বিদ্যাপতি

বিদ্যাপতি

মিথিলার কবি বা মৈথিল কোকিল বিদ্যাপতি বৈষ্ণব পদাবলির গুরুস্থানীয় রচয়িতা।তিনি মিথিলার সীতামারী বিসফি গ্রামে আনুমানিক ১৩৭৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর উপাধি হল ‘কবিকন্ঠহার’।বিদ্যাপতি মিথিলার রাজসভার মহাকবি। মিথিলার রাজার নাম ছিল শিবসিংহ।বিদ্যাপতি বাংলা ভাষায় কোন কবিতা রচনা করেননি।কিন্তু তাঁকে অত্যন্ত মর্যাদাবান কবি বলা হয়।তিনি লিখতেন বজ্রবুলি নামক একটি বানানো ভাষায়। এ ভাষায় আছে হিন্দি, বাংলা এবং সংস্কৃত বা প্রাকৃত শব্দ।বিভিন্ন শ্রেণীর শব্দের মিশ্রনে অবাক করা এক মধুর ভাষা ব্রজবুলি ভাষা।এ ভাষাতে তিনি বৈষ্ণব পদাবলি কবিতা রচনা করেন। তিনি বেঁচে ছিলেন পঞ্চদশ শতকে।তখন মিথিলা ছিলো জ্ঞান ও সাহিত্যচর্চা কেন্দ্র।বাংলার ছেলেরা তখন জ্ঞানার্জনের জন্য মিথিলায় যেতেন এবং বুক ভরে নিয়ে আসতেন বিদ্যাপতির মধুর কবিতাবলি।এভাবে বিদ্যাপতির কবিতা হয়েছে বাংলা কবিতা এবং তিনি হয়েছেন বাংলার কবি। তিনি আনুমানিক ১৪৬০ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

 

বিদ্যাপতি সংস্কৃত ভাষায় রচনা করেন ‘পুরুষপরীক্ষা’ নামে একটি বই।বিদ্যাপতি এ জাতীয় আরো বই রচনা করেন। এগুলো হল – কীর্তিলতা, গঙ্গাবাক্যাবলী, বিভাগসার।বিদ্যাপতির অমর উক্তি গুলো-

এ সখি হামারি দুখের নাহি ওর।

এ ভরা বাদর   মাহ ভাদর

    শূণ্য মন্দির মোর।