বাংলা উপন্যাসের ইতিহাস

উপন্যাসের ইতিহাস

 

কথা-সাহিত্য

কথা সাহিত্য বলতে উপন্যাস ও ছোটগল্পকে বুঝায়। উপন্যাস বলতে এমন একটি বিশেষ সাহিত্যকে বোঝায়; যাতে লেখকের জীবনদর্শন ও জীবনানুভূতি কোনো কোনো বাস্তব কাহিনী অবলম্বনে বর্ণনাত্নক শিল্পকর্মে রূপায়িত হয়।

 

উপন্যাস

 

বাংলা সাহিত্যে উপন্যাসের উদ্ভব মূলত উনিশ শতকের প্রথম দিকে এবং উদ্ভবের মূলে রয়েছে পাশ্চাত্য সাহিত্যের প্রভাব। কলিকাতা কমলালয়, নববাবুবিলাস, নববিবি বিলাস, ভবানীচরণ বন্দ্যাপাধ্যায় রচিত এই গ্রন্থগুলোকে উপন্যাস তৈরির প্রাথমিক প্রচেষ্টা হিসেবে ধরা হয়।কালগত দিক থেকে বাংলা সাহিত্যে প্রথম উপন্যাসের প্রয়াস হলো হ্যানা ক্যাথরিন ম্যালেন্সের ১৮৫২ সালে রচিত ‘ফুলমনি ও করুণার বিবরণ’।‘আলালের ঘরের দুলাল’ বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস ধরা হয়এর প্রধান চরিত্র ঠকচাচা। সমসাময়িক সমাজের রঙ্গরসাত্মক চিত্র বাংলা উপন্যাসের প্রাথমিক পর্যায়ে প্রাধান্য পেয়েছে।উপন্যাকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে।

ক. সমাজতাত্ত্বিক উপন্যাস

খ. ঐতিহাসিক উপন্যাস

গ. আঞ্চলিক উপন্যাস

ঘ. ব্যক্তিগত বা আত্মকেন্দ্রিক উপন্যাস

 

প্রথম ঔপন্যাসিক-প্যারীচাঁদ মিত্র

প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিক- স্বর্ণকুমারী দেবী

সার্থক ঔপন্যাসিক- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

 

প্যারীচাঁদ মিত্র

প্যারীচাঁদ মিত্র বাংলা সাহিত্যের প্রথম ঔপন্যাসিক।তিনি ১৮১৪ সালের ২২ জুলাই কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।।তাঁর ছদ্মনাম টেকচাঁদ ঠাকুর। তাঁর বিখ্যাত উপন্যাসগুলো- আলালের ঘরের দুলাল, আধ্যাত্মিকা ও অভেদী।

 

আলালের ঘরের দুলাল উপন্যাস বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস। এটি ১৮৫৭ সালে প্রকাশিত হয়। প্রধান চরিত্র ঠকচাচা। উপন্যাসটির ভাষা ‘আলালী ভাষা’ নামে পরিচিতি পেয়েছে।এটি ‘The Spoiled Child’ নামে ইংরেজীতে অনূদিত হয়েছে। তিনি চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের সমালোচনা করে লেখেন –The Zamindar and Royats.

তাঁর অন্যান্য গ্রন্থ-

প্রহসন: মদ খাওয়া বড়- জাত থাকার কি উপায়

প্রবন্ধ: বামারঞ্জিকা

তিনি ১৮৮৩ সালে ২৩ নবেম্বর মারা যান।

কালীপ্রসন্ন সিংহ

কালীপ্রসন্ন সিংহ ১৮৪০ সালে কলকাতার জোড়াসাঁকোয় জন্মগ্রহণ করেন।তিনি ছিলে ধনী জমিদার নন্দলাল সিংহের কেমাত্র পুএ। তাঁর ছদ্মনাম ‘হুতোম প্যাঁচা’।‘হুতোম প্যাঁচার নকশা’ এবং মহাভারতের অনুবাদ এই দিই কীর্তির জন্য তিনি বিখ্যাত হয়ে আছেন। ‘হুতোম প্যাঁচার নকশা’ (প্রধান চরিত্র-দনুবানু) একটি রম্য রচনা। কালীপ্রসন্ন অনুসৃত ভাষা রীতিকে ‘হুতোমী বাংলা’ বলা হয়। দীনবন্ধুর ‘নীল-দর্পণ’ ইংরেজিতে অনুবাদের দায়ে প্রকাশক রেভারেন্ড লঙ্ নামক এক পাদ্রিকে বিচারালয় এক হাজার টাকা জরিমানা করে। কালীপ্রসন্ন সিংহ বিচারালয়ে উপস্থিত হয়ে নিজে সেই অর্থ পরিশোধ করে পরোক্ষভাবে নীল বিদ্রোহে সমর্হন দেন।তিনি ১৮৭০ সালের ২৪ জুলই কলকাতায় মারা যান।