প্রাচীন বাংলা

বাঙালি জাতির উৎপত্তি

The origin of the Bengali nation

 সমগ্র বাঙালি জাতিগোষ্ঠীকে দুইভাগে ভাগ করা যায়।যথা – প্রাক আর্য (অনার্য) এবং আর্য জনগোষ্ঠী।

The entire Bengali ethnic group can be divided into two groups namely – Pre-Aryan (Non-Arya) and Aryan populations.

আর্যপূর্ব জনগোষ্ঠী মূলত নেগ্রিটো, অস্ট্রিক, দ্রাবিড় ও ভোটচীনীয় এই চারটি শাখায় বিভক্ত ছিল। নিগ্রোদের মত দেহযুক্ত এক আদিম জাতি এদেশে বাস করত। এরাই ভীল, সাওতাল, মুন্ডা প্রভৃতি উপজাতীর পূর্ব পুরুষ।অস্ট্রিক জাতি থেকে বাঙালি জাতির প্রধান অংশ গড়ে উঠেছে বলে মনে করা হয়। কেউ কেউ তাদের ‘নিষাদ জাতি’ বলে মনে করেন। প্রায় পাঁচ হাজার বছর পূর্বে ইন্দোচীন হতে আসাম হয়ে বাংলায় প্রবেশ করে অস্ট্রিক জাতি নেগ্রিটোদের উৎখাত করে। অস্ট্রিক জাতির সময় কালে বা কি পরে দ্রাবিড় জাতি এদেশে আসে। তারা সভ্যতায় উন্নত বলে অস্ট্রিক জাতিকে গ্রাস করে। অস্ট্রিক-দ্রাবিড় জাতির সাথে মঙ্গোলীয় বা ভোটচীনীয় জাতির সংমিশ্রন গড়ে উঠে। গারো, ত্রিপুরা, চাকমা ইত্যাদি মঙ্গোলয়েড। অস্ট্রিক-দ্রাবিড় জনগোষ্ঠীর মিশ্রণে যে প্রবাহের সৃষ্টি তার সাথে আর্য জাতি যুক্ত হয়ে গড়ে উঠেছে বাঙালি জাতি।আর্যরা সনাতনী ধর্মের ছিল। তাদের আদি নিবাস ছিল ইউরাল পর্বতের দক্ষিনে বর্তমান মধ্য এশিয়া –ইরানে।অষ্টম শতাব্দীতে আরবীয়রা ইসলাম ধর্ম প্রচার ও বানিজ্যের মাধ্যমে বাঙালি জাতির সাথে সংমিশ্রিত হয়।নৃতাত্ত্বিকভাবে বাংলাদেশের মানুষ প্রধানত আদি অস্ট্রেলীয় নরগোষ্ঠীয়ভুক্ত।

The Native communities of Negrio, Austric, Dravidian and Vocational groups were divided into four branches.A primitive race inhabited in the country like Niggers. These are the eastern men of the tribe of Bhil, Saotal, Munda etc.It is believed that the main part of the Bengali nation was formed from the Austrians. Some people consider them as ‘Nishad Nation’.About five thousand years ago, the Austrians used to overthrow Negrittas by entering Assam through Bengal through Assam.The Dravidian nation came to the country during or after the Austric nation. They consolidate the Austrian nation as they develop in civilization. The Austrian-Dravidian nation is formed in combination with the Mongolian or the Voices of the Nation. Mangoids are Garo, Tripura, Chakma etc. The form of the flow of mixed mix of Austric-Dravidian people has formed the Aryan race with the Bengali nation. Aryan was of traditional religion. Their original home was at the southern part of the Ural mountain in central Asia-Iran. In the eighth century, the Arabs were amalgamated with the Bengali nation through propaganda and trade of Islam. Anthropogenic people of Bangladesh are mainly indigenous to indigenous Australians.

প্রাচীন বাংলার জনপদ

বাংলা নামে একটি অখন্ড দেশের জন্ম একদিনে হয়নি। এর যাত্রা শুরু হয় জনপদগুলোর মধ্য দিয়ে। গৌড়, বঙ্গ, পুন্ড্র, হরিকেল, সমতট, বরেন্দ্র এরকম প্রায় ষোলটি জনপদের কথা জানা যায়।

প্রাচীন জনপদ অবস্থান
পুন্ড্র ( সবচেয়ে প্রাচীনতম জনপদ) বৃহত্তর বগুড়া(মহাস্থানগড়), রাজশাহী, রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চল।রাজধানী ছিল পুন্ড্রুনগর যা বর্তমানে মহাস্থানগড়।
বরেন্দ্র রাজশাহী বিভাগের উত্তর-পশ্চিমাংশ, বগুড়ার পশ্চিমাংশ, রংপুর ও দিনাজপুরের কিছু অংশ।
বঙ্গ বৃহত্তর ঢাকা, ময়মনসিংহ ও ফরিদপুর।
সমতট বৃহত্তর কুমিল্লা ও বৃহত্তর নোয়াখালী। রাজধানী ছিল বড়কামতা যা বর্তমানে কুমিল্লার দেবীদ্বার থানায় অবস্থিত।
চন্দ্রদ্বীপ বরিশাল, পটুয়াখালী, বাগেরহাট, খুলনা ও গোপালগঞ্জ।
গৌড় মালদহ, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, বর্ধমান ও চাপাইনবাবগঞ্জ। রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ।
শ্রীহট্ট সিলেট অঞ্চল।
হরিকেল পার্বত্য সিলেট, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম।
তাম্রলিপি মেদেনীপুর জেলার তমলুকই ছিল তাম্রলিপি।
রাঢ় বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার দক্ষিন অংশ ছিল রাঢ়ের অবস্থান। রাঢ়ের অপর নাম সূক্ষ।রাজধানী কোটি বর্ষ।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাবলি

  • ঐতরেয় আরণক গ্রন্থে সর্বপ্রথম ‘বঙ্গ’ শব্দের উল্লেখ পাওয়া যায়।
  • মোগল সম্রাট আকবরের সভাকবি আবুল ফজল তাঁর ‘আইন-ই-আকবরি’ গ্রন্থে সর্প্রথম দেশবাচক বাংলা শব্দের ব্যবহার করেন। তিনি ‘বাংলা’ নামের উৎপত্তি সর্ম্পকে দেখান, এদেশের প্রাচীন নাম ‘বঙ্গ’ এর সাথে বাধঁ বা জমরি সীমানা সূচক ‘ আল’ যোগে ‘বাংলা’ শব্দ গঠিত হয়।
  • কলহনের ভারতীয় প্রাচীন ইতিহাস গ্রন্থ ‘রাজতরঙ্গিনী’ গ্রন্থে মৌর্য আমল হতে শুরু করে কাশ্মীরের রাজাদের কাহিনী বর্ণনা করা হয়েছে।
  • পাণিনি গ্রন্থে প্রথম ‘গৌড়’র উল্লেখ পাওয়া যায়।
  • কালিদাসের গ্রন্থে ‘বঙ্গ’ জনপদের উল্লেখ পাওয়া যায়।
  • প্রাচীন শিলালিপিত ‘বিক্রমপুর’ ও ‘নাব্য’ নামে বঙ্গের দুইটি অঞ্চলের উল্লেখ পাওয়া যায়। বতর্মান ফরিদপুর বরিশাল ও পটুয়াখালী নিম্ন জলাভূমি ছিল ‘নাব্যের’ অর্ন্তভুক্ত ।
  • বাকেরগঞ্জ বলতে বরিশাল, বাগেরহাট ও খুলনাকে বুঝায়
  • ইতিহাসের জনক প্রাচীন গ্রীসের হেরাডোটাস।
  • প্রাগৈতিহাসিক যুগ হলো পাথরের যুগ। পাথরের পরবর্তী যুগ ধাতুর যুগ।
  • বিশ্ব সভ্যতার যাত্রা শুরু হয় খিস্ট্রপূর্ব ৫০০০ অব্দে।
  • মৌর্যদের আমল হতে বাংলাকে সাম্রাজ্যভূক্ত করা হয় ও স্বাধীন বাংলা রাজ্যের গোড়াপত্তন হয়।বাংলার প্রথম স্বাধীন নরপতি হলো শশাঙ্ক।
  • বাংলার স্বাধীনতার সূচনা করেন ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ।
  • বাংলায় প্রথম নৌবাহিনী গড়ে তোলেন গিয়াসউদ্দিন আযম শাহ।
  • সমটতের রাজধানী ‘বড় কামতা’।

আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট

আলেকজান্ডার ছিলেন ম্যাসিডনের রাজা ফিলিপসের পুত্র।জাতিতে ছিলেন আর্য গ্রীক।বাল্যকালে তার শিক্ষিক ছিলেন বিখ্যাত গ্রীক দার্শনিক এরিস্টটল। সক্রেটিসের ছাত্র ছিলেন প্লেটো, প্লেটোর ছাত্র ছিলেন এরিস্টটল, আর এরিস্টটলের ছাত্র ছিলেন আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট। খ্রিস্টপূর্ব ৩৩৫ খ্রিস্টাব্দে তার বাবা ফিলিপসের মৃত্যু হলে তিনি সিংহাসনে বসেন।আলেকজান্ডার খ্রিস্টপূর্ব ৩২৭ অব্দে ভারতবর্ষ আক্রমণ করেন। খ্রিস্টপূর্ব ৩২৫ অব্দে ব্যাবিলনে তাঁর মৃত্যু হয়।আলেকজান্ডারের মৃত্যুর পর চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য উপমহাদেশে গ্রীক প্রাধান্যের অবসান ঘটান।

মৌর্য যুগ

চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য

ভারতীয় উপমহাদেশীয় প্রথম সাম্রাজ্যের নাম মৌর্য সাম্রাজ্য।চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য খ্রিস্টপূর্ব ৩২১ অব্দে মগদের সিংহাসনে বসেন। তিনি ভারতের প্রথম সম্রাট, পাটালিপুত্র ছিল তাঁর রাজধানী। চাণক্য ছিলো তাঁর প্রধানমন্ত্রী। চাণক্যের ছদ্মনাম ছিল কৌটিল্য, যা তিনি তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘অর্থশাস্ত্র’তে গ্রহন করেছেন। চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য আলেকজান্ডারের সেনাপতি সেলুউকসকে পরাজিত করে উপমহাদেশ হতে গ্রীকদের বিতাড়িত করেন।

সম্রাট অশোক

মৌর্য বংশের তৃতীয় সম্রাট ছিলেন অশোক।উত্তর বাংলায় মৌর্য  শাসন প্রতিষ্ঠিত হয় তাঁর রাজত্বকালে। মহাস্থানগড়ে সম্রাট অশোকের একটি শিলালিপি পাওয়া গেছে। তার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো ‘কলিঙ্গের যুদ্ধ’। এই যুদ্ধে কলিঙ্গরাজ সম্পূর্ন পরাজিত হয় এবং প্রায় ১ লক্ষ লোক মারা যায়। এই যুদ্ধের রক্তস্রোতের ভয়াবহতা তার মনে গভীর বেদনার সৃষ্টি করে। তখন তিনি তার কৃতকর্মের জন্য অনুশোচিত হয়ে বৌদ্ধ ধর্মে দীক্ষা নেন। তার চেষ্টায় বৌদ্ধধর্ম বিশ্বধর্মের মর্যাদা পায়। এজন্য তাকে বৌদ্ধধর্মের ‘কনস্যান্টটাই’ বলা হয়।

কনস্যান্টটাই ৩০৬ সালে রোমান সাম্রাজ্যের অধিপতি হন।তিনি ছিলেন খ্রিস্টান রোমান সম্রাট। তাঁর সময়ই খ্রিষ্টান ধর্ম সবচেয়ে বেশি প্রসার হয়। তিনি জেরুজালেমকে খ্রিস্টান ধর্মের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলেন।

  •  মৌর্য বংশের শেষ সম্রাট ছিলেন বৃহদ্রথ।
  • কলিঙ্গ জায়গাটি উড়িষ্যার একটি অংশ।
  • কৌটিল্যের আরেক নাম চাণক্য বা বিষ্ণুগুপ্ত। তার গ্রন্থ অর্থশাস্ত্রকে ইরেজিতে বলা হয় ‘Science of politics’।

গুপ্ত শাসন

গুপ্ত ‍যুগকে প্রাচীন ভারতীয় উপমহাদেশের স্বর্ণযুগ বলা হয়।এ সময় সাহিত্য, বিজ্ঞান ও শিল্পে খুবই উন্নতি হয়।

প্রথম চন্দ্রগুপ্ত

ভারতে গুপ্ত বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা প্রথম চন্দ্রগুপ্ত।তিনি ৩২০ সালে পাটালিপুরের সিংহাসনে আরোহণ করেন। গ্রীক সেনাপতি সেলিউকাস মেগাস্থিনিসকে দূত হিসেবে তার দরবারে প্রেরণ করেন।মেগাস্থিনিস ছিলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন পরিব্রাজক (পর্যটক)। তিনি কয়েক বছর এদেশে অবস্থান করে মৌর্য শাসন সর্ম্পকে তাঁর অভিজ্ঞতা ‘ইন্ডিক ‘ নামক গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করেন।

 সমুদ্রগুপ্ত

চন্দ্রগুপ্তেরে মৃত্যুর পর সমুদ্রগুপ্ত পাটালিপুত্রের (পাটনা) সিংহাসনে বসেন।তিনি ছিলেন গুপ্ত বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা।তাকে প্রাচীন ভারতের ‘নেপোলিয়ন’ বলা হয়। তাঁর সময়ে সমতট ছাড়া বাংলার অন্যান্য সব জনপদ গুপ্ত সাম্রাজ্যের অধীনে আসে। পুন্ড্রনগর ছিল বাংলার রাজধানী।

দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত

সমুদ্রগুপ্তের পর পাটালিপুত্রের (পাটনা) সিংহাসনে বসেন দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত। তার উপাধি ছিল ‘বিক্রমাদিত্য’। অনেক প্রতিভাবান ও গুণীব্যক্তি তার দরবারে সমবেত হয়েছিলেন। এদের মধ্যে প্রধান নয়জনকে ‘নবরত্ন’ বলা হত।তার সভায় আর্যভট্ট ও বরাহমিহির ছিলেন বিখ্যাত বিজ্ঞানী। আর্যভট্ট পৃথিবীর আহ্নিক ও বার্ষিক গতি নির্ণয় করেন। আর্যভট্টের গ্রন্থ ‘আর্য সিদ্ধান্ত’। বরাহমিহির ছিলেন একজন বিখ্যাত জ্যোর্তিবিদ।তার বিখ্যাত গ্রন্থ হলো ‘বৃহৎ সংহিতা’। ৬ষ্ঠ শতকের প্রথম দিকে মধ্য এশিয়ার দুর্ধর্ষ যাযাবর জাতি হুনদের আক্রমনে গুপ্তসাম্রাজ্য টুকরো টুকরো হয়ে।

  • মহাকবি কালিদাসের জন্ম গুপ্ত আমলে। তার গ্রন্থ শকুন্তলা, মেঘদূত, রঘু বংশ।
  • গুপ্ত বংশের আদি পুরুষ বলা হয় শ্রী গুপ্তকে।
  • ফা হিয়েন ২য় চন্দ্রগুপ্তের সময় ভারতবর্ষে আসেন । তিনি মধ্য এশিয়া, ভারত এবং শ্রীলংকা সফর করেন। তার গ্রন্থ ফো-কুয়ো-কিং।তিনি দশবছর ভারতে অবস্থান করেন। তার পরিভ্রমনের বিস্তারিত বৌদ্ধ ধর্ম পুস্তক ‘বিনায়াপিটকের’ এর মূল রচনা সংগ্রহ করা।
  • গৌতম বুদ্ধের জন্ম লুম্বিনী, নেপাল।

গৌড় শাসন

গুপ্ত রাজাদের অধীনে বড় কোন অঞ্চলের শাসনকর্তাকে বলা হয় ‘মহাসামন্ত’। শশাঙ্ক ছিলেন গুপ্তরাজা মহাসেন গুপ্তের একজন মহাসামন্ত। শশাঙ্ক গৌড়ের রাজা হয়েছিলেন ৬০৬ সালের কিছু আগে। তিনি প্রাচীন বাংলা জনপদগুলোকে ‘গৌড়’ নামে একত্রিত করেন। শশাঙ্কের উপাধি রাজাধিরাজ। তিনি বাংলার প্রথম স্বাধীন ও সার্বভৌম রাজা।শশাঙ্কের রাজধানী কর্ণসুবর্ণে। এটি বর্তমানে মুর্শিদাবাদ জেলায়। শশাঙ্কের অন্য নাম নরেন্দ্রগুপ্ত।

হর্ষবর্ধন

হর্ষবর্ধন পুষ্যভূতি এই বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা। তার সময় কৌনজ ছিল এদেশের রাজধানী। তাঁর সময়ের বিখ্যাত সাহিত্যিক হল বানভট্ট ।বানভট্টের বিখ্যাত গ্রন্থ হল ‘হর্ষচরিত্র’।

  • প্রাচীনকালে রাজারা তামার পাতে খুদাই করে বিভিন্ন ঘোষনা দিতেন। এগুলোকে তাম্রশাসন বলে। স্বাধীন বঙ্গরাজ্য আমলে এ রকম সাতটি তাম্রলিপি পাওয়া গেছে।
  • হিউয়েন সাঙ ছিলেন বিখ্যাত চীনা বৌদ্ধ ভিক্ষুক, পন্ডিত, পর্যটক এবং অনুবাদক। তিনি ৬৩০ সালের কোন এক সময় ভারতবর্ষে আসেন। হর্ষবর্ধনের দরবারে তিনি আট বছর কাটান। মহাস্থবির শীলভদ্র বৌদ্ধ শাস্ত্রের একজন শাস্ত্রজ্ঞ এবং দার্শনিক ছিলেন। তিনি নালন্দা বিহারের অধ্যক্ষ ছিলেন।হিউয়েন সাঙ ২২ বছর ধরে তার কাছ থেকে যাবতীয় শাস্ত্র  অধ্যয়ন করেন। এরপর ‘সিদ্ধি’ নামক গ্রন্থ রচনা করেন।
  • নালন্দা ভারতের বিহার রাজ্যে অবস্থিত একটি প্রাচীন উচ্চ শিক্ষাকেন্দ্র। প্রাচীন নালন্দা মহাবিহার রাজধানী পাটনা থেকে ৫৫ কি িদক্ষিন-পূর্বে অবস্থিত।এই মহাবিহার বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর একটি। এটি স্থাপিত হয়েছে গুপ্ত সম্রাট শক্রাদিত্যের (অপর নাম কুমার গুপ্ত) সময়।১১৯৩ সালে তুর্কি সেনাপতি বখতিয়ার খলজী নালন্দা মহাবিহার ধ্বংস করেন।১ সেপ্টেম্বর, ২০১৪ সালে এটি পুনরায় চালু করা হয়।

 

পাল বংশ

শশাঙ্কের পর দীর্ঘদিন বাংলায় যোগ্য শাসক ছিলেন না। সামন্ত রাজারা নিজেদের মধ্যে অস্ত্র নিয়ে ঝাপিয়ে পড়ে।এ অরাজকতার সময়কে পাল তাম্র শাসনে ‘মৎসোন্যায়’ আখ্যায়িত করা হয়।

গোপাল

৭৫৬ খ্রিস্টাদ্বে বাংলার অরাজক পরিস্থিতির অবসান হয় পাল রাজত্বের উত্থানে।পাল বংশের প্রথম রাজা গোপাল। বাংলায় প্রথম বংশানুক্রমিক শাসন হয় পাল শাসনের মধ্য দিয়ে।তারা প্রায় একটানা ৪০০ বছর রাজত্ব করেন।এতসময় ধরে আর কোন রাজবংশ বাংলা শাসন করতে পারেনি। তারা ছিলেন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী।

ধর্মপাল

পাল রাজাদের মধ্যে শ্র্রেষ্ঠ ছিলেন গোপালের ছেলে ধর্মপাল। তার সময়ে তিনটি রাজবংশ প্রতিযোগিতায় নামে যা ইতিহাসে ‘ত্রিশক্তি’ নামে পরিচিত। নওগাঁর পাহাড়পুরে অবস্থিত ‘সোমপুর বিহার’ নির্মাণ করেন ধর্মপাল।সোমপুর বিহারে আব্বাসীয় খলিফা হারুনর রশীদের সময়ের মুদ্রা রক্ষিত আছে।

প্রথম মহীপাল

রাজা মহীপাল দেবের সময় অংকিত নালন্দা মহাবিহারের ‘বৌদ্ধ-অনুচিত্র’ বাংলার প্রাচীনতম চিত্রকলার নির্দশন।

দ্বিতীয় মহীপাল

রাজা দ্বিতীয় মহীপালের রাজত্বকালে প্রথম সাধারন মানুষের অংশগ্রহনে বাংলায় বিদ্রোহ হয়। রাজা দ্বিতীয় মহীপালের শাসনামলে কৈবর্ত বিদ্রোহ হয়।কৈবর্ত বিদ্রোহ বা বরেন্দ্রী বিদ্রোহ বলতে পাল কর্মচারী দিব্যের নেতৃত্বে শুরু হওয়া কৈবর্ত সম্প্রদায়ের তৎকালীন দ্বিতীয় মহীপালের (১০৭০-১০৭৭) পাল সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে বিপ্লবকে বোঝানো হয়। এটিকে বাংলাদেশ এমনকি ভারতবর্ষের প্রথম সফল বিদ্রোহ হিসেবেও অভিহিত করা হয়। এই বিদ্রোহের মাধ্যমে কৈবর্ত নেতারা বরেন্দ্রীকে নিজেদের অধীনে আনতে সক্ষম হন। ১০৮২ খ্রিস্টাব্দে পাল রাজা রামপাল সামান্তরাজাদের সহযোগিতায় পরবর্তী কৈবর্ত নেতা ভীমকে হারিয়ে পিতৃভূমি বরেন্দ্রীকে নিজেদের দখলে আনতে সক্ষম হন। এর মাধ্যমে বাঙ্গালীদের প্রথম রাষ্ট্রবিপ্লবের সমাপ্তি ঘটে।কৈবর্ত বিদ্রোহকে অনেকে বরেন্দ্র বিদ্রোহ বলে অভিহিত করেন। হয়। এর ফলে রাজা দ্বিতীয় মহীপালের মৃত্যু হয়।

রামপাল

পালবংশের শেষ রাজা ছিলেন রামপাল।সন্ধাকর নন্দীর ‘রামচরিত’ গ্রন্থ হতে তার সর্ম্পকে জানা যায়।পানিকষ্ট দূর করতে তিনি অনেক দীঘি খনন করেন। দিনাজপুর শহরের নিকট ‘রামসাগর’ দীঘি তার অমর কীর্তি।

  • করমা বসাক হলো কুমিল্লা জেলার বড় কামতার প্রাচীন নাম।
  • কুমিল্লার আনন্দ বিহার নির্মান করেন আনন্দ দেব।
  • শালবন বিহার নির্মাণ করেন ভবদেব।
  • লালমাই পাহাড় লোহিতোগিরি নামে পরিচিত ছিল। চন্দ্র রাজাদের মূল কেন্দ্র ছিল এটি।

সেন বংশ

হেমন্ত সেন

সামন্ত সেন কর্ণাট থেকে বৃদ্ধ বয়সে বাংলায় আসেন। তিনি রাঢ় অঞ্চলের গঙ্গা নদীর তীরে বসতি স্থাপন করেন।বাংলায় সেন বংশের প্রতিষ্ঠাতা সামন্ত সেন হলেও রাজ্য স্থাপন না করায় সেন বংশের প্রথম রাজার মর্যাদা পায় তার ছেলে হেমন্ত সেন।

সেন বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা বিজয় সেন।

বল্লাল সেন বাংলায় কৌলিন্য প্রথা প্রবর্তন করেন। এটি হল ব্রাহ্মণ,বৈদ্য ও কায়স্থ এই তিন শ্রেনির মিশ্রন।

১২০৪ সালে ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ বখতিয়ার খলজি নদীয়ার বুড়ো রাজা লক্ষন সেনকে পরাজিত করলে সেন বংশের পতন ঘটে। সেন বংশের রাজারা ছিলেন হিন্দু। গৌড়েশ্বর উপাধি লক্ষণ সেনের।