রাজা রামমোহন রায়

রাজা রামমোহন রায়

 

১৭৭২ সালের ২২ মে পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার রাধানগর নামক স্থানে রাজা রামমোহন রায় জন্মগ্রহণ করেন। রাধানগর স্থানটি তাঁর পিতার নামে।তার পিতার নাম রাধাকান্ত রায়। রাজা রামমোহন ছিলেন সমাজসংস্কারক, ধর্ম-সংস্কারক, চিন্তাবিধ ও বহুভাষাবিদ পন্ডিত।তিনি সংস্কৃত, আরবি, ফারসি, ইংরেজী ভাষায় পান্ডিত্য অর্জন করেন।

১৮২৩ সালে সংবাদপত্র বিধি(Press Ordinance) পাস করা হলে তিনি এর বিপক্ষে আন্দোলন শুরু করেন।তিনি সুপ্রিম কোর্টে একটি প্রতিবাদ লিপি দাখিল করেন।এ প্রতিবাদ লিপির প্রতিলিপি ইংল্যান্ডের প্রিভি কাউন্সিলে প্রেরণ করেন।

১৮২৮ সালে রামমোহন ‘ব্রাহ্মসভা’ প্রতিষ্ঠা করেন।এ সংগঠনের সদস্যগণ ১ব্রাহ্মসমাজ’ প্রতিষ্ঠা করেন।হিন্দু-ইসলাম-খ্রিস্টধর্মের সার সংক্ষেপ করে একেশ্বরবাদের ওপর ভিত্তি করে তিনি ব্রাহ্মধর্ম প্রতিষ্ঠা করেন।

১৮২৯ সালে লর্ড বেন্টিক কতৃর্ক সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধকরণ ও বিধবা বিবাহের স্বপক্ষে তিনি ব্যাপক প্রচারণা চালান।

তৎকালীন নামমাত্র দিল্লিশ্বর মোগল সম্রাট দ্বিতীয় আকবর তাঁর দাবি-দাওয়া ব্রিটিশ সরকারের কাছে পেশ করার জন্য ১৮৩০ সালে রামমোহন রায়কে বিলেতে পাঠান। এ উপল্যক্ষে সম্রাট তাকে ‘রাজা’ উপাধি দেন।

রাজা রামমোহন রায় লন্ডনে গিয়ে কোম্পানির শাসনে ভারতীয়দের দুরবস্থার কথা ব্রিটিশ পালামেন্টকে অবহিত করেন।

রাজা রামমোহন রায় ছিলেন পাশ্চাত্য শিক্ষার পক্ষে। এ উদ্দেশ্যে তিনি নিজ ব্যয়ে ১৮২৩  হিন্দু স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়াও ডেভিড হেয়ারের সহায়তায় তিনি ১৮১৭ সালে হিন্দু কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন পরে যা প্রেসিডেন্সি কলেজ হয়।

 

১৮৩৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তিনি ইংল্যান্ডের ব্রিস্টল শহরে ইহলোক ত্যাগ করেন।

 

সাহিত্য

 

গদ্যগ্রন্থ: তাঁর গদ্যগ্রন্থগুলো- বেদান্তগ্রন্থ (তাঁর প্রথম গ্রন্থ), বেদান্তসার, পথ্য প্রদান, ভট্টাচার্ সহিত বিচার, গোস্বামীর সহিত বিচার (সতীদাহ প্রথার অযোক্তিকতা প্রসঙ্গে), প্রবর্তক ও  নিবর্তকের সম্বাদ (সতীদাহ প্রথার অযোক্তিকতা প্রসঙ্গে)।

 

ব্যাকরণ গ্রন্থ: গোড়ীয় ব্যাকরণ (১৮৩৩ সালে)- বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ গ্রন্ধ। এটি বাঙালি রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ।