পর্বত ও মরুভূমি

Mountains of the world/ পর্বত

ভূপৃষ্ঠের বিস্তৃত এলাকা জুড়ে সুউচ্চ শিলাস্ত্তপকে পর্বত বলে। অধিক উচ্চতা ও খাড়া ঢাল এর বিশেষ বৈশিষ্ট্য। সাধারণত ৬০০-১০০০ মিটার উঁচু স্বল্প বিস্তৃত  শিলাস্ত্তপকে পাহাড় বলে। আর সমুদ্র পৃষ্ঠ হতে সুউচ্চে অবস্থিত ১০০০ মিটারের বেশি উচুঁ  বিস্তৃত  শিলাস্ত্তপকে পর্বত বলে।

পর্বতের শ্রেণীবিভাগ :

পবর্তকে বৈশিষ্ট্যর ভিত্তিতে চার ভাগে ভাগ করা যায়।যথা-

১) ভঙ্গিল পর্বত : ভূগর্ভের অভ্যন্তরীন প্রচন্ড চাপের কারণে ভূ-পৃষ্ঠের উপরিভাগে যদি ভাজের সৃষ্টি হয়ে কোথাও উচুঁ কোথাও নিচু ভূমিরূপের সৃষ্টি করে তাহলে ভাজ হওয়া উচুঁ ভূমিরূপটিকে ভঙ্গিল বা ভাজ পর্বত বলে।

উদাহরণ : হিমালয়, আল্পস, রকি, উরাল ইত্যাদি।

২) আগ্নেয় পর্বত : আগ্নেয়গিরির অগ্নোৎপাতের ফলে উদগিরিত লাভা জমা হয়ে যে পর্বতের সৃষ্টি হয়েছে তাকে আগ্নেয় পর্বত বলে। যেমন : জাপানের ফুজিয়ামা পর্বত, ইতালির ভিসুভিয়াস, কেনিয়ার কিলিমাঞ্জারো।

৩) চ্যুতি পর্বত : প্রচন্ড ভূ-আলোড়ন তথা ভূমিকম্পের ফলে যখন ভূ-পৃষ্ঠের কোন অংশ ধ্বসে নিচে নেমে যায় বা উপরে ওঠে যায় তখন যে উচুঁ উপরূপের সৃষ্টি হয় তাকে চ্যুতিস্ত্তপ পর্বত বলে। যেমন : জার্মামির ব্ল্যাক ফরেস্ট, পাকিস্থানের লবণ পর্বত।

৪) ল্যাকোলিথ পর্বত : ভূ-অভ্যন্তরস্থ গলিত লাভা প্রচন্ড উত্তাপ ও বাষ্পীয়চাপে উর্ধ্বমুখে উত্থিত হওয়ার সময় অভ্যন্তরে সঞ্চিত হয়ে ভূ-পৃষ্ঠকে উপরের দিকে ধাক্কা দিলে ভূ-পৃষ্ঠে গম্ভুজ আকৃতির ন্যায় যে উচুঁ ভূমিরূপের সৃষ্টি হয় তাকে ল্যাকোলিথ পর্বত বলে।

যেমন : যুক্তরাষ্টের হেনরি পর্বত।

পর্বতমালা : অনেকগুলো পর্বত সারিবদ্ধভাবে  একত্রিত হয়ে যে ভূমিরূপের সৃষ্টি হয় তাকে পর্বতমালা বলে।

  • পৃথিবীর উচ্চতম পর্বতশ্রেণী হিমালয় পর্বতমালা।
  • পৃথিবীর দীর্ঘতম পর্বতশ্রেণী আন্দিজ পর্বতমালা।

পর্বতশ্রেণী

পর্বত শ্রেণী অবস্থান তথ্য
আন্দিজ দক্ষিন আমেরিকা পৃথিবীর দীর্ঘতম পর্বতশ্রেণী
রকি পর্বতমালা  কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো
হিমালয় চীন ও নেপাল পৃথিবীর উচ্চতম পর্বতশ্রেণী
কারাকোরাম পাকিস্থান, ভারত, চীন
হিন্দুকুশ পাকিস্থান, আফগানিস্থান
ককেশাস আর্মনিয়া, আজারবাইজান, ইরান, জর্জিয়া, রাশিয়া তুরস্ক এশিয়া-ইউরোপ সীমান্তে অবস্থিত
আল্পস অস্ট্রিয়া,ইতালি, জার্মানি, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড, স্লোভেনিয়া ইউরোপ মহাদেশে
কারপেথিয়াম স্লোভেকিয়া, পোল্যান্ড, চেক প্রজাতন্ত্র, ইউক্রেন, রোমানিয়া
উরাল রাশিয়া এশিয়া-ইউরোপ সীমান্তে অবস্থিত
গ্রেড ডিভাবডিং রেঞ্জ অস্ট্রেলিয়া
অ্যাটলাস আলজেরিয়া, মরক্কো, তিউনেশিয়া
কারস্টেন পিরামিড/পুসাঁকজায়া (ইন্দোনেশিয়া) পাপুয়া

 

মহাদেশভিত্তিক সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ

পর্বতশৃঙ্গ পর্বতশ্রেণী দেশ মহাদেশ
মাউন্ট এভারেস্ট হিমালয় নেপাল এশিয়া
একাঙ্কারাগুয়া আন্দিজ আর্জেন্টিনা দক্ষিন আমেরিকা
মাউন্ট ম্যাককিনলি আলাস্কা যুক্তরাষ্ট্র উত্তর আমেরিকা
কিলিমাঞ্জারো তানজানিয়া আফ্রিকা
মাউন্ট ভিনসন সেন্টিনেল এর্ন্টাটিকা
মাউন্ট এলবুর্জ ককেশাস রাশিয়া ইউরোপ
মাউন্ট কোসিয়াস্কো গ্রেড ডিভাবাডিং রেঞ্জ অস্ট্রেলিয়া অস্ট্রেলিয়া

অন্যান্য পর্বতশৃঙ্গ

পর্বতশৃঙ্গ পর্বতশ্রেণী দেশ তথ্য
মাউন্ট এভারেস্ট হিমালয় নেপাল-তিব্বত (চীন) বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ। উচ্চতা : ৮৮৪৮ মি.।
গডউইন অস্টিন কারাকোরাম পাকিস্থান-চীন বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ। উচ্চতা : ৮৬১১ মি.।
কাঞ্চনজঙ্ঘা হিমালয় নেপাল-ভারত বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ। উচ্চতা : ৮৫৮৬  মি.।
ধবলগিরি নেপাল উচ্চতা : ৮১৬৭ মি.।
মাউন্ট এলবুর্জ রাশিয়া ইউরোপের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ।   উচ্চতা : ৫৬৪২ মি.।
ফুজিয়ামা জাপান জাপানের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ।     উচ্চতা : ৩৭৭৬ মি.।
মন্ট ব্ল্যাঙ্ক আল্পস ইতালি-ফ্রান্স পশ্চিম ইউরোপের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ।   উচ্চতা : ৪৮০৭ মি.।
কিলিমাঞ্জারো তানজিনিয়া আফ্রিকার সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ।     উচ্চতা : ৫৯৬৩ মি.।
ম্যাককিনলি আলাস্কা (যুক্তরাষ্ট্র) উত্তর আমেরিকার  সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ। উচ্চতা : ৬১৯৪ মি.।
অ্যাকঙ্কাগুয়া আর্জেন্টিনা দক্ষিন আমেরিকার  সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ। উচ্চতা : ৬৯৬২ মি.।
কারস্টেন পিরামিড (ইন্দোনেশিয়া) পাপুয়া ওশেনিয়ার সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ। অন্য নাম পুঁ চাক জায়া।                   উচ্চতা : ৪৮৯৭ মি.।
 কোসিয়াস্কো অস্ট্রেলিয়া অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ।  উচ্চতা : ২২২৮ মি.।
বেননেভিস যুক্তরাজ্য যুক্তরাজ্যের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ।  উচ্চতা : ১৩৪৪ মি.।
এডামস পিক শ্রীলংকা হিন্দু , মুসলমান এবং বৌদ্ধর্ধমাবল্বীদের তীর্থস্থান।     উচ্চতা : ২২৪৩ মি.।
  • মাউন্ট এভারেস্টের নেপালি নাম ‘সাগর মাতা’।তিব্বতি নাম ‘চেমোলুংমা’ এবং চীনা নাম ‘কোকোল্যাংমা’।
  • প্রথম এভারেস্ট বিজয়ী – এডমন্ড হিলারি (নিউজিল্যান্ড) এবং শেরপা (নেপাল)। প্রথম এভারেস্টের  শৃঙ্গে পা রাখেন এডমন্ড হিলারি, ১৯৫৩ সালের ২৯ মে।
  • এভারেস্ট শৃঙ্গে আহোরনকারী প্রথম নারী জুনকো তাবেঈ (জাপান)।
  • এভারেস্ট বিজয়ী প্রথম আরব মহিলা সুজেন আল হাবিব।
  • এভারেস্ট বিজয়ী প্রথম ভারতীয় অবতার সিং।
  • এভারেস্ট বিজয়ী প্রথম বাংলাদেশী মূসা ইব্রাহীম (২৩ মে,২০১০)।
  • এভারেস্ট বিজয়ী প্রথম বাংলাদেশী নারী নিশাত মজুমদার (১৯ মে, ২০১২)।
  • বাংলাদেশের এভারেস্ট বিজয়ীর সংখ্যা ০৫ জন।
  • সাত মহাদেশের সাত সবোর্চ্চ শৃঙ্গ জয়ীকারী একমাত্র ও প্রথম  বাংলাদেশী ওয়াসফিয়া নাজরীন।

গিরিপথ 

পার্বত্য অঞ্চলে পর্বতশ্রেণীর মধ্যবর্তী সংকীর্ণ ও অনুচ্চ পথকে গিরিপথ বলে।

গিরিপথ অবস্থান
সেন্টবার্নাড সুইজারল্যান্ড (আল্পস)
খাইবার পাকিস্থান-আফগানিস্থান
বোলান পাকিস্থান
শিপকা বুলগেরিয়া
আলপিনা (উচ্চতা : ৪১৩০ মি.) কলারাডো, যুক্তরাষ্ট্র
সালান  আফগানিস্থান

বিখ্যাত টানেল

 

গর্থাড টানেল : পশ্চিম ইউরোপের দক্ষিন-পূর্বাঞ্চলের কাছ থেকে উত্তরাঞ্চলকে পৃথক  করে রেখেছে আল্পস পর্বতমালা। ইতালির মিলানো থেকে সুইজারল্যান্ডের জুরিখে যাওয়ার জন্য আল্পসের উপর দিয়ে যে রাস্তা আছে তা দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে।এতে যেতে যেমন অনেক সময় লাগে তেমনি পরিবেশও হুমকির সম্মুখীন হয়।তাই সুইস প্রকৌশলীরা আল্পস পতর্বমালার ভিতর দিয়ে টানা ১৪ বছর ধরে খনন করে ২০১০ সালে ‘গর্থাড রেল সুরঙ্গ বা টানেল’ তৈরি করে যা পৃথিবীর দীর্ঘতম (৫৭ কি.মি.) ভূগর্ভস্থ রেল টানেল।এর কাজ পুরোপুরি শেষ হয় ২০১৭ সালে। েএর ফলে মিলান থেকে জুরিখে যেতে দেড় ঘন্টা কম সময় লাগবে।

চ্যানেল টানেল : পৃথিবীর তৃতীয় দীর্ঘতম (৫০.৫ কি.মি.) রেল সুড়ঙ্গ হলো ফ্রান্স ও বৃটেনকে সংযোগকারী (ইংলিশ চ্যানেলের নিচ দিয়ে নির্মিত) চ্যানেল টানেল।এই টানেলের ৩৭.৯ অংশ রয়েছে সমুদ্রের তলদেশে।এই টানেল নির্মাণ করে ইউরো টানেল নামে একটি প্রতিষ্ঠান।

টানেল মারমারে : পৃথিবীর সবচেয়ে গভীরতম ভূ-গর্ভস্থ রেল টানেল হলো মর্মর সাগরের নিচ দিয়ে নির্মিত টানেল মারমারে। এটি  পূর্ব ও পশ্চিম ইস্তাম্বুল শহরকে যুক্ত করেছে।এটি প্রথম ভূ-গর্ভস্থ টানেল যা দুটি মহাদেশকে যুক্ত করেছে।এটি ৮.৫ মাইল বা ১৩.৬ কি.মি. দীর্ঘ।

সেইকান টানেল : জাপানের রাজধানী টোকিও অবস্থিত হনসু দ্বীপে।আর হনসু দ্বীপটির সাথে হোককাইডো দ্বীপকে যুক্ত করেছে সারগাসো প্রণালির নিচ দিয়ে নির্মিত সেইকান রেল টানেল।এটি পৃথিবীর দ্বিতীয় দীর্ঘতম (৫৩.৮ কি.মি.) রেল সুড়ঙ্গ।

মালভূমি ও সমভূমি

মালভূমি : পর্বত থেকে নিচু কিন্তু সমভূমি থেকে উচুঁ বিস্তীর্ণ  সমতল ভূমিকে মালভূমি বলে। পৃথিবীর ছাদ বলে পরিচিত সবচেয়ে উচুঁ মালভূমি হচ্ছে চীনের পামির মালভূমি। পামির বলা হলেও শব্দটি মূলত পমির যার অর্থ  সূর্যের পা। এর উচ্চতা ৪৮১৩ মিটার।

সমভূমি : 

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচুঁ মৃদু ঢালবিশিষ্ট সবিস্তৃত ভূমিকে সমভূমি বলে।যেমন : কানাডার প্রেইরি অঞ্চল, মধ্য ইউরোপের সমভূমি (এটি পৃথিবীর বৃহত্তম সমভূমি), মধুপুর, ভাওয়ালগড়, বরেন্দ্রভূমি।

মরুভূমি

মরুভূমির নাম অবস্থান প্রকৃতি
সাহারা উত্তর আফ্রিকা (পৃথিবীর বৃহত্তম মরুভূমি হলো সাহারা মরুভূমি
আরব ইরাক,জর্ডান, কুয়েত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইয়েমেন
গোবি মঙ্গোলিয়া -চীন (এশিয়া সবচেয়ে বড় মরুভূমি গোবি মরুভূমি)
কালাহারি অ্যাঙ্গোলা, বতসোয়ানা, নামিবিয়া, দক্ষিন আফ্রিকা
পাতাগোনিয়া আর্জেন্টিনা, চিলি
গ্রেট ভিক্টোরিয়া  অস্ট্রেলিয়া
তাকলামান চীন
রাব আল খালী সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইয়েমেন, ওমান উষ্ণ
চিহুয়াহুয়ান মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র উষ্ণ
গিবসন অস্ট্রেলিয়া উষ্ণ
লাখাদ জম্মু ও কাশ্মীর, ভারত শীতল
দস্ত-ই-লুত  

ইরান

শীতল
দস্ত-ই-কাভির ইরান শীতল
দাহনা সৌদি আরব
  • ইউরোপে কোন মরুভূমি নেই।