অন্যান্য যুদ্ধ সমূহ

বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধসমূহ

 

কলিঙ্গের যুদ্ধ: ২৬১ খ্রিস্টপূর্বে কলিঙ্গের যুদ্ধটি সংঘঠিত হয়।এই যুদ্ধে: সম্রাট অশোক কলিঙ্গরাজাকে পরাজিত করে।কিন্তু যুদ্ধে এত বেশি প্রাণহনী (প্রায় এক লক্ষ) এবং আহত হয় যে সম্রাট অশোক তীব্র অনুশোচনায় ভোগেন এবং আর কখন কোনো যুদ্ধ করেননি।এই যুদ্ধের বিভীষিকা দেখে তিনি অনুতপ্ত হয়ে বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করেন এবং বৌদ্ধ ধর্মের প্রচারে নিজেকে আত্মনিয়োগ করন।তাঁর মাধ্যমেই বৌদ্ধধর্ম সবচেয়ে বেশি বিস্তৃত হয় এবং বিশ্ব ধর্মে পরিণত হয়।তাই সম্রাট অশোককে বৌদ্ধধর্মের কনস্টেনটাইন বলা হয়।

 

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) এর আমলের যুদ্ধ সমূহ

 

Name of Battle

যুদ্ধের নাম

Hijri Calender

হিজরি পঞ্জিকা

Julian Calendar

জুলিয়ান পঞ্জিকা

Battle of Badr

 (বদরের যুদ্ধ)

2 AH 624 AD
Battle of Uhud

(উহুদের যুদ্ধ)

3 AH 625 AD
Battle of Trench

(খন্দকের যুদ্ধ)

5 AH 627 AD
Battle of Khaybar

(খাইবারের যুদ্ধ)

8 AH 629 AD
Battle of Tabuk

(তাবুকের যুদ্ধ)

15 AH 637 AD
Conquest of Mecca

(মক্কা বিজয়)

8 AH 630 AD

 

তরাইনের যুদ্ধসমূহ

তরাইনের প্রথম যুদ্ধ:

১১৯১ সালে মোহাম্মদ ঘুরী এবং পৃথ্বিরাজ চৌহানের মধ্যে তরাইনের প্রথম যুদ্ধ সংঘটিত হয়।এ যুদ্ধে পৃথ্বিরাজ জয়লাভ করে এবং ঘুরী আহত হয়ে আফগানিস্থানে ফিরে যান।

 

তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধ:

১১৯২ সালে মোহাম্মদ ঘুরী এবং পৃথ্বিরাজ চৌহানের মধ্যে দ্বিতীয় তরাইনের যুদ্ধ হয়। এই যুদ্ধে পৃথ্বিরাজ চৌহান নিহত ও পরাজিত হয়।

 

ক্রুসেড বা ধর্মযুদ্ধ

 

ক্রুসেড শব্দ দ্বারা ধর্মীয় যুদ্ধ বুঝানো হয়েছে।এই যুদ্ধ বলতে পবিত্র ভূমি জেরুজালেম এবং কন্সটেন্টিনেপোল দখলে নেয়ার জন্য ইউরোপের খ্রিস্টানদের সম্মিলিত শক্তি মুসলমানদের বিরুদ্ধে ১০৯৫ থেকে ১২৭২ সাল পর্যন্ত আটটি ক্রুসেড বা ধর্মযুদ্ধ পরিচালনা করে।প্রথম ক্রুসেডে খ্রিস্টানদের নেতা ছিলেন গড ফ্রে এবং মুসলমানদের পক্ষে নেতা ছিলেন কাজী আরসেনাল।

শতবর্ষব্যাপী যুদ্ধ: ইংল্যান্ডের রাজা তৃতীয় এডওয়ার্ড ফ্রান্সের সিংহাসন দাবী করলে ১৩৩৮ সালে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয় এবং ১৪৫৩ সাল পর্যন্ত স্থায়ী ছিল। এটিই ইতিহাসে শতবর্ষব্যাপী যুদ্ধ নামে পরিচিত। এই শতবর্ষব্যাপী যুদ্ধে উল্লেখযোগ্য নাম ফ্রান্সের সেনাপতি বীর কন্যা জোয়ান অব আর্ক।এতে ফ্রান্স জয়লাভ করে।

 

পানি পথের যুদ্ধসমূহ

 

যুদ্ধ সংগঠনকাল গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
পানি পথের ১ম যুদ্ধ ১৫২৬ সালে বাবর আর ইব্রাহীম লোদীর মধ্যে এই যুদ্ধ হয়। বাবর এই যুদ্ধে জয়লাভ করে ভারতে তিনি মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। এই যুদ্ধে ভারতবর্ষে প্রথম কামানের ব্যবহার করেন তিনি।
পানি পথের ২য় যুদ্ধ ১৫৫৬ সালে সম্রাট আকবরের সেনাপতিবৈরাম খান ও হীমুর মধ্যে এই যুদ্ধ হয়। বৈরাম খান যুদ্ধে জয়লাভ করেন।
পানি পথের ৩য় যুদ্ধ ১৭৬১ সালে আহমেদ শাহ আবদালী ও মারাঠাদের মধ্যে এই যুদ্ধ হয় যাতে মারাঠারা পরাজিত হয়।

 

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা যুদ্ধ

মার্কিন স্বাধীনতা যুদ্ধ হচ্ছে ব্রিটেনের বিরুদ্ধে আমেরিকার তেরটি উপনিবেশের বিদ্রোহ।এর মাধ্যমে আজকের যুক্তরাষ্ট্র গঠিত হয়। এই লড়াইয়ে ফরাসি ও স্প্যানিশরা যুক্ত হলে তা ইউরোপ, ক্যারিবীয় ও ইস্ট ইন্ডিজে ছড়িয়ে পড়ে।এই যুদ্ধ শুরু হয় ১৭৭৫ সালের ১৯ এপ্রিল এবং শেষ হয় ১১ এপ্রিল ১৭৮৩।এ যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে নেতৃত্ব দেন জর্জ ওয়াশিংটন।আমেরিকার স্বাধীনতা দিবস ৪ জুলাই। ১৭৭৬ সালের এদিনে আমেরিকা স্বাধীনতা ঘোষনা করে।

 

ট্রাফালগারের যুদ্ধ

১৮০৫ সালের ২১ অক্টোবর এ যুদ্ধ সংঘটিত হয় ইংল্যান্ডের সাথে ফ্রান্স ও স্পেনের সম্মিলিত বাহিনী।এতে ইংল্যান্ড জয়ী হয়।

 

ওয়াটার লু যুদ্ধ

‘ওয়াটার লু’ বেলজিয়ামের ব্রাসেলস থেকে ১১ মাইল দূরে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক। স্থান। এটি একটি যুদ্ধ ক্ষেত্র।১৯১৪ সালের৬ এপ্রিল নেপোলিয়ন ফন্টেনব্লু চুক্তির মাধ্যমে সিংহাসন ত্যাগ করতে বাধ্য করা হয় এবং ভূমধ্যসাগরের এলবা দ্বীপে তাকে নির্বাসন দেওয়া হয়।নেপোলিয়নের নির্বাসনের ফলে ফ্রান্সের চতুর্দশ লুইয়ের ভাই অষ্টাদশ লুইকে ক্ষমতায় বসায় মিত্র শক্তি।কিন্তু ফরাসী জনগণ তার প্রতি রুষ্ট হয়। সারাদেশে গোলযোগ লেগে যায় এবং দুর্ভিক্ষ লেগে যায়। সেনাবাহিনীও এক প্রকার বিদ্রোহ করে বসে।এস সংবাদ শুনে নেপোলিয়ন উৎসাহি হয়ে এলবা দ্বীপ হতে পলায়ন করে ফ্রান্সে প্রবেশ করেন।জনগণ তাকে সাদরে গ্রহণ করেন।তিনি পুনরায় সেনাবাহিনী একত্রিত করে লিঙ্গির যুদ্ধে অবর্তীণ হয়ে ব্লুশ্যারকে পরাজিত করেন। ১৮১৫ সালে বেলজিয়ামের ওয়াটার লুতে ব্রিটিশ সেনাপতি আর্থার ওয়েলেসলির (উপাধি ডিউক অব ওয়েলিংটন) সাথে ঐতিহাসিক ওয়াটার লু যুদ্ধে অবর্তীন হন।যুদ্ধে নেপোলিয়ন শোচনীয়ভাবে পরাজিত হন।তাকে সেন্ট হেলেনা দ্বীপে নির্বাসন দেওয়া হয়। এই দ্বীপে তিনি ১৮২১ সালে তার জীবনাবসান হয়।

 

 

প্রথম আফিমের যুদ্ধ

এই যুদ্ধ চীন ও বৃটেনের মধ্যে সংঘটিত হয়।এর সময়কাল ছিল ১৮৩৯-৪২। চীন এ যুদ্ধে হেরে হংকং দ্বীপকে লীজ দিতে বাধ্য হয়।

ক্রিমিয়ার যুদ্ধ

 

ক্রিমিয়ার যুদ্ধ ১৮৫৪-৫৬ সাল পর্যন্ত ফ্রান্স, ইংল্যান্ড ও তুরুস্কের যৌথ বাহিনীর সাথে রাশিয়ার সংঘটিত হয়।এই যুদ্ধে রাশিয়া পরাজিত হয়। ক্রিমিয়া যুদ্ধে আহত সৈন্যদের সেবা দিয়ে ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল বিখ্যাত হয়ে আছেন।২০১৪ সালে ইউক্রেন থেকে রাশিয়া ক্রিমিয়া দখল করে নেয়।

 

আমেরিকার গৃহযুদ্ধ

১৮৬১-১৮৫৬ সাল পর্যন্ত আমেরিকারএক আঞ্চলিক বিরোধ যা প্রধানত মার্কিন ফেডারেল সরকার আর বিপ্লবী ১১টি দাস নির্ভর প্রদেশের মধ্যে সংঘটিত হয়।এই সময়ে ১৮৬৩ সালে আব্রাহাম লিংকন দাস প্রথা বিলোপ করেন।যুদ্ধে উত্তরের রাজ্যগুলো জয়ী হয়।এটি গেটিসবার্গ যুদ্ধ নামেও পরিচিত।

প্রথম চীন-জাপান যুদ্ধ

১৮৯৪-৯৫ সালে কোরিয়া প্রশ্নে জাপানের সাথে চীনের যুদ্ধ সংঘটিত হয়।এ যুদ্ধে জয়ী হয়ে জাপান ফরমোজা যা বর্তমানে তাইওয়ান এবং কোরিয়া হস্তগত করে।

 

দ্বিতীয় চীন-জাপান যুদ্ধ

১৯৩১-৩৩ সালে মাঞ্চুরিয়াকে কেন্দ্র করে এ যুদ্ধ হয়।এযুদ্ধেও জাপান জয়লাভ করে চীনের কাছ থেকে মাঞ্চুরিয়া দখল করে এবং মাঞ্চুরিয়া নামে রাজ্য ঘোষনা করে।

 

কোরিয়া যুদ্ধ

১৯৫০ সালের ২৫জুন উত্তর ও দক্ষিন কোরিয়ার মধ্যে কোরিয়া যুদ্ধ শুরু হয়ে।আমেরিকা দক্ষিন কোরিয়া এবং চীন ও রাশিয়া উত্তর কোরিয়ার পক্ষ নেয়।পরবর্তীতে ১৯৫৩ সালের ২৭ জুলাই জাতিসংঘের হস্তক্ষেপে এযুদ্ধ বন্ধ হয়।

 

ভিয়েতনাম যুদ্ধ

১৯৫৫ সালে উত্তর ও দক্ষিন ভিয়েতনামের মধ্যে এ যুদ্ধ শুরু হয়।উত্তর ভিয়েতনামের পক্ষে চীন ও রাশিয়া এবং দক্ষিন ভিয়েতনামের পক্ষে আমেরিকা যুদ্ধে অবর্তীণ হয়।যুদ্ধে দক্ষিন ভিয়েতনাম পরাজিত হয়। ১৯৭৩ সালের প্যারিস শান্তি চুক্তির মাধ্যমে ১৯৭৫ সালে যুদ্ধ বিরতি কার্যকর হয়।১৯৭৬ সালে দুই ভিয়েতনাম একত্রিত হয়।

আরব-ইসরায়েল যুদ্ধসমূহ

 

আরব ইসরায়েল মোট যুদ্ধ হয় চারটি। যথাক্রমে-১৯৪৮,১৯৫৬, ১৯৬৭ এবং ১৯৭৩।

 

প্রথম আরব-ইসরায়েল যুদ্ধ

১৯৪৮ সালে বেলফোর ঘোষনার ভিত্তিতে ফিলিস্থির বুকে জন্ম নেয় ইসরায়েল নামক ইহুদিবাদ রাষ্ট্র। রাষ্ট্র হিসেবে জন্মের পরই ইসরায়েল অবৈধভাবে জেরুজালেমকে দখলের লক্ষ্যে আক্রমণ চালায়। এতে মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম মুসলিম দেশসমূহ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হয়।

 দ্বিতীয় আরব-ইসরায়েল যুদ্ধ

১৯৫৬ সালে সুয়েজ খাল জাতীয়করণ করলে মিশরের বিরুদ্ধে ইসরায়েল যুদ্ধ ঘোষনা করে। ফ্রান্স ও বৃটেন ইসরায়েলকে সহায়তা করে। কিন্তু রাশিয়ার হুমকিতে ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি মেনে নেয়।

তৃতীয় আরব-ইসরায়েল যুদ্ধ

এই যুদ্ধ ১৯৬৭ সালে সংঘটিত হয়।এই যুদ্ধের মেয়াদ ছিল মাত্র ছয়দিন।এই যুদ্ধে ইসরায়েল জেরুজালেমের বিরাট অংশ, সিনাই উপদ্বীপ, গোলান মালভূমি, পাশ্চমতীর, গাজা দখল করে নেয়।

চতুর্থ আরব-ইসরায়েল যুদ্ধ

১৯৭৩ সালে সংঘটিত আরব-ইসরায়েলের যুদ্ধের স্থায়ীত্ব ছিল ১৮দিন।এই যুদ্ধে মিশর সিনাই উপদ্বীপ পুনরুদ্ধার করে। এই যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যের দেশসমূহ প্রথমবারের মত পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে তেল অস্ত্র আরোপ করে।

 

ইরাক-ইরান যুদ্ধ

শাতইল আরব জলাধারের মালিকানা নিয়ে ১৯৮০-৮৮ সাল পর্যন্ত ইরান ও ইরাকের মধ্যে এই যুদ্ধ সংঘটিত হয়।

 

ইরাক-কুয়েত যুদ্ধ বা প্রথম উপসাগরীয় যুদ্ধ

 

ফকল্যান্ড যুদ্ধ