মকুন্দরাম চক্রবর্তী

মুকুন্দরাম চক্রবর্তী

 

মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর জীবনকাল আনুমানিক ১৫৪০-১৬০৪। তিনি জন্মগ্রহণ করেন পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার দামুন্যা গ্রামে।তাঁর কাব্যের নাম চন্ডীমঙ্গলকাব্য।তিনি মেদিনীপুরের রাজা রঘুনাথ রায়ের অনুরোধে চন্ডীমঙ্গলকাব্য লেখেন। এ কাব্য তিনি ১৫৭৫ সালের দিকে লিখেন বলে ধারণা করা হয়।রাজা রঘুনাথ রায় তাঁর রচনার স্বীকৃতি স্বরূপ তাকে কবিকঙ্কন উপাধি দেন।তিনি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে মানব-রসের তিনি প্রথম ও একমাত্র স্রষ্টা।তাকে দুঃখবর্ণনার কবি বলে আখ্যায়িত করা হয়। আধুনিকালে তিনি জম্মালে কাব না হয়ে তিনি হতেন ঔপন্যাসিক।

কবি তার জীবনকাহিনীতে লিখেন সিলিমবাজ নামে এক শহর ছিলো, তার জমিদার ছিলো গোপীনাথ। কবির বসবাস ছিলো গোপীনাথের তালকের দামুন্যা গ্রামে।তার পূর্বপুরুষেরা এ গ্রামে বসবাস করে আসছিলেন। তবে এরপর গৌড়-বঙ্গ-উৎকলের রাজা মানসিংহের রাজত্ব শুরু হয়। সেসময় দামুন্যা গ্রামের ডিহিদার হন মামুদ শরিফ। তিনি ছিলেন কঠোর অত্যাচারি।তিনি প্রজাদের কোন কথা শুনতেন না।এ অত্যাচারে কবি ও তাঁর পরিবার গ্রাম ছেড়ে পালালেন। পালানোর সময় তারা পড়েছিলেন রূপরায় নামক এক ডাকাতের কবলে। রূপরায় তাদের সবকিছু কেড়ে নিয়েছিলেন।কবিকে আশ্রয় দিয়েছিলেন যদুকুন্ডু নামে এক লোক।এরপর কবি ও তার পরিবার আবার যাত্রা শুরু করেন।তাদের নৌকা গোড়াই নদী পার হয়ে তেউট্যা নামক স্থানে পৌঁছান। আবার যাত্রা করে দারুকেশ্বর নদী দিয়ে। সেখান দিয়ে বাতনগিরি হয়ে কুচুট শহরে পৌঁছান।এ শহরে তিনি ঘুমের মধ্যে স্বপ্নে চন্ডী কবিতা রচনার আদেশ পান।এরপর কবিরা সেখান থেকে আসেন আড়রা গ্রামে।এখানে এসে তারা স্বস্তির নিশ্বাস পেলেন।এ এলাকার জমিদার ছিলেন বাঁকুড়া রায়।তিনি কবিদের আশ্রয় দেন। জমিদারের পুত্রের নাম ছিলেন রঘুনাথ।কবি রঘুনাথের গৃহশিক্ষক হন। পিতার মৃত্যুর পর রঘুনাথ জমিদার নিযুক্ত হন।তাঁর সময়েই কবি মুকুন্দরাম লেখেন অমর কাব্য চন্ডীমঙ্গল।

 

কবির পিতামহ ছিলেন জগন্নাথ মিশ্র, পিতার নাম হৃদয় মিশ্য, বড়ো ভাইয়ের নাম ভাইয়ের নাম কবিচন্দ্র। তার পুত্রের নাম শিবরাম এবং কন্যার নাম যশোদা এবং পুত্রবধু চিত্রলেখা।

 

মুকুন্দরামের সৃষ্ট চরিত্রগুলো হলো মুরারি শলি, দাসী দুর্বলা ও ভাড়ু