ফররুখ আহমদ

ফররুখ আহমদ

ফররুখ আহমদ ১০ই জুন, ১৯১৮ সালে যশোরের (বর্তমান-মাগুরা) মাঝআইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।তিনি ছিলেন ইসলামি স্বাতন্ত্র্যবাদী কবি।তাঁকে ‘মুসলিম বা ইসলামি পুনর্জাগরণের কবি’ বলা হয়। দিনি তাঁর কবিতায় আরবি-ফারসি শব্দের প্রয়োগে নৈপুণ্য দেখান।বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অবস্থান ছিল মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে ও পাকিস্থানের অখন্ডতার বিরুদ্ধে।পাকিস্থান বেতার-টিভিতে রবীন্দ্রসঙ্গীত বন্ধের পক্ষে তিনি ছিলেন তবে রাষ্ট্রভাষা প্রশ্নে তিনি বাংলা ভাষার পক্ষে ছিলেন। ১৯৭৪ সালের ১৯ই অক্টোবর তিনি মারা যান।

ফররুখ আহমদ ১৯৬০ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৬৬ সালে ইউনেস্কো পুরস্কার(পাখির বাসা গ্রন্থের জন্য), ১৯৭৭ সালে মরণোত্তর একুশে পদক এবং ১৯৮০ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন।

কাব্যগ্রন্থ

তাঁর কাব্যগ্রন্থগুলো- সাত সাগরের মাঝি, হাতেমতায়ী, সিরাজাম মুনীরা, সিন্দাবাদ, মুহূর্তের কবিতা (সনেট সংকলন), নৌফেল ও হাতেম (কাব্যনাট্য)।

 

সাত সাগরের মাঝি: কবির প্রকাশিত প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ।মুসলিম জাগরণের লক্ষ্যে গ্রন্থের কবিতাগুলো লিখিত।ইসলামের ইতিহাস ও ঐতিহ্য কাব্যটির মূল বিষয়।এতে মোট ১৯টি কবিতা রয়েছে। উল্লেখযোগ্য কবিতা- সাত সাগরের মাঝি, পাঞ্জেরী, সিন্দাবাদ, আকাশ-নাবিক। এর মধ্যে ‘পাঞ্জেরী’ কবিতাটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।

 

শিশূতোষ- ‘পাখির ভাষা’। এই গ্রন্থের জন্য তিনি ‘ইউনেস্কো পুরস্কার পান।

বিখ্যাত পক্তি-

১. হে মাঝি! এবার তুমিও পেয়োনা ভয়,

   তুমিও কুড়াও হেরার পথিক তারকার বিস্ময়,

   ঝড়ুক এ ঝড়ে নারঙ্গীপাতা,

   তবু পাতা অগণন ভিড় করে (কবিতা- সাত সাগরের মাঝি)

২. মেঘ বৃষ্টি আলোর দেশে/নদী চলে জমিন ঘেষে (কবিতা – মেঘ বৃষ্টি আলোর দেশ)।