ব্যক্তিত্ব

ব্যক্তিত্ব

হাজী মুহম্মদ মহসীন

হাজী মুহম্মদ মহসীন ১৭৩২ সালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার এক সম্ভ্রান্ত ও ধনী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।তার বাবার নাম ফয়জুল্লাহ ও মা জয়নাব খানম। পিতৃসম্পত্তি পরলোকগত বোন মুন্নুজানের সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয়ে তিনি বিশাল সম্পত্তির অধিকারী হন। তবে এত বিশাল সম্পত্তির অধিকারী হয়েও তিনি অনাড়ম্বর জীবনযাপন করতেন। তিনি চিরকুমার ছিলেন।গরীব মেধাবী ছাত্রদের জন্য তিনি ‘মহসীন ট্রাস্ট’ গঠন করেন। দানশীলতার জন্য তিনি ‘দানবীর’ বা ‘বাংলার হাতেম তাই’ নামে পরিচিত। এ দানশীল ও পরোপকারী ব্যক্তি ১৮১২ সালে পরলোকগমন করেন।

 

রাজা রামমোহন রায়

 

 

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

 

 

স্যার সৈয়দ আহমদ খান

ভারতের মুসলিম জাগরণের প্রথ অগ্রদূত স্যার সৈয়দ আহমদ খান। তিনি ১৮১৭ সালের ১৭ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন।মুসলমানদের মধ্যে রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ইত্যাদি সকল ক্ষেত্রেই প্রগতিশীল ভাবধারা গড়ে তোলার জন্য স্যার সৈয়দ আহমদ খান যে আন্দোলন গড়ে তোলেন তা ‘আলীগড় আন্দোলন’ নামে পরিচিত।তিনি মুসলমানদের মধ্যে পাশ্চাত্য ভাবধারা প্রচারের উদ্দেশ্যে ১৮৭৫ সালে আলীগড়ে ‘মোহামেডান অ্যাংলো ওরিয়েন্টাল কলেজ’ প্রতিষ্ঠান করেন।কলেজটি ১৯২০ সালে ‘আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়’ এ উন্নীত হয়। আলীগড় ভারতের উত্তর প্রদেশে অবস্থিত একটি বিখ্যাত জেলা।

 

নওয়াব আব্দুল লতিফ

 

নওয়াব আব্দুল লতিফ ১৮২৮ সালে ফরিদপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।মুসলমানদের মধ্যে আধুনিক শিক্ষার প্রচলনের জন্য তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।১৮৬৩ সালে কলকাতায় মুসলিম সাহিত্য সমাজ (মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি) প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর প্রচেষ্টায় কলকাতা মাদ্রাসায় (বর্তমান নাম আলিয়া মাদ্রাসা) ইংরেজী বিভাগ খোলা হয়েছে। মুসলমান সমাজের প্রতি তাঁর অবদানের জন্য সরকার তাঁকে ‘খান বাহাদুর’ ও ‘নওয়াব’ উপাধি প্রদান করেন। ১৮৯৩ সালে তিনি ইন্তেকাল করেন।

 

সৈয়দ আমীর আলী(Syed Amir Ali)

 

সৈয়দ আমীর আলী ১৮৪৯ সালের ৮ এপ্রিল হুগলি জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।মুসলমানদের বিভিন্ন অধিকার আদায়ের জন্য ১৮৭৭ সালে কলকাতা সেন্ট্রাল ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন (Central National Mohamedan Association)নামে একটি প্রতিষ্ঠান গঠন করেন। সৈয়দ আমীর আলী ভারতীয় মুসলিমদের রাজনৈতিক আন্দোলনের পথপ্রদর্শক। তাঁর প্রতিষ্ঠিত সমিতি ছিল মুসলমানদের প্রথম রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান।তিনি ১৯০৯ সালে লন্ডনে প্রিভি কাউন্সিলের সদস্যপদ লাভ করেন। সৈয়দ আমীর আলী ভারতীয়দের মধ্যে প্রথম এ সম্মানের অধিকারী হন। তিনি ‘The spirit of Islam, A Short story of Saracens, Life and Teaching of the Prophet’ প্রভৃতি গ্রন্থ রচনা করেন।

 

(বেগম রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেন)Roquia Sakhawat Hussain

 

রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেন ১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুর জেলার পায়রাবন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।বাংলাদেশের নারী শিক্ষা প্রসারে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।তিনি ১৯১১ সালে কলকাতায় ‘সাখাওয়াৎ মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল’ প্রতিষ্ঠা করেন।নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘আঞ্জুমান খাওয়াতিনে ইসলাম’। তার নামানুসারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রোকেয়া ছাত্রীনিবাস নামকরণ করা হয়। ১৯৩২ সালে তিনি মারা যান।

নওয়াব ফয়জুন্নেছা চৌধুরাণী

বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের প্রথম অগ্রদূত নওয়াব ফয়জুন্নেছা চৌধুরাণী ১৮৩৪ সালে কমিল্লার লাকসামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন উপমহাদেশের প্রথম মহিলা নওয়াব।নারী শিক্ষা প্রসার ও সামাজিকবিভিন্ন কর্মকান্ডের জন্য স্বীকৃতি এশিয়ার প্রথম এবং একমাত্র মুসলিম নারী হিসেবে ব্রিটেনের মহারানী ভিক্টোরিয়া কর্তৃক ১৮৭৩ সালে ‘নওয়াব’ উপাধি লাভ করেন। ১৮৭৩ সালে কুমিল্লায় প্রতিষ্ঠা করেন ফয়জুন্নেছা উচ্চ ইংরেজী বিদ্যালয় তিনি ছিলেন সাহিত্যনুরাগী। তার কাব্য গ্রন্থ রুপজালাল। তিনি মুসলিম নারী জাগরনের কবি।তিনি ১৯০৩ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

 

অমর্ত্য সেন

অমর্ত্য সেন ১৯৩৩ সালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের শান্তিনিকেতনে জন্মগ্রহণ করেন।তাঁর পৈতৃক বাড়ি বাংলাদেশের মানকগঞ্জে।তিনি দুর্ভিক্ষ, মানব উন্নয়তত্ত্ব, জনকল্যাণ অর্থনীতি ও গণদারিদ্রের বিষয়ে গভেষার জন্য ১৯৯৮ সালে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পান। অমর্ত্য সেন কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক।তিনি বর্তমানে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য। নোবেল পুরস্কার বিজয়ীর দিক থেকে তিনি দ্বিতীয় বাঙালী, উপমহাদেশের ষষ্ঠ এবং এশীয়দের মধ্যে ২২তম। তিনি অর্থনীতিতে এশীয়দের মধ্যে প্রথম নোবেলজয়ী।তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ-‘Poverty and Famine’, ‘The Idea of Justice’, ‘Identity and Violence: The illusion of destiny’।

 

ড.মুহাম্মদ ইউনুস

 ড.মুহাম্মদ ইউনুস প্রথম ও একমাত্র বাংলাদেশী নোবেল বিজয়ী ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদ। তিনি চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার বাথুয়া গ্রামে ১৯৪০ সালে জন্মগ্রহণ করেন।তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিষয়ে শিক্ষক ছিলেন।তিনি ক্ষুদ্র ঋণ এবং ‘সামাজিক ব্যবসা’ ধারনার প্রবর্তক। ড.মুহাম্মদ ইউনুস এবং তাঁর প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংক ২০০৬ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন।নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তির দিক থেকে তিন প্রথম বাংলাদেশী, তৃতীয় বাঙালি, উপমহাদেশের সপ্তম, মুসলিম হিসেবে ১১তম এবং ৩৩ তম এশীয়।শান্তিতে নোবেল বিজয়ী তিনি ২য় দক্ষিণ এশীয়।তিনি ১৯৭৮ সালে প্রেসিডেন্ট পুরস্কার, ১৯৮৪ সালে ম্যাগসেসে পুরস্কার, ১৯৮৬ সালে ইউনেস্কো পুরস্কার এবং ২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক পদক ‘মেডেল অব ফ্রিডম’ লাভ করেন।তাঁর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘দারিদ্র্যহীন বিশ্বের অভিমুখে’ এবং ‘Banker to the Poor’।

 

 

আবুল কাশেম ফজলুল হক

শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক ১৮৭৩ সালের ২৬ অক্টোবর ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর থানার সাতুরিয়া গ্রামে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম কাজী মুহম্মদ ওয়াজেদ এবং মাতার নাম সাইদুন্নেসা খাতুন। তিনি ছিলেন তাঁদের একমাত্র পুত্র।রাজনৈতিক মহল এবং সাধারণ মানুষের কাছে তিনি শেরে-এ-বাংলা (বাংলার বাঘ) নামে পরিচিত ছিলেন।তিনি রাজনৈতিক অনেক পদে অধিনস্থ ছিলেন তাঁর মধ্যে কলকাতার মেয়র, অবিভক্ত বাংলার প্রথম মূখ্যমন্ত্রী, পূর্ব পাকিস্থানের প্রধানমন্তী, পাকিস্থানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পূর্ব পাকিস্থানের গভর্নর অন্যতম।১৯৬২ সালের ২৭ এপ্রিল তিনি ৮৮ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।

 

হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী

হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী বিখ্যাত বাঙ্গালি রাজনীতিদ ও আইনজীবী ছিলেন। ১৮৯২ সালের ৮ সেপ্টেম্বর তিনি পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুরে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।তিনি ছিলেন কলকাতা হাইকোটের একজন বিখ্যাত উকিল। তিনি রাজনৈতিক অনেক পদে অধিনস্থ ছিলেন তাঁর মধ্যে কলকাতার ডেপুটি মেয়র, অবিভক্ত বাংলার শেষ মূখ্যমন্ত্রী, নিখিল পাকিস্থান আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, পাকিস্থানের প্রধানমন্ত্রী অন্যতম।১৯৬৩ সালের ৫ ডিসেম্বর তিনি লেবাননের রাজধানী বৈরুতে মৃত্যুবরণ করেন।

 

মওলানা আবদুল হামীদ খান ভাসানী

আবদুল হামীদ খান ভাসানী একজন বিখ্যাত রাজনীতীবিদ। তিনি ১৮৮০ সালে সিরাজগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। দেশের মানুষের কাছে তিনি ‘মজলুম জননেতা’ হিসেবে পরিচিত। তিনি পূর্ব পাকিস্থানের আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপনি হিসেবে নির্বাচিত হন।তিনি ছিলেন যুক্ত ফ্রন্টের অন্যতম নেতা। ১৯৫৭ সালের কাগমারী সম্মেলনে তিনি বক্তৃতা করেন। তিনি ১৯৫৭ সালে ন্যাসনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) গঠন করেন।তিনি রাজনৈতিক জীবনের বেশিরভাগ সময় বামপন্থী (মাও সে তুং) ধারার রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। এজন্য তাঁকে অনেকে ‘লাল মাওলানা’ নামেও ডাকতেন। ১৯৭৬ সালের ১৬ মে ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের প্রতিবাদে ঐতিহাসিক লংমার্চের নেতৃত্ব দেন তিনি। ১৯৭৬ সালে তিনি পরলোক গমন করেন। টাঙ্গাইলের সন্তোষে তাঁকে দাফন করা হয়।

 

কর্নেল আবু তাহের

কর্নেল আবু তাহের একজন বাংলাদেশী মুক্তিযোদ্ধা এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) নেতা ছিলেন।তিনি মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১১নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার ছিলেন। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাসনামলে এক হত্যা মামলায় সামরিক আদালতে তাকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয় এবং ১৯৭৬ সালের ২১ জুলাই ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে তাহেরকে ফাঁসি দেওয়া হয়।

 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান

প্রায় ৩০০ বছর পূর্বে ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে শেখ বংশের আদি পুরুষ শেখ আওয়াল চট্টগ্রামে আসেন।তিনি ধর্ম প্রচারের জন্য চট্টগ্রাম হতে সোনারগাঁও যান। সেখানে বিয়ে করে বসতি স্থাপন করেন। শেখ আওয়ালের ছেলে শেখ জহির উদ্দিন কলকাতায় ব্যবসা করতেন।ব্যবসায়ের কারনে বাংলার বিভিন্ন জায়গার সাথে তাঁর পরিচিতি ছিলো। শেখ জহির উদ্দিন ফরিদপুরের কান্দিপাড়ে খন্দকার পরিবারে বিয়ে করেন। এভাবে ফরিদপুরে শেখ বংশের আবির্ভাব হয়্ বঙ্গবন্ধু এই বংশের উত্তরসূরি। বঙ্গবন্ধুর পিতার নাম শেখ লুৎফুর রহমান এবং মাতা শেখ সাহারা খাতুন। শেখ লুৎফুর রহমান গোপালগঞ্জের দেওয়ানী আদালতের সেরেস্তাদার ছিলেন।সেরেস্তাদারের কাজ হলো দেওয়ানী মামলার নথিপত্র সংরক্ষন করা। বঙ্গবন্ধু ১৯২০ সালের ১৭ই মার্চ (বাংলা ১৩২৭ সনের ২০ চৈত্র) মঙ্গলবার রাত ৮টায় টুঙ্গীপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর ডাকনাম খোকা।তাঁর নানা শেখ আব্দুল মজিদ তাঁর নাম রাখেন শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধু প্রথমে গিমাডাঙ্গা স্কুলে তৃতীয় শ্রেনীতে ভর্তি হন, এটা ছিল তাঁর প্রথম স্কুল।১৯৩৪ সালে গোপালগঞ্জের পাবলিক স্কুলে ৭ম শ্রেণিতে পড়া অস্থায় তার বেরিবেরি রোগ ধরা পড়ে।তাকে চিকিৎসার জন্য কলকাতায় নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসার জন্য তাঁর দুইবছর লেখা পড়া বন্ধ ছিল।১৯৩৬ সালে তাঁর বাবা মাদারীপুর দেওয়ানী আদালতে বদলি হয়ে আসেন। তিনি শেখ মুজিবকে মাদারীপুর হাই স্কুলে ভর্তি করান।এই সময়ে শেখ মুজিববের বাম চোখে ‘গ্লুকোমা’ রোগ ধরা পড়ে। চিকিৎসার জন্য তিনি আবার কলকাতায় যান।ডাক্তার টি. আহমেদ তাঁর চোখের অপারেশন করেন।তখন থেকে বঙ্গবন্ধু চশমা পরা শুরু করেন।১৯৩৭ সালে তাঁকে গোপালগঞ্জের মিশন স্কুলে ভর্তি করানো হয়। এ সময় কাজী আব্দুল হামিদ এমএসসি কে তাঁর গৃহ শিক্ষক করা হয়।শেখ মুজিব হামিদ স্যারের কাছ থেকে বিপ্লবীদের কথা শুনতেন। ইংরেজ বিরোধী সশস্ত্র আন্দোলন ও ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের কাহিনী শনে রাজনীতিতে অংশগ্রহণে অনুপ্রাণিত হন।এক কথায় বলতে গেলে তাঁর গৃহ শিক্ষক হামিদ স্যারের কাছ থেকে তিনি রাজনীতির প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। বঙ্গবন্ধুর প্রিয় খেলা ছিল ফুটবল ও ভলিবল।স্কুলজীবনে তিনি গোপালগঞ্জ ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের হয়ে ফুটবল খেলতেন।

১৯৩৮ সালে অবিভক্ত বাংলার প্রথম মূখ্যমন্ত্রী শেরে বাংলা এবং বাণিজ্য ও পল্লীমন্ত্রী হোসেন সোহরাওয়ার্দী গোপালগঞ্জে আসেন।তাঁরা গোপালগঞ্জ মাঠে কৃষি মেলার উদ্বোধন করেন।এসময় মুসলীমলীগ নেতাদের সংবর্ধনার ব্যবস্থা করলে কংগ্রেস তাঁদের বিরোধিতা করেন। শেখ মুজিব ছাত্রদের নিয়ে সংবর্ধনায় অংশ নেন।মন্ত্রীর যাওয়ার সময় শেখ মুজিব তাঁদের সামনে গিয়ে দাঁড়ান। ছাত্রাবাসের সংস্কার দাবি করলে শেরে বাংলা তাকে ১২০০ টাকা প্রদান করে।এভাবেই শেরে বাংলা ও সোহরাওয়ার্দীর সাথে তাঁর প্রথম সাক্ষাৎ হয়। ওই দিন মন্ত্রীদের বিদায়ের পর কংগ্রেস নেতাদের অভিযোগের ভিত্তিতে শেখ মুজিবকে গ্রেফতার করা হয়। ৭ দিন জেলে থেকে তিনি মুক্তি পান। এটা ছিল তাঁর প্রথম কারাবাস।কারা জীবন সর্ম্পকে তিনি বলেছিলেন ‘আমার যে দিন প্রথম জেল হয় সেদিন আমার নাবালকত্ব ঘুচেছে বোধ হয়।’

বঙ্গবন্ধু ১৯৪২ সালে মিশনারি স্কুল থেকে দ্বিতীয় বিভাগে মানবিক শাখায় মেট্রিক পাশ করেন।১৯৪৪ সালে কলকাতার ইসলামিয়া কলেজ থেকে আইএ এবং ১৯৪৭ সালে একই কলেজ থেকে বিএ পাস করেন। ইসলামিয়া কলেজের বর্তমান নাম মাওলানা আজাদ কলেজ।ইসলামিয়া কলেজে তিনি বেকার হোস্টেলের ২৪ নং রুমে থাকতেন।১৯৯৮ সালে পশ্চিম বঙ্গ সরকার এই হোস্টেলের ২৩ নং এবং ২৪ নং রুম একত্রিত করে বঙ্গবন্ধু স্মৃতিকক্ষ করেছে।১৯৪৮ সালে বঙ্গবন্ধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হন। তাঁর রুম ছিল ১৬৫ এসএম হল। ১৯৪৯ সালের ৩ মার্চ ঢাবি  এর ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীরা তাদের দাবি দাওয়া নিয়ে ধর্মঘট শুরু করেন।৫ মার্চ ১৯৪৯ সালে তাদের সমর্থনে বঙ্গবন্ধু পূর্বপাকিস্থান মুসলিম ছাত্রলীগ ধর্মঘট শুরু করে। এর ফলে কর্তৃপক্ষ বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দেয়। ২৯ মার্চ ২৭ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়। তারপর ঘোষনা করা হয় ক্ষমাচেয়ে আবেদন করলে তাদের ক্ষমা করা হবে।২৬ জন ক্ষমা প্রার্থনা করে ক্ষমা পান।কিন্তু বঙ্গবন্ধু ক্ষমা চাননি ফলে বিশ্ববিদ্যালয় হতে তাকে বহিষ্কার করা হয়।পাকিস্থান আমলে আর তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে যাননি।১৯৭২ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যান।

বঙ্গবন্ধু পাকিস্থান আমলে ৮ বার বন্দি হয়ে জেলে যান।১৯৫৩ সালে তিনি আওয়ামী লীগের জিএস নির্বাচিত হন।১৯৫৪ সালে ফরিদপুর-১৪ আসন থেকে জয়লাভ করেন। ১৯৫৬ সালে পূর্ব পাকিস্থানের শিল্পমন্ত্রী হন।১৯৬৬ সালে তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৬৬ সালের ৫ ডিসেম্বর হোসেন সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুবার্ষিকী অনুষ্ঠানে ভাষন দেওয়ার সময় বঙ্গবন্ধ বলেন ‘‘ছয় দফার ভিত্তিতে পাকিস্থান পুনঃগঠিত হবে এবং পূর্ব পাকিস্থানের নাম হবে বাংলাদেশ।’’ এভাবেই প্রথম ‘বাংলাদেশ’ নামকরণ হয়। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ তাকে গ্রেফতার করে পশ্চিম পাকিস্থানের করাচি শহরের মিয়াওয়ালি কারাগারে বন্দি রাখা হয়।১৯৭১ সালে ২৭ ডিসেম্বর জুলফিকার আলী ভুট্টো বঙ্গবন্ধুর সাথে সিহালা অতিথি ভবনে দেখা করেন। এসময় তিনি বঙ্গবন্ধুকে কনফেডারেশ গঠনের প্রস্তাব দিলে বঙ্গবন্ধু তা প্রত্যাখ্যান করেন।১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি তিনি পাকিস্থানের কারাগার থেকে মুক্তি পান।১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি তিনি বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করেন।এ জন্য ১০ জানুয়ারি ‘স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়।স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকালে তাকে পিআইএ এর বিমানে করে লন্ডনে পাঠানো হয়।তিনি বিমানবন্দরে অবতরণ করেন এবং লন্ডনের হোটেল ক্লারিজে ওঠেন।১০ জানুয়ারি ব্রিটিশ রয়েল এয়ারফোর্সের কমেট বিমানযোগে দিল্লী হয়ে তিনি ঢাকা আসেন। পথিমধ্যে জ্বালানী সংগ্রহের জন্য সাইপ্রাসে বিমান অবতরন করেন।

১৯৭২ সালের বঙ্গবন্ধু ২২ ডিসেম্বর বাংলাদেশের রাজধানী কলকাতার ৮নং থিয়েটার রোড থেকে ঢাকায় স্থানান্তরিত করা হয়। ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু প্রাথমিক শিক্ষা জাতীয়করণ করেন। ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু রেসকোর্স ময়দানে ঘোড়াদৌড় বন্ধ করে নামকরণ করেন সোহরাওয়ার্দী উদ্যান।বঙ্গবন্ধু একই বছর প্রথম আন্তর্জাতিক সফর করেন ভারতের কলকাতায়।তিনি ১৯৭৫ সালের ২২ মার্চ এক অধ্যাদেশ বলে ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি টঙ্গিতে বিশ্বইজতেমা ও কাকরাইল মসজিদের জন্য জমি দান করেন।

১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি তিনি সংসদে দাড়িয়ে বিপ্লবের ডাক দেন। একই বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু নিজের দল আওয়ামী লীগসহ সবকটি রাজনৈতিক দল বিলুপ্তি করে একটি দল ‘বাকশাল’ যার পূর্ণরূপ বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক লীগ গঠন করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট ভোরে সামরিক বাহিনীর কিছু উচ্ছৃঙ্খল সদস্যের হাতে সপরিবারে তিনি নিহত হন।তাঁর জন্মস্থান টুঙ্গিপাড়ায় তাকে সমাহিত করা হয়।

১৯৭২ সালের ১০ অক্টোবর তিনি ‘জুলিও কুরি’ শান্তি পুরস্কার লাভ করেন।বিশ্ব শান্তি পরিষদের তৎকালীন মহাসচিব রামেশ চন্দ্র বঙ্গবন্ধুকে ‘জুলিও কুরি’ পদক পরিয়ে দেন।এসময় তিনি বলেন ‘শেখমুজি শুধু বঙ্গবন্ধু নয়, আজ থেকে তিনি বিশ্ববন্ধুও বটে’।১৯৭১ সালে মার্কিন সাপ্তাহিক ‘নিউজ উইক’ এর সাংবাদিক লোবেন জ্যাকিন্স তার প্রতিবেদনে বঙ্গবন্ধুকে রাজনীতির কবি বা পয়েট অব পলিটিক্স বলে আখ্যায়িত করেন। ২০০৪ সালে বিবিসির শ্রোতা জরিপে বঙ্গবন্ধু ‘হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি’ নির্বাচিত হন।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ এবং ‘কারাগারের রোজনামচা’।সুপ্রিম কোর্ট এর হাইকোর্ট বিভাগ ২০০৯ সালে বঙ্গবন্ধুকে স্বাধীনতার ঘোষক বলে রায় দেয়।

ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ: ১৯৭৫ সালে ২৬ সেপ্টেম্বর স্বঘোষিত রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমেদ ইনডেমনিটি (দায়য়মুক্তি) অধ্যাদেশ জারি করে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচারের পথ বন্ধ করে। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালের ১২ নভেম্বর জাতীয় সংসদে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ রহিতকরণ বিল -১৯৯৬ পাস হয়। এর ফলে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের হত্যা মামলার বিচার প্রক্রিয়া শুরুর আইনি বাধা অপসারিত হয়।

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা: ১৯৯৬ সালে ধানমন্ডি থানায় বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার এজাহার দায়ের করেন আ.ফ.ম মহিতুল ইসলাম।১৯৯৮ সালে ঢাকা জেলা দায়রা জজ গোলাম রসুল ১৯ জন আসামীর ১৫ জনকে মৃত্যুদন্ড দেন।রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হলে ২০০৯ সালে মামলার চূড়ান্ত রায় নিষ্পত্তির শুনানির জন্য আপিল বিভাগের ৫ জন বিচারপতিকে নিয় একটি বেঞ্চ গঠিত হয়।   ২০০৯ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষনা করা হয়। রায়ে ১২ জনের মৃত্যুদন্ড বহাল রাখা হয়।

 

অসমাপ্ত আত্মজীবনী

অসমাপ্ত আত্মজীবনী শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মজীবনী সংকলন। এই অসমাপ্ত আত্মজীবনীটি তিনি ১৯৬৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে ঢাকা সেন্টাল জেলে বন্দী থাকা অবস্থায় লেখা শুরু করছিলেন, কিন্তু শেষ করতে পারেননি।তিন কিভাবে বঙ্গবন্ধু হয়ে উঠলেন, কিভাবে নেতৃত্ব দিলেন বাঙালির মহান মুক্তিযুদ্ধে তার উল্লেখ নেই বইটিতে। এই বইটিতে আছে তার রাজনীতিবিদ হয়ে উঠার ইতিহাস। এটি ১৯৪৭ থেকে ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত পাকিস্থানের রাজনীতিকে খুব কাছ থেকে দেখা একজন মানুষের বিবরণ। ৩৩০ পৃষ্ঠার বইটিতে লেখকের পরিচয়, জন্ম, শৈশব, স্কুল ও কলেজের শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, দুর্ভিক্ষ, বিহার ও কলকাতার দাঙ্গা, দেশভাগ, কলকাতাকেন্দ্রিক প্রাদেশিক মুসলিম ছাত্রলীগ ও মুসলিম লীগের  রাজনীতি, দেশ বিভাগের পরবর্তী সময় থেকে ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত পূর্ব বাংলার রাজনীতি, কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক মুসলিম লীগ সরকারের অপশাসন, ভাষা আন্দোলন, ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা, যুক্তফ্রন্ট গঠন ও নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন, আদমজী দাঙ্গা, পাকিস্থান কেন্দ্রীয় সরকারের বৈষম্যমূলক শাসন ও প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের বিস্তৃত বিবরণ এবং এসব বিষয়ে তার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার বর্ণনা রয়েছে।এছাড়রা এতে তার পরিবারে কথা উল্লেখ আছে। একইসঙ্গে তার চীন, ভারত ও পশ্চিম পাকিস্থানের ভ্রমণের কথা উল্লেখ আছে এতে। আত্মজীবনী গ্রন্থটি সম্পাদনা করেন বঙ্গবন্ধুর দুইকন্যা।একইসঙ্গে বইটির ভূমিকায় লেখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।এই ভূমিতায় তিনি লেখেন ২০০৭ সালে জেলে থাকা অবস্থায়।

২০১২ সালে বইটি প্রকাশিত হয় দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড (ইউ পি এল) থেকে। এই বইটি ইংরেজী, উর্দু, জাপানি, চীনা, আরবি, ফরাসি ও হিন্দি ভাষায় অনূদিত হয়।

 

কারাগারের রোজনামচা

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৭ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে  বাংলা একাডেমি প্রকাশ করে তাঁর রচিত গ্রন্থ ‘কারাগারের রোজনামচা’। ১৯৬৬ থেকে ১৯৬৮  কালপর্বে কারাস্মৃতি এ গ্রন্থটিতে স্থান পেয়েছে। এটি মূলত বঙ্গবন্ধুর ডায়েরি সরূপ।

১৯৬৯ সালে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়ার সময় বঙ্গবন্ধুর তৎকালীন পাকিস্থানি সরকার তাঁর লেখা দুইটি ডায়েরি জব্দ করে।২০০৯ সালে শেখ হাসিনার উদ্যোগে এবং পুলিশের বিশেষ শাখার সহায়তায় উদ্ধারকৃত একটি ডায়েরির গ্রন্থরূপ বাংলা একাডেমি প্রকাশিত এই ‘কারাগারের রোজনামচা’।৩৩২ পৃষ্ঠার এই গ্রন্থটির মূল্য ৪০০ টাকা।শিল্পী রাসেল কান্তি দাশ অঙ্কিত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি অবলম্বনে গ্রন্থটির প্রচ্ছদ ও নকশা করেছেন তারিক সুজাত।

 

শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের ৫ সন্তানের মধ্যে জ্যেষ্ঠ। তিনি ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।

শিক্ষাজীবন: টুঙ্গিপাড়ার পাঠশালায় প্রাথমিক শিক্ষার হাতেখড়ি। ১৯৫৪ সালে ভর্তি হন টিকাতুলির নারী শিক্ষা মন্দির বালিকা বিদ্যালয়ে। ১৯৬৫ সালে আজিমপুর বালিকা বিদ্যালয় থেকে এস.এস.সি পাশ করেন। ১৯৬৭ সালে ইন্টারমিডিয়েট গর্ভমেন্ট গার্লস (বর্তমানে বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ) থেকে এইচ.এস.সি পাস করেন। সেই বছরই ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। কিন্তু যুদ্ধ উত্তর বাংলাদেশের উচ্চ শিক্ষা সম্পন্ন করতে পুনরায় ভর্তি হন ইডেন কলেজে। পরবর্তীতে ১৯৭৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যাল থেকে বাংলায় স্নাতক ডিগ্রী লাভ করেন।

পারিবারিক জীবন:

১৯৬৮ সালে জেলে অন্তরীণ বঙ্গবন্ধুর আগ্রহে পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম ওয়াজেদ মিয়ার (ডাকনাম: সুধা মিয়া) সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের দুই সন্তান তথ্য প্রযুক্তিবিদ সজীব আহমেদ ওয়াজেদ জয় এবং মনোবিজ্ঞানী ও অটিজম বিষয়ক চিকিৎসক সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। ড. এম ওয়াজেদ মিয়া ২০০৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

রাজনৈতিক জীবন:

রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম হওয়ায় কৈশোরেই রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন।১৯৬৭ সালে কলেজ ছাত্রী সংঘের সহ-সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়ে ছাত্র রাজনীতিতে আত্মপ্রকাশ করেন। তিনি আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন, ৬ দফা, ছাত্রদের ১১ দফা ও ৬৯ এর গণঅভ্যত্থানের অগ্রভাগে ছিলেন।১৯৮১ সালে ১২-১৫ই ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগের সাধারন সম্মেলনে সর্বসম্মতিক্রমে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে তাকে দলর সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফিরে তিনি দলের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।১৯৯৬ সালের ২৩ জুন তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ  সরকার গঠনের মধ্য দিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী হন।২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি ২য় বার, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি ৩য় বার এবং ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর ৪র্থ বার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন।

 

১৫ আগস্টের কাল রাত্রি:

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কাল রাতে ঘাতকেরাজ জাতির জনক বঙ্গবন্বুকে সপরিবারে হত্যা করে। ‍কিন্তু কিছুদিন পূর্বে ছোট বোন শেখ রেহানা সহ শেখ হাসিনাস্বামীর কর্মস্থল জার্মানিতে চলে যাওয়ায় অনিবার্য মৃত্যুর হাত থেকে প্রাণে বেঁচে যান।

স্বদেশ প্রত্যাবর্তন:

সামরিক শাসনের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ১৯৮১ সালের ১৭ মে তিনি স্বদেশে ফিরে আসেন।

গৃহবন্দী ও কারা জীবন:

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে বঙ্গবন্ধুকে পাক বাহিনী গ্রেফতারের পর শেখ হাসিনাসহ পুরো পরিবারকে গৃহবন্দী করা হয়।সামরিক সরকার ১৯৮৫ সালে বিভিন্ন সময় তাকে গৃহবন্দী করে রাখে।১৯৮৬ সালের ১৫ অক্টোবর ১৫ দিন, ১৯৮৭ সালের ১১ নভেম্বর থেতে ১৫ দিন, ১৯৮৭ সালে গ্রেফতার করে ১ মাস গেলে বন্দী, ১৯৮৯ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি গ্রেফতার ও জেলে বন্দী, ১৯৯০ সালের ২৭ নভেম্বর বঙ্গবন্ধু ভবনে আবার গৃহবন্দী করা হয়। ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার তাকে গ্রেফতার করে সংসদ ভবনের সাব জেলে আটক রা। ২০০৮ সালের ১৬ জুলাই তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।

 

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান

১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বগুড়া জেলার বাগানবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৭১ সালের ২৭মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র হতে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় বিগ্রেড ফোর্স জেড এর প্রধান ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্য তিনি ‘বীর উত্তম’ উপাধি লাভ করেন। তিনি ১৯৭৮ সালে ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল’ (বিএনপি) গঠন করেন। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউজে সেনাবাহিনীর কতিপয় সদস্যের হাতে নিহত হন। ঢাকার শেরে বাংলা নগরে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

 

বাঙ্গালি বিজ্ঞানি

জগদীশচন্দ্র বসু

জগদীশচন্দ্র বসু একজন সফল বাঙ্গালি বিজ্ঞানি ছিলেন।তিনি ১৮৫৮ সালে ময়মনসিংহ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।তাঁর আবিষ্কারের মধ্যে উদ্ভিদের বৃদ্ধি পরিমাপক যন্ত্র ক্রেসকোগ্রাফ, উদ্ভিদের দেহের উত্তেজনার বেগ নিরূপক সমতল তরুলিপি যন্ত্র রিজোনাষ্ট রেকোর্ডার অন্যতম। জগদীশচন্দ্র ছিলেন রবীন্দ্রনাথের ঘনিষ্ঠ বন্ধু।ছোটদের জন্য তিনি ‘অব্যক্ত’ নামক  বিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থ রচনা করেন।তিনি গাছের প্রাণ আছে এবং মার্কনির আগে রেডিও আবিষ্কার করেন বলে বাঙালি একটি মহলের ধারনা প্রচলিত আছে।প্রথম ধারনাটি ভুল কারন গাছের প্রাণ নিয়ে প্রাচীন কাল হতে পন্ডিতেরা নিঃসংশয় ছিলেন। জগদীশচন্দ্র বসু অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে কেবল প্রমাণ করেন উদ্ভিদ ও প্রাণী জীবনের মধ্যে অনেক সাদৃশ্য আছে।দ্বিতীয় ধারনাটিও সর্বাংঙ্গে সঠিক নয়। ১৯৩৭ সালে জগদীশচন্দ্র বসু ভারতের ঝাড়খন্ডের গিরিডিতে মারা যান।

 

প্রফুল্ল চন্দ্র রায়

প্রফুল্ল চন্দ্র রায় যিনি পি.সি রায় নামেও পরিচিত একজন বাঙ্গালি রসায়নবিদ, দার্শনিক, বিজ্ঞানশিক্ষক, দার্শনিক ও কবি।তিনি বেঙ্গল কেমিক্যালের প্রতিষ্ঠাতা এবং মারকিউরাস নাইট্রাস এর আবিষ্কারক। তাঁর জন্ম খুলনাতে। তিনি জগদীশচন্দ্র বসুর সহকর্মী ছিলেন।

 

মেঘনাদ সাহা

মেঘনাদ সাহা (সংক্ষেপে এম.এন.সাহা) পর্দাথবিজ্ঞানে থার্মাল আয়নাইজেশন তত্ত্বের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে বিখ্যাত। ১৮৯৩ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বঙ্গবঙ্গ আন্দোলনে জড়িত ছিলেন।

 

ফজলুর রহমান খান

ফজলুর রহমান খান বাংলাদেশের একজন বিশ্বখ্যাত স্থপতি ও প্রকৌশলী। তিনি এফ.আর খান নামে সুপরিচিত। তিনি পৃথিবীর অন্যতম উচ্চতম ভবন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোর ‘সিয়ার্স টাওয়ার’ এর নকশা প্রণয়ন করেন। সিয়ার্স টাওয়ারের বর্তমান নাম উইলিস টাওয়ার। বাংলাদেশি স্থপতিদের মধ্যে তিনি সবচেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন।

 

আবদুল্লাহ আল মুতী শরফুদ্দীন

আবদুল্লাহ আল মুতী শরফুদ্দীন বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ এবং বিজ্ঞান লেখক। সিরাজগঞ্জ জেলার ফুলবাড়িয়া উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। এদেশে বিজ্ঞানকে জনপ্রিয় করার জন্য ইউনেস্কোর আন্তর্জাতিক ‘কলিঙ্গ পুরস্কার’ লাভ করেন। তাঁর বিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থের মধ্যে ‘এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে’, ‘আবিষ্কারের নেশায়’, ‘রহস্যের শেষ নেই’ ‘সাগরের রহস্যপুরী’ ‘জানা-অজানার দেশে’ উল্লেখ্যযোগ্য।

 

সতেন্দ্রনাথ বসু

সতেন্দ্রনাথ বসু ছিলেন একজন ভারতীয় বাঙালি পদার্থ বিজ্ঞানি।তিনি আলবার্ট আইনস্টাইনের সাথে যৌথভাবে বোস-আইনস্টাইন পরিসংখ্যান প্রদান করেন, যা পদার্থ বিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার হিসেবে বিবেচিত।

 

জামাল নজরুল ইসলাম

জামাল নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট পদার্থবিজ্ঞানী, জ্যোর্তিবিজ্ঞানী। তার জন্ম ঝিনাইদহে। তিনি মহাবিশ্বের উদ্ভব ও পরিণতি বিষয়ে মৌলিক গভেষণার জন্য খ্যাতি লাভ করে।

 

ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ

 

 

মুহাম্মদ কুদরত-ই-খুদা

কুদরত ই খুদা বাংলাদেশের একজন বিখ্যাত রসায়নবিদ, গ্রন্থাকার এবং শিক্ষাবিদ। তিনি পশ্চিমবঙ্গের বীরভূমে জন্মগ্রহণ করেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের পর দেশে শিক্ষার ব্যবস্থা পুর্নগঠনের যে শিক্ষা কমিশন গঠন করা হয় তিনি তাঁর সভাপতি ছিলেন। তাঁর সুযোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ শিক্ষা কমিশন রিপের্টি প্রণীত হয়। তাঁর নামানুসারে রিপোর্টটির নামকরণ করা হয় ‘মুহাম্মদ কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন’।

 

বিখ্যাত সঙ্গীত শিল্পী

লালন ফকির ছিলেন একজন আধ্যাত্মিক বাউল সাধক, মানববাদী সমাজ সংস্কারক এবং দার্শনিক।তাকে বাউল সম্রাট হিসেবেও অভিহিত করা হয়।  তিনি ১৭৭৪ সালে ঝিনাইদহ জেলার হরিশপুর গ্রামে এক কায়স্ত হিন্দু পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। কোন কোন লালন গভেষক মনে করেন তিনি কুষ্টিয়া জেলার চপেড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।‘মাসিক মোহাম্মদী’ পত্রিকার বাংলা ১৩৪৮ সালের আষাঢ় সংখ্যায় তার জন্ম যশোর জেলার ফুলবাড়ি বলে উল্লেখ করা হয়।কিন্তু ছেলেবেলায় অসুস্থ অবস্থায় তাকে তাঁর পরিবার ত্যাগ করে।তখন সিরাজ সাই নামে এক মুসলমান বাউল তাঁকে আশ্রয় দেয় এবং সুস্থ করে তোলেন।লালন কুষ্টিয়া জেলার ছেউড়িয়া গ্রামে একটি আখড়া গড়ে তোলেন, যেখানে তিনি তাঁর শিষ্যদের শিক্ষা দিতেন।তিনি ১৮৯০ সালের ১৭ অক্টোবর কুষ্টিয়ায় নিজ আখড়ায় মারা যান।

তাঁর বিখ্যাত কয়েকটি লালনগীতি:

 

  • খাঁচার ভিতর অচিন পাখি……
  • মিলন হবে কত দিনে
  • আমার বাড়ীর কাছে আরশী নগর, এক পরশী বসত করে
  • সব লোকে কয় লালন কি জাত সংসার
  • জাত গেল জাত গেল বলে
  • কেই মালা কেউ তসবিহ গলায়, তাই তো জাত ভিন্ন বলায়
  • আমি অপার হয়ে বসে আছি, ওহে দয়াময় পাড়ে লয়ে যাও আমায়
  • দেখ না মন ঝক মারিয়া দুনিয়া দারি
  • তিন পাগলের হলো মেলা
  • আমার ঘরের চাবি পরের হাতে…

 

হাসন রাজা

দেওয়ান হাসন রাজা উনিশ শতকের সর্বাপেক্ষা খ্যাতনামা বাউল এবং বাউল শিল্পী।১৮৫৫ সালে সুনামগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯২২ সালে তিনি মারা যান।

তার বিখ্যাত গানের পক্তি

  • লোকে বলে বলে রে, ঘর বাড়ী ভালা নয় আমার
  • মাটির পিঞ্জিরার মাঝে বন্দী হইয়ারে
  • সোনা বন্দে আমারে দেওয়ানা বানাইল
  • আঁখি মুঞ্জিয়া দেখা রূপরে

 

ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁন

ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁন একজন বাঙালি সঙ্গীতজ্ঞ। সেতার ও সানাই এবং রাগসঙ্গীতে বিখ্যাত ঘরনার গুরু হিসেবে সারা বিশ্বে বিখ্যাত।মূলত সরোদই ছিল তাঁর শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের বহন।তাঁর জন্ম বর্তমান ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার শিবপুর গ্রামে।তাঁর সন্তান আলী আকবর খাঁন অন্নপূর্ণাদেবী নিজ নিজ ক্ষেত্রে উজ্জ্বল নক্ষএ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।আর্চাযের বিখ্যাত শিষ্য হলেন পন্ডিত রবি শংকর।

 

আব্বাস উদ্দিন আহমদ

আব্বাস উদ্দিন আহমদ একজন বিখ্যাত লোকসঙ্গীত শিল্পী।তিনি ভাওয়াইয়া, চটকা জারি, সারি, ভাটিয়ালী, মুর্শিদী প্রভৃতি গানের জন্য খ্যাতি অর্জন করেন। তাঁর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘আমার শিল্পী জীবনের কথা’।

 

আবদুল আলীম

আবদুল আলীম বাংলা লোকসংঙ্গীতের এক অমর শিল্পী। তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের তালিবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মূলত পল্লীসঙ্গীতে খ্যাতি অর্জন করেন। তাঁর কিছু অবিস্মরণীয় গান-

 

  • এই যে দুনিয়া কিসেরও লাগিয়া
  • নাইয়ারে নায়ের বাদাম তুইলা
  • সর্বনাশা পদ্মা নদী, তোর কাছে
  • হলুদিয়া পাখী সোনারও বরণ, পাখিটি ছাড়িল কে

 

শাহ আবদুল করিম

‘বাউল সম্রাট’ হিসেবে খ্যাত শাহ আব্দুল করিম সুনামগঞ্জ জেলার উজানধল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বিখ্যাত গান-

*গাড়ি চলে না, চলে না, চলে নারে

* আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম

*কেমনে ভুলিব আমি বাঁচি না তারে ছাড়া

* আমি কুলহারা কলঙ্কিনী

* বন্ধে মায়া লাগাইছে পিরিতি শিখাইছে

* মন কান্দে প্রাণ কান্দে রে, কান্দে আমার হিয়া

* আসি বলে গেল বন্ধু আইল না

 

আজম খান

পপসম্রাট আজম খান ১৯৫০ সালে ঢাকার আজিমপুরে জন্মগ্রহণ করেন।তাঁর পুরো নাম মোহাম্মদ মাহবুবুল হক খান। তাঁকে বাংলা ‘পপগানের জনক’ বলা হয়। ১৯৭২ সালে ‘উচ্চারণ’ নামক ব্যান্ড দিয়ে তাঁর যাত্রা শুরু করেন। তিন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা (২নং সেক্টরে)।২০০১ সালের ৫ জুন তিনি মৃত্যুবরণ করেন।তাঁর স্মরণীয় গান:

 

*এত সুন্দর দুনিয়ার কিছুই

*চার কালেমা সাক্ষী দেবে

*ওরে সালেকা ওরে মালেকা

*রেল লাইনের ঐ বস্তিতে

*আসি আসি বলে তুমি

* হাইকোর্টের মাজারে

* চুপ চুপ অনামিকা চুপ

 

 

বিখ্যাত চিত্রশিল্পী

 

জয়নুল আবেদীন

জয়নুল আবেদীন বাংলাদেশের প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী। তিনি ‘শিল্পাচার্য’ নামে পরিচিত।তিনি মূলত ১৯৪৩ সালে বাংলার ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ (পঞ্চাশের মন্বন্তর) –এর ছবি একে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন। তার বিখ্যাত চিত্রকর্ম গলো হল- ‘সংগ্রাম’, ‘মনপুরা-৭০’, ‘ম্যাডোনা-৪৩’ , ‘বিদ্রোহী গরু’, ‘সাঁওতাল রমনী’, ‘গায়ের বধু’, ‘নবান্ন’ ইত্যাদি। তিনি লোক শিল্প জাদুঘর (সোনারগাঁও) এবং ঢাকা আর্ট ইনস্টিটিউড (বর্তমান চারুকলা ইনস্টিটিউড) প্রতিষ্ঠা করেন।

 

কামরুল হাসান

কামরুল হাসান বাংলাদেশের বিখ্যাত চিত্রশিল্পী।তিনি নিজেকে পটুয়া বলতেন। স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন সময় জেনারেল ইয়াহিয়ার মুখের ছবি দিয়ে আকাঁ পোস্টারটি (এই জানোয়ারদের হত্যা করতে হবে) খুব বিখ্যাত। কামরুল হাসান ১৯৭২ সালে তৎকালীন সরকারের অনুরোধে শিবনারায়ণ দাশ কর্তৃক ডিজাইনকৃত পতাকার বর্তমান রূপ দেন।তিনি ১৯৮৮ সালে স্বৈরাশাসক এরশাদকে ব্যঙ্গ করে ‘দেশ আজ বিশ্ব বেহায়ার খপ্পরে’ পোস্টারটি স্কেচ আঁকেন।তাঁর বিখ্যাত চিত্রকর্ম ‘তিন কন্যা’, ‘রায়বেঁশে নৃত্য’ এবং ‘নাইওর’।

 

এস.এম সুলতান

শেখ মোহাম্মদ সুলতান বা এস.এম সুলতান বাংলাদেশের একজন বিখ্যাত চিত্রশিল্পী।তাঁর বিখ্যাত চিত্রকর্ম ‘প্রথম বৃক্ষরোপণ’ এবং ‘চরদখল’।শেষ বয়সে নড়াইলের নিজবাড়িতে তিনি শিশুদের জন্য ‘শিশুস্বর্গ’ এবং চারুপীঠ’ নামে দুটি চিত্র অঙ্কন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন।

রনবী

রফিকুন্নবী (উপনাম রনবী)বাংলাদেশের খ্যাতনামা ব্যাঙ্গচিত্র শিল্পী ও কার্টুনিস্ট।‘টোকাই’ নামক চরিত্রটি তাঁর অনবদ্য সৃষ্টি।

 

মুস্তফা মনোয়ার

মুস্তফা মনোয়ারের অমর সৃষ্টি শিক্ষামূলক কাটুন ‘মীনা’। মীনা দক্ষিন এশিয়ার বিভিন্ন ভাষায় নির্মিত একটি জনপ্রিয় টিভি ধারাবাহিক এবং কমিক বই।মীনার জনপ্রিয়তা এবং গ্রহণযোগ্যতার জন্য সার্কের পক্ষ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর ‘মীনা দিবস’ ঘোষনা করা হয়।

১৯৮৫ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সাফ গেমস (বর্তমান নাম সাউথ এশিয়ান গেমস)- এর মাসকট ছিল মিশুক। টানা টানা মায়াবী চোখের হরিণ মিশুক- এর স্থপতি মুস্তফা মনোয়ার।

 

বাঙালি দার্শনিক

অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান

অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান ৯৮২ সালে বাংলাদেশের মুন্সিগঞ্জ জেলার বজ্রযোগিনী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। অতীশ দীপঙ্করের বাসস্থান এখনও ‘নাস্তিক পণ্ডিতের ভিটা’ নামে পরিচিত।ছোটবেলায় তাঁর নাম ছিল আদিনাথ চন্দ্রগর্ভ।তিনি ছিলেন বিখ্যাত বৌদ্ধু ভিক্ষু ও ধর্মপ্রচারক।বঙ্গদেশের প্রথম মহীপালের অনুরোধে তিনি বিক্রমশীলা মহাবিহারের অধ্যক্ষের পদ গ্রহণ করেন। তিনি তিব্বতের রাজা চ্যান চাব জ্ঞানপ্রভের অনুরোধে ১০৪১ সালে বৌদ্ধধর্ম প্রচারের জন্য দুর্গম হিমালয় অতিক্রম করে তিব্বতে যান।তিনি তাঞ্জুর নামে বিশাল তিব্বতি গ্রন্থ সংকলন করেছিলেন।১৩ বছর ধর্মপ্রচারের পর ১০৫৪ সালে ৭২ বছর বয়সে তিনি তিব্বতের রাজধানী লাসার কাছে হেথাং বিহারে মৃত্যুবরণ করেন। ১৯৭৮ সালের ২৮ জুন তাঁর দেহভস্ম চীন থেকে ঢাকার ধর্মরাজিক বৌদ্ধবিহারে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় আনীত হয় এবং সেখানেই সংরক্ষণ করা হয়।

চরক

চরক প্রাচীন ভারতের একজন চিকিৎসক। চরক ছিলেন তৎকালীন ভারতবর্ষের কলিঙ্গ রাজার চিকিৎসক। আর্যর্বেদ চিকিৎসা পদ্ধতির সর্বপ্রথম সংকলনগ্রন্থ ‘চরক সংহিতা’ নামে সমাধিক পরিচিত।

 

আরজ আলী মাতুব্বর

আরজ আলী মাতুব্বর বরিশাল জেলার এক দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।তিনি বাংলাদেশের একজন বিখ্রাত লৌকিক দার্শনিক।

বিবিধ:

** বাংলাদেশের মহিলা দার্শনিকদের মধ্যে একজন হচ্ছেন- অধ্যাপক মিসেস আখতার ইমাম।

** বুলবুল চৌধুরী খ্যাত – ন্যাত্যের জন্য।

** ভারতীয় উপমহাদেশের বিখ্যাত অভিনেত্রী সূচিত্রসেন জন্মগ্রহণ করেন- বাংলাদেশের পাবনা জেলাতে।

** আলফাজারি ছিলেন-একজন জ্যোর্তিবিদ।