বারিমন্ডল

‘Hydrosphere’ এর বাংলা প্রতিশব্দ বারিমন্ডল। ‘Hydro’শব্দের অর্থ পানি এবং ‘sphere’ শব্দের অর্থ মন্ডল। পৃথিবীর মোট জলরাশির ৯৭ ভাগ পানি রয়েছে সমুদ্রে।

মহাসাগর

বারিমন্ডলের উন্মুক্ত বিস্তীর্ণ বিশাল লবনাক্ত জলরাশিকে মহাসাগর (Ocean) বলে। সবচেয়ে বড় মহাসাগর প্রশান্ত মহাসাগর।

মহাসাগরের আয়তন, গভীরতা

মহাসাগর (Ocean)

আয়তন (বর্গ কিঃমিঃ) গভীরতা (মিটার) গভীরতম স্থান

অবস্থান

প্রশান্ত মহাসাগর ১৬ কোটি ৬০ লক্ষ ৪,২৭০ ম্যারিয়ানা ট্রান্স

আমেরিকা ও এশিয়ার মধ্যবর্তী স্থান

আটলান্টিক মহাসাগর ৮ কোটি ২৪ লক্ষ ৩,৯৩২ পোর্টোরিকো ট্রান্স আমেরিকা, ইউরোপ, আফ্রিকা
ভারত মহাসাগর ৭ কোটি ৩৬ লক্ষ ৩,৯৬২ সুন্দা ট্রান্স আফ্রিকা,ভারত ও অস্ট্রেলিয়া
দক্ষিন মহাসাগর ১ কোটি ৫০ লক্ষ ৮২৪ এন্টার্কটিকা ও ৬০ দক্ষিন অক্ষাংশের মধ্যবর্তী
উত্তর মহাসাগর ১ কোটি ৪৭ লক্ষ ১৪৯ পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধ
  • মহাসাগর অপেক্ষা স্বল্প আয়তন বিশিষ্ট জলরাশিকে সাগর বলে।
  • তিনদিকে স্থলভাগ দ্বারা পরিবেষ্টিত এবং একদিকে জল তাকে উপসাগর বলে।
  • চারদিকে স্থলভাগ দ্বারা বেষ্টিত বিশাল জলভাগকে হ্রদ বলে।
  • সবচেয়ে ছোট মহাসাগর হলো আর্কটিক মহাসাগর বা উত্তর মহাসাগর। একে সুমেরু মহাসাগরও বলা হয়। (৯ম -১০ম বইয়ে দক্ষিন মহাসাগর দেয়া হলেও তা ভূল।)
  • শান্ত সাগরের চাঁদে অবস্থিত।

সমুদ্রতলের ভূমিরূপ

ভূপৃষ্ঠের উপরিভাগের মত সমুদ্র তলদেশও অসমান।শব্দ তরঙ্গের সাহায্যে সমুদ্রের গভীরতা মাপা হয়। এ শব্দতরঙ্গ প্রতি সেকেন্ডে পানির মধ্য দিয়ে প্রায় ১,৪৭৫ মিটার নিচে যায় এবং ফিরে আসে। ফ্যাদোমিটার (Fathometer) যন্ত্রটি দ্বারা সমুদ্রের গভীরতা মাপা হয়। সমুদ্রের তলদেশের ভূমিরূপকে পাঁচটি ভাগে বিভক্ত করা হয়।

১) মহীসোপান (Continental Shelf)

২) মহীঢাল (Continental slope)

৩) গভীর সমুদ্রের সমভূমি (Deeo sea plains)

৪) নিমজ্জিত শৈলীশিলা (Oceanic ridges)

৫) গভীর সমুদ্রখাত (Oceanic trench)

মহীসোপানঃ

পৃথিবীর মহাদেশসমূহের চারদিকে স্থলভাগের কিছু অংশ অল্প ঢালু হয়ে সমুদ্রের পানির মধ্যে নেমে গেছে। এরূপে সমুদ্রের উপকূল রেখা থেকে তলদেশ ক্রমনিম্ন নিমজ্জিত অংশকে মহীসোপান বলে। মহীসোপানের সমুদ্রের পানির সর্বোচ্চ গভীরতা ১৫০ মিটার। এটি ১কোণে সমুদ্র তলদেশে নিমজ্জিত থাকে। এর গড় প্রশস্থতা ৭০ কিঃমিঃ এবং সবচেয়ে উপরের অংশকে ঢাল বলে।

  • পৃথিবীর বৃত্ততম মহীসোপান ইউরোপের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত।২য় বৃত্ততম মহীসোপানের অবস্থান উত্তর আমেরিকার পূর্ব উপকূলে।
মহীঢালঃ

মহীসোপানের শেষ সীমা থেকে ভূভাগ হঠ্যৎ খাড়াভাবে নেমে সমুদ্রের গভীর তলদেশের সাথে মিশে যায়। এ ঢালু অংশকে মহীঢাল বলে। এর গড় গভীরতা ২০০ থেকে ৩০০০ মিটার।

গভীর সমুদ্রের সমভূমিঃ মহীঢাল শেষ হত্তয়ার পর থেকে সমুদ্র তলদেশে যে বিস্তৃত সমভূমি দেখা যায় তাকে গভীর সমুদ্রের সমভূমি বলে। এর গড় গভীরতা ৫০০০ মিটার। এটি সমভূমি নামে খ্যাত হলেত্ত প্রকৃতপক্ষে তা বন্ধুর।

নিমজ্জিত শৈলশিরাঃ সমুদ্রের অভ্যন্তরে অনেকগুলো আগ্নেয়গিরি অবস্থান করছে। ঐ সব আগ্নেয়গিরির থেকে লাভা বেরিয়ে এসে সমুদ্রগর্ভে সঞ্চিত হয়ে শৈলশিরার ন্যায় ভূমিরূপ গঠন করেছে। এগুলো নিমজ্জিত শৈলশিরা নামে খ্যাত।

গভীর সমুদ্রখাতঃ

গভীর সমুদ্রের সমভূমি অঞ্চলের মাঝে মাঝে গভীর খাত দেখা যায়। এগুলো হলো গভীর সমুদ্রখাত।

  • প্রশান্ত মহাসাগরে গভীর সমুদ্রখাতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।প্রশান্ত মহাসাগরের ম্যারিয়ানা খাত (Marina Trench) পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা গভীর সমুদ্রখাত।এর গভীরতা প্রায় ১০,৮৭০ মিটার। ২য় গভীরতম আটলান্টিক মহাসাগরের পোর্টেরিকো খাত ৮,৩৫৮ মিটার। ভারত মহাসাগরের গভীরতম খাত সুন্দা খাত।

সমুদ্রস্রোত (Ocean Current)

সমুদ্রস্রোতের প্রধান কারণ বায়ূপ্রবাহ। সমুদ্রের স্রোত একটি নির্দিষ্ট গতিপথ অনুসরণ করে চলাচল করে। একে সমুদ্রস্রোত বলে। উষ্ণতার তারতম্য অনুসারে সমুদ্রস্রোতকে দুইভাগে ভাগ করা হয়। যথা-

ক) উষ্ণ স্রোত

খ) শীতল স্রোত

উষ্ণ স্রোত

নিরক্ষীয় অঞ্চলে তাপমাত্রা বেশি হত্তয়ায় জলরাশি হালকা হয় ও হালকা জলরাশি সমুদ্রের উপরিভাগ দিয়ে পৃষ্ঠপ্রবাহরূপে শীতল মেরু অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়। এরূপ স্রোতকে উষ্ণস্রোত বলে।

শীতল স্রোত

মেরু অঞ্চলের শীতল ও ভারী জলরাশি জলের নিচের অংশ দিয়ে অন্তঃপ্রবাহরূপে নিরক্ষীয় উষ্ণমন্ডলের দিকে প্রবাহিত হয়।এরূপ স্রোতকে শীতল স্রোত বলে।

সমুদ্রস্রোতের কারণ

  • নিয়ত বায়ুপ্রবাহই সমুদ্রস্রোত সৃষ্টির প্রধান কারণ। এরজন্যই প্রধানত সমুদ্রস্রোতের দিক ও গতি নিয়ন্ত্রিত হয়।
  • পৃথিবীর আহ্নিক গতির ফলে।
  • সমুদ্রজলের তাপমাত্রার পার্থক্যের কারনে সমুদ্রস্রোত হয়।
  • মেরু অঞ্চলের সমুদ্রে বরফের গলনের ফলে।
  • সমুদ্রের গভীরতার তারতম্যের কারণে।
  • লবনাক্ততার পার্থক্যের ফলে।

জোয়ার-ভাটা (High Tide and Low Tide)

সমুদ্র এবং উপকূলবর্তী নদীর জলরাশি ধীরে ধীরে ফুলে উঠে এবং কিছুক্ষন পরে আবার তা ধীরে ধীরে নেমে যায়। জলরাশির এরকম নিয়মিত স্ফীতি এবং ফুলে ওঠাকে জোয়ার এবং নেমে যাত্তয়াকে ভাটা বলে। জোয়ার-ভাটা দুই কারনে হয়।

১) চাঁদ ও সূর্যের মহাকর্ষ শক্তির প্রভাব

২) পৃথিবীর আর্বতনের ফলে উৎপন্ন কেন্দ্রাতিত শক্তির জন্য।