যুদ্ধ সংক্রান্ত চুক্তি

বিভিন্ন যুদ্ধ সংক্রান্ত চুক্তি

প্রথম ভার্সাই চুক্তি

১৭৭৬ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা ঘোষনা করে। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। ১৭৮০ সালে ফ্রান্সের ভার্সাই নগরীতে দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির মাধ্যমে ১৭৮৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা পায়। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার এই চুক্তিটি প্রথম ভার্সাই চুক্তি নামে পরিচিত।

 

দ্বিতীয় ভার্সাই চুক্তি

দ্বিতীয় ভার্সাই চুক্তি ১৯১৯ সালে ফ্রান্সের ভার্সাই নগরীতে স্বাক্ষরিত হয়। এটি প্রথম বিশ্ব যুদ্ধের মিত্রশক্তি ও জার্মানির মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়।

 

 

প্যারিস প্যাক্ট (Paris Fact)

আন্তর্জাতিক সম্পকের ক্ষেত্রে শক্তি প্রয়োগ নিষিদ্ধকারী ‘প্যারিস প্যাক্ট’ ১৯২৮ সালের ২৭ আগস্ট ফ্রান্সের প্যারিসে স্বাক্ষর করে।

 

প্যারিস শান্তি চুক্তি (The Paris Peace Accords of 1973)

এই চুক্তির মাধ্যমে ভিয়েতনাম যুদ্ধের অবসান হয়।এই চুক্তি ফ্রান্সের প্যারিসে ১৯৭৩ সালের ২৭ জানুয়ারি স্বাক্ষরিত হয়।

 

জীবানু অস্ত্র সংক্রান্ত চুক্তি (Biological Weapons Convention)

এই চুক্তির উদ্দেশ্য সব ধরনের জীবানু ও বিষাক্ত অস্ত্রের উন্নয়ন, উৎপাদন, মজুদ নিষিদ্ধকরণ এবং ধ্বংস সাধন।এটি স্বাক্ষরের জন্য উন্মুক্ত হয় ১০ এপ্রিল ১৯৭২। কার্যকর হয় ২৬ মার্চ, ১৯৭৫। এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেনি ইসরাইল, ক্যামেরুন, চাঁদ, ইরিত্রিয়া, অ্যান্ডোরা ইত্যাদি দেশ।

ক্যাম্প ডেবিড চুক্তি

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যারিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত এবটি অবকাশ যাপন কেন্দ্রের নাম ক্যাম্পডেবিড।১৯৭৮ সালে মিশর ও ইসরাইলের মধ্যে ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় এখানে যা ক্যাম্পডেবিড চুক্তি নামে পরিচিত।এর মূল উদ্দ্যেশ ছিল মধ্যপাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা।এই চুক্তির মধ্যস্থাকারী ছিলেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার।এই চুক্তি স্বাক্ষরের ফলে মিশরকে সাময়িকভাবে আরবলীগ ও OIC থেকে বহিষ্কার করা হয়।

 

রাসায়নিক সংক্রান্ত চুক্তি

সব ধরনের রাসায়নিক অস্ত্রের মজুদ ও উৎপাদন নিষিদ্ধ করা ও হস্তান্তর নিষিদ্ধকরনের জন্য এই চুক্তিটি হয়। এই চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত হয় ৩ সেপ্টেম্বর, ১৯৯২ এবং স্বাক্ষরের জন্য উন্মুক্ত হয় ১৩ জানুয়ারি ১৯৯৩। তবে  ‍চুক্তিটি কার্যকর হয়  ২৭ এপ্রিল, ১৯৯৭।এতে স্বাক্ষর করেনি মিশর, অ্যাঙ্গোলা, উত্তর কোরিয়া, সোমালিয়া এবং সিরিয়া।

 

স্থলমাইন নিষিদ্ধকরণ চুক্তি

এই চুক্তির অন্য নাম অটোয়া চুক্তি। এর বিষয়বস্তু হচ্ছে স্থলমাইন ব্যাবহার, মজুদ, উৎপাদন ও হস্তান্তর নিষিদ্ধকরণ। চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয় ৩ ডিসেম্বর, ১৯৯৭ এবং কার্যকর হয় ১৯৯৯ সালের ১ মার্চ।এতে স্বাক্ষর করেনি যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া, ভারত, পাকিস্থান, উত্তর কোরিয়া, দক্ষিন কোরিয়া, ইরান, ইসরাইল।

New Strategic Arms Redution Treaty (New START)

এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে ২০১০ সালের ৮ এপ্রিল চেক প্রজাতন্ত্রের রাজধানী প্রাগে স্বাক্ষরিত হয়।এই চুক্তির উদ্দেশ্য কোশলগত অস্ত্র হ্রাস।

 

Non-Proliferation Treaty (NPT)

পারমানবিক অস্ত্রের প্রসার রোধের উদ্দ্যেশে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ১ জুলাই ১৯৬৮ সালে এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। এটি কার্যকর হয় ৫ মার্চ, ১৯৭০। এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেনি ভারত, পাকিস্থান, ইসরাইল এবং দক্ষিন সুদান। উত্তর কোরিয়া ২০০৩ সালে এই চুক্তি থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেয়।

 

Comprehensive Nuclear Test Ban Treaty (CTBT)

সমন্বিত পারমানবিক পরীক্ষা নিষিদ্ধকরণ চুক্তি

এই চুক্তিটি ১৯৯৬ সালের ১০ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে স্বাক্ষরিত হয়।এর উদ্দেশ্য সামরিক বেসামরিক সকল পারমানবিক পরীক্ষা নিষিদ্ধকরণ।বাংলাদেশ ১৯৯৬ সালের ২৮ অক্টোবর স্বাক্ষর করলেও অনুমোদন দেয় ৮ মার্চ ২০০০ সালে।ভারত, পাকিস্থান ও উত্তর কোরিয়া এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেনি।