আর্নল্ড ও জর্জ স্মিথ, বৃট্রিশ বিজ্ঞানী গ্রেগরি উইন্টার   প্রাণিদেহে রসায়নঘটিত সমস্যা সমাধানে বিবর্তনের ক্ষমতা ব্যবহার করে প্রোটিন উন্ন্য়নে কাজ করার জন্য। (এনজাউম ও প্রতিষেধক আবিষ্কার)
শান্তি কঙ্গোর চিকিৎসক ডেনিস মুকওয়েগে এবং ইরাকের মানবাধিকার কর্মী নাদিয়া মুরাদ। যৌন নিপীড়নকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার রোধে আপ্রাণ প্রচেষ্টার জন্য।
অর্থনীতি আমেরিকার উইলিয়াম ডি নর্ডহাউস ও পল এম রোমার দীর্ঘকালীন অর্থনৈতিক তত্ত্বে জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনে গভেষনা।
সাহিত্য এ বছর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হবেনা
এ বছর ৭ দেশের ১২ জন নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন।

 

নোবেল পুরস্কার ২০১৭

  • রসায়ন – জ্যাকস ডুবোশেট, জোয়াকিম ফ্রাংক ও রিচার্ড হ্যান্ডারসন
  • অর্থনীতি – রিচার্ড থ্যালার
  • সাহিত্য – কাজুও ইশিগুরো
  • শান্তি – ইন্টারন্যাশনাল ক্যাম্পেইন টু অ্যাবোলিশ নিউক্লিয়ার উইপন্স (পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় আইসিএএনকে নোবেল দেওয়া হয়েছে)
  • পদার্থবিজ্ঞান – ব্যারি সি ব্যারিশ, কিপ থর্ন ও রেইনার ওয়েইজ
  • চিকিৎসাবিজ্ঞান – জেফ্রি সি হল, মাইকেল রসব্যাশ ও মাইকেল ডব্লিউ ইয়ং

নোবেল পুরষ্কার ঘোষনা

পুরস্কারের বিষয়

ঘোষনাকারী প্রতিষ্ঠান

চিকিৎসাবিজ্ঞান

ক্যারোলিনিস্কা ইনস্টিটিউড

সাহিত্য 

সুইডিস একাডেমি

শান্তি 

নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি

পদার্থবিদ্যা

রয়েল সুইডিস একাডেমি অব সায়েন্স

রসায়ন

অর্থনীতি

প্রথম নোবেল পুরস্কার বিজয়ী

বিষয়

সাল

নোবেলজয়ীর নাম

দেশ

পদার্থ

১৯০১

উলহেম রন্টজেন

জার্মানি

রসায়ন

১৯০১ জ্যাকোবাস ভ্যান্ট হফ নেদারল্যান্ডস
চিকিৎসা ১৯০১ এমিল বিহরিং

জার্মানি

সাহিত্য

১৯০১ সুলি প্রুধোম ফ্রান্স
শান্তি ১৯০১ হেনরি ডুনান্ট ও ফ্রেডারিক পার্সি

সুইজারল্যান্ড ও ফ্রান্স

অর্থনীতি

১৯৬৯

র‌্যাগনার ফ্রেস ও জ্যান টিম্বারজেন

নরওয়ে ও নেদারল্যান্ড

উপমহাদেশের নোবেলবিজয়ী ব্যক্তিত্ব

বিষয় সাল বিজয়ীর নাম দেশ তথ্য
সাহিত্য ১৯১৩ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ভারত নোবেল বিজয়ী প্রথম এশীয়। সাহিত্যে নোবেলজয়ী প্রথম অ-ইউরোপীয়।
পদার্থ ১৯৩০ সিভি রমন ভারত নোবেল বিজয়ী দ্বিতীয় এশীয়। উপমহাদেশে নোবেল জয়ী প্রথম বিজ্ঞানী।
চিকিৎসা ১৯৬৮ এইচ জি খোরানা  ভারত ’জেনেটিক কোড’ আবিষ্কার করেন।
পদার্থ ১৯৭৯ আব্দুস সালাম পাকিস্থান
শান্তি ১৯৭৯ মাদার তেরেসা ভারত নোবেল জয়ী প্রথম এশীয় নারী
পদার্থ ১৯৮৩ চন্দ্রশেখর ভারত
অর্থনীতি ১৯৯৮ অমর্ত্য সেন ভারত দারিদ্য ও দুর্ভিক্ষ নিয়ে গভেষণা করেন।
শান্তি ২০০৬ ড. মুহাম্মদ ইউনুস বাংলাদেশ ক্ষুদ্রঋণ ধারনার প্রবর্তক
রসায়ন ২০০৯ ভি. রামকৃষ্ণ ভারত
শান্তি ২০১৪ মালালা পাকিস্থান শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে এবং শিশুদের অধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
শান্তি ২০১৪ কৈলাস সত্যার্থী ভারত

*** নোবেলবিজয়ী বাঙালি মনীষী তিনজন। এরা হলেন – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, অমর্ত্য সেন ও ড. মুহাম্মদ ইউনুস।

সামাজিক চয়ন তত্ত্ব বা কল্যান অর্থনীতিতে অবদানের জন্য ১৯৯৮ সালে অর্থনীতিতে তাকে নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয়। তার গ্রন্থ ‘Poverty and Famine’। ২০০৬ সালে গ্রামীণ ব্যাংক এবং ড. মুহাম্মদ ইউনুস যৌথভাবে শান্তি পুরস্কার লাভ করেন।

 

বিভিন্ন ক্ষেত্রে নোবেলজয়ী প্রথম নারী

ক্ষেত্র সাল নোবেলজয়ীর নাম দেশ তথ্য
রসায়ন ১৯০৩ মেরী কুরি পোল্যান্ড নোবেলজয়ী প্রথম নারী
পদার্থ ১৯১১
শান্তি ১৯০৫ বার্থাভন সুকনার আস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরী শান্তিতে নোবেলজয়ী প্রথম নারী
সাহিত্য ১৯০৯ সেলমা লাগারলফ সুইডেন সাহিত্যে নোবেলজয়ী প্রথম নারী
চিকিৎসা  ১৯৪৭  র্গাটি কুরি যুক্তরাষ্ট্র চিকিৎসায় নোবেলজয়ী প্রথম নারী
অর্থনীতি  ২০০৯ ইলিনর অস্ট্রম যুক্তরাষ্ট্র অর্থনীতিতে নোবেলজয়ী প্রথম নারী
  • সাহিত্যে নোবেলজয়ী নারীর সংখ্যা – ৩ জন।
  • ২০০৯ সাল পযর্ন্ত অর্থনীতিতে নোবেল বিজয়ী নারী একজন।
  • আফ্রিকা থেকে মাত্র তিনজন মহিলা নোবেল পান।

নোবেল জয়ী মুসলিম মনীষী

ক্ষেত্র

সাল নোবেলজয়ীর নাম  দেশ তথ্য
শান্তি ১৯৭৮ আনোয়ার সাদাত মিশর প্রথম মুসলিম নোবেলজয়ী
পদার্থ ১৯৭৯ আব্দুস সালাম পাকিস্থান
সাহিত্য ১৯৮৮ নাগিব মাহফুজ মিশর সাহিত্যে নোবেলজয়ী প্রথম আরব সাহিত্যিক। উপন্যাসের জন্য তিনি সমধিক পরিচিত।
শান্তি ১৯৯৪ ইয়াসির আরাফাত ফিলিস্থিন ক্যাম্প ডেবিট চুক্তি করার জন্য নোবেল পুরস্কার পান
রসায়ন ১৯৯৯ আহমেদ জেবাইল মিশর
শান্তি ২০০৩ শিরিন এবাদি ইরান শান্তিতে নোবেলজয়ী প্রথম মুসলিম নারী
শান্তি ২০০৫ আল বারাদি মিশর IAEA  এর প্রধান ছিলেন।পারমানবিক অন্ত্র বিস্তার রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
 শান্তি ২০০৬ ড. মুহাম্মদ ইউনুস বাংলাদেশ
সাহিত্য ২০০৬ অরহান পামুক তুরস্ক বিখ্যাত গ্রন্থ  The White Castle
শান্তি ২০১১ তাওয়াক্কাল কারমান ইয়েমেন
শান্তি ২০১৪ মালালা ইউসুফজাই পাকিস্থান সর্বকনিষ্ঠ নোবেলজয়ী

 

মরেণোত্তর নোবেল পুরস্কারজয়ী  

নোবেলজয়ীর নাম

ক্ষেত্র

দেশ

সাল
এরিক কে. কার্লফেল্ট

সাহিত্য

১৯৩১

সুইডেন

দ্যাগ হ্যামারশোল্ড

শান্তি

১৯৬১

সুইডেন

রাফ এম স্টেনম্যান

চিকিৎসা

২০১১

কানাডা

 

একাধিকবার নোবেলজয়ী

নোবেলজয়ীর নাম পুরস্কার জয়ের বর্ষ ও বিষয়
আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটি (ICRC) ১৯১৭, ১৯৪৪ ও ১৯৬৩ (শান্তি)
জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশন (UNHCR) ১৯৫৪, ১৯৮১ (শান্তি)
মেরী কুরি ১৯০৩ (পদার্থ), ১৯১১ (রসায়ন)
লিনাস পাউলিং  ১৯৫৪ (রসায়ন), ১৯৬২ (শান্তি) 
জন বার্ডিন ১৯৫৮ (পদার্থ), ১৯৮০ (রসায়ন)
ফ্রেড্ররিক স্যাঙ্গার ১৯৫৮ (রসায়ন), ১৯৮০ (রসায়ন)

শান্তিতে নোবেলজয়ী জাতিসংঘের অঙ্গসংগঠন

নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত সংস্থা বা সংগঠন

সাল

জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশন (UNHCR)

১৯৫৪, ১৯৮১ (শান্তি)

জাতিসংঘ শিশু তহবিল

১৯৬৫

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO)

১৯৬৯

জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনী

১৯৮৮

জাতিসংঘ

২০০১

আন্তর্জাতিক আনবিক শক্তি এজেন্সি (IAEA)

২০০৫

আবহাওয়া পরিবর্তন সংক্রান্ত আন্তঃসরকার প্যানেল (IPCC)

২০০৭

রাসায়নিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ সংস্থা (OPCW)

২০১৩

 নোবেল পুরস্কার প্রত্যাখ্যান

এ পর্যন্ত দুইজন নোবেলজয়ী সেচ্ছায় নোবেল পুরস্কার পত্যাখ্যান করেন। তারা হলেন : 

জ্যা পল সাত্রে

১৯৬৪ (সাহিত্যে)

লি ডাক থো

১৯৭৩ (শান্তি)

নোবেল প্রাইজের বিশেষ তথ্য

লিনাস পাউলিং বিজ্ঞানী কিন্তু শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন ১৯৬২ সালে।
গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ ৬ মার্চ ১৯২৭ সালে কলম্বিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। ল্যাটিন আমেরিকার বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লেখক হিসেবে পরিচিত। ১৯৮২ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান। ‘লাভ হান্ড্রেড ইয়ারস অব সলিচ্যুড’ তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ। ২০১৪ সালের ১৭ এপ্রিল মেক্সিকো সিটিতে মারা যান।
ড্যানিয়েল ক্যানেম্যান মনোবিজ্ঞানী কিন্তু অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পান ২০০২ সালে।
বার্ট্রান্ড রাসেল দার্শনিক কিন্তু সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান ১৯৫০ সালে।
উইনস্টন চার্চিল রাজনীতিবিদ কিন্তু সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান ১৯৫৩ সালে।

 

ম্যাগসেসে পুরস্কার

রামোন ম্যাগসেসে পুরস্কার ১৯৫৭ সালে প্রবর্তিত হয়। এবা পুরস্কার প্রবর্তন করা হয় ফিলিপাইনের প্রয়াত প্রেসিডেন্ট রামোন ম্যাগসেসেকে স্মরণ করে। এ পুরস্কারকে এশিয়ার নোবেল পুরস্কার বলা হয়।প্রতিবছর ৬ টি শ্রেণিতে এশিয়ার বিভিন্ন ব্যক্তি এবং সংগঠনকে এই পুরস্কার প্রদান করা হয়। যথা:

  • সরকারী সেবা
  • জনসেবা
  • সামাজিক নেতৃত্ব
  • সাংবাদিকতা, সাহিত্য এবং যোগাযোগে উদ্ভাবনী কলা
  • শান্তি ও আন্তর্জাতিক সমন্বয়
  • নতুন নেতৃত্ব

বাংলাদেশের সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান সরকারী সেবা শ্রেনীতে ২০১২ সালে এ পুরস্কার পান।সামাজিক নেতৃত্ব শ্রেনীতে ১৯৮০ সালে ফজলে আবিদ, ১৯৮৪ সালে ড. মুহাম্মদ ইউনুস, ১৯৮৫ সালে জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ১৯৮৮ সালে মোহাম্মদ ইয়াসিন, ২০১০এ.এইচ.এম. নোমান খান  এ পুরস্কার পান।সাংবাদিকতা, সাহিত্য এবং যোগাযোগে উদ্ভাবনী কলা বিভাগে ২০০৪ ও ২০০৫ সালে যথাক্রমে এ পুরস্কার পান বাংলাদেশের আব্দুল্লাহ আবু সায়্যীদ ও মতিউর রহমান।

ম্যানবুকার পুরস্কার

ম্যানবুকার পুরস্কার (অথবা বুকার পুরস্কার) বিশ্বসাহিত্যের অণ্যতম মর্যাদাসম্পন্ন পুরস্কার।ব্রিটেনের ম্যান গ্রুপ এই পুরস্কার প্রদান করে।এই পুরস্কার প্রাপ্তির কিছু শর্তাবলী রয়েছে।য়েমন : লেখককে অবশ্যই কমনওয়েলথ, জিম্বাবুয়ে বা আয়ারল্যান্ডের নাগরিক হতে হবে এবং উপন্যাসটি ইংরেজীতে রচিত হতে হবে।সর্বকনিষ্ঠ বুকার পুরস্কারজয়ী হলেন নিউজিল্যান্ডের ইলিনর ক্যাটন।২০১৮ সালের ম্যান বুকার পুরস্কার পেয়েছেন আইরিশ আনা বার্নস।

একাডেমি পুরস্কার

একাডেমি পুরস্কার বা অস্কার বিশ্ব চলচ্চিত্রের সবচেয়ে সম্মানজনক পুরস্কার।১৯২৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের Academy of Motion Picture Arts and Science এ পুরস্কারটি প্রবর্ত ন করে। মরোনত্তর একমাত্র অস্কারজয়ী অভিনেতা Piter Finch (১৯৭৬)। ২০০৭ সালে প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে অস্কার পান বিন জাফর, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্যাটাগরিতে। তিনি আইস এজ মুভিতে কাজ করে এ পুরস্কার পান।

পুলিৎজার পুরস্কার

১৯১৭ সালে পুলিৎজার পুরস্কার চালূ হয়। যুক্তরাষ্ট্রের কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় পুলিৎজার পুরস্কার প্রদান করে।যুক্তরাষেট্রর সাংবাদিক জোসেফ পুলিৎজারের নাম অনুসারে এই পুরস্কারের নামকরণ করা হয়।সংবাদপত্রের সাংবাদিকতা, সাহিত্য এবং সঙ্গীত বিষয়ে অনন্য অবদানের জন্য এ পুরস্কার প্রদান করা হয়।

২০১৮ সালে সাংবাদিকতায় বিশ্বের সবচেয়ে সম্মানজনক পুলিৎজার পুরস্কার প্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের আলোকচিত্রী বাংলাদেশের মোহাম্মদ পনির হোসেন। গত গত ১৬ মে রয়টার্সের আলোকচিত্রী বিভাগ পুলিৎজার পুরস্কার লাভ করে। সেই বিভাগে বিজয়ী আলোকচিত্রীদের একজন মোহাম্মদ পনির হোসেন।

বিবিধ পুরস্কার

কান চলচ্চিত্র উৎসব ১৯৪৬ সালে কান চলচ্চিত্র উৎসব প্রথম চালু হয়। কান চলচ্চিত্র উৎসব অনুষ্ঠিত হয় ফ্রান্সের কান শহরে।
সার্ক  পুরস্কার ২০০৪ সালে সার্ক পুরস্কার প্রবর্তিত হয়। প্রথম সার্ক পুরস্কার পান শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান।
মিলেনিয়াম পিস প্রাইজ বিশ্ব শিান্তিতে নারীর অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ এ পুরস্কার দেওয়া হয়।২০০১ সালে এ পুরস্কার প্রবর্তিত হয়।
আগা খান পুরস্কার স্থাপত্য শিল্পে অবদানের জন্য আগা খান পুরস্কার প্রদান করা হয়।
শাখারভ পুরস্কার মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের সংগ্রামের অবদানের জন্য ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ‘শাখারভ পুরস্কার’ প্রদান করে।রাশিয়ার বিজ্ঞানি এনডিউ শাখারভের নামানুসারে পুরস্কারেনামকরণ করা হয়।
প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অফ ফ্রিডম যুক্তরাষ্টের সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার। বিশ্বশান্তি, সংস্কৃতি, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তায় অবদান রাখার জন্য এ পুরস্কার প্রদান করা হয়।
২০১৫ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরিবেশ বিষয়ক সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক পুরস্কার ‘চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ’ লাভ করেন।
তথ্য প্রযুক্তিতে অগ্রগতির স্বীকৃতি হিসেবে আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ সংস্থা (আইটিইউ) বাংলাদেশকে আইসিটি টেকসই উন্নয়ন পুরস্কারে ভূষিত করে।
২০১৫ সালে গুসি পুরস্কার লাভ করেন বাংলাদেশের কৃষি উন্নয়ন ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ শিরাজসহ মোট ১৯ জন। গুসি পুরস্কার দেয়া হয় ফিলিপাইন থেকে।