শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ই সেপ্টেম্বর (বাংলা ১৩ই ভাদ্র, ১২৮৩) হুগলি জেলার দেবানন্দপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি অপরাজেয় কথাসাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত। তাঁর পিতার নাম মতিলাল চট্টোপাধ্যায়। তাঁর মাতুলালয় ছিল হালিশহর। তিনি মুলত একজন ঔপন্যাসিক।

 

শরৎচন্দ্র ভাগলপুর দুর্গাচরে এম.ই স্কুল থেকে ছাত্রবৃত্তি পরীক্ষায় উর্ত্তীণ (১৮৮৭), টি.এন.জুবলি স্কুল থেকে এন্ট্রান্স পাস (১৮৯৪), এরপর দারিদ্রের জন্য আর পড়াশোনা করতে পারেননি। জীবিকার তাড়নে ১৯০৩ সালে রেঙ্গুনে(ইয়াঙ্গুন) চলে যান।

 

শরৎচন্দ্রের ছদ্মনাম সাতটি। এগুলো হল- অনিলা দেবী, অপরাজিতা দেবী, শ্রী চট্টোপাধ্যায়, অনুরূপা দেবী, পরশুরাম (রাজশেখর বসুরও ছদ্মনাম পরশুরাম), শ্রীকান্ত শর্মা, সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়।

 

১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তাকে ‘জগত্তারিণী’ পদক দেয়। আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৩৬ সালে ডি.লিট উপাধি প্রদান করা হয়।তিনি ‘অনিলা দেবী’ ছদ্মনামে লিখতেন।১৯৩৮ সালের ১৬ জানুয়ারি (২রা মাঘ, ১৩৪৪) মৃত্যুবরণ করেন।

 

সাহিত্য

 

উপন্যাস

 

তাঁর উপন্যাসগুলো হলো: বড়দিদি, শ্রীকান্ত, পথের দাবী, চরিত্রহীন, গৃহদাহ, পরিণীতা, বিরাজ বৌ, পন্ডিত মশাই, পল্লী সমাজ, দেবদাস, দত্তা, বামুনের মেয়ে, দেনা পাওনা, শেষ প্রশ্ন, বিপ্রদাস, বৈকুন্ঠের উইল, নিষ্কৃতি, চন্দ্রনাথ, শেষের পরিচয়, শুভদা, অরক্ষণীয়া, পন্ডিতমশাই।

বড়দিদি: শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি। এর পধোন চরিত্র: মাধবী, সুরেন্দ্রনাথ।

শ্রীকান্ত: এটি শরৎচন্দ্রের আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস। এটি ৪ খন্ডে রচিত। এটি তার শ্রেষ্ঠ রচনা। এতে তাঁর নাম রচিত হয় শ্রীশ্রীকান্ত শর্মা।এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্রগুলো হল: রাজলক্ষী, শ্রীকান্ত, ইন্দ্রনাথ,যদুনাথ, সুনন্দা,কুশারী, অন্নদা দিদি, ও অভয়া। ইন্দ্রনাথ বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ কিশোর চরিত্র।

 

গৃহদাহ (১৯২০): এই উপন্যাসে ত্রিভুজ প্রেমের কাহিনি ফুটে উঠেছে। প্রধান চরিত্র: সুরেশ, অচলা ও মহিম।

 

পথের দাবি (১৯২৬): এই উপন্যাসটি সরকার কতৃর্ক বাজেয়াপ্ত হয়।এটি একটি রাজনৈতিক উপন্যান। এক গুপ্ত বিপ্লবী দলের নায়ক সব্যসাচী এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র।

 

চরিত্রহীন (১৯১৭): এর প্রধান চরিত্রসমূহ: সাবিত্রী, কিরণময়ী।

 

দেবদাস (১৯১৭): প্রধান চরিত্র: দেবদাস, পার্বতী, চন্দ্রমুখী।

 

দেনা-পাওনা: এই উপন্যাসটি ১৯০১ সালে রচিত হলেও প্রকাশিত হয় ১৯১৭ সালে। চরিত্র: জীবানন্দ ও ষোড়শী।

 

দত্তা: চরিত্র: নরেন ও বিজয়া।

 

নিষ্কৃতি: এটি তাঁর একটি ক্ষুদ্র উপন্যাস। চরিত্র: গিরিশ, রমেশ, শৈলজা।

পল্লী সমাজ: এই উপন্যাসের নাট্যরূপ ‘রমা’ নামে তিনি প্রকাশ করেন। চরিত্র: রমা, রমেশ, বেণী, বলরাম।

বিপ্রদাস: তাঁর জীবনদ্দশায় সর্বশেষ উপন্যাস। চরিত্র: বিপ্রদাস, দ্বিজদাস, বন্দনা।

শেষপ্রশ্ন: চরিত্র: কমল, অজিত, শিবনাথ, মনোরমা।

 

শেষের পরিচয়: এটি তিনি শেষ করে যেতে পারেননি। পরবর্তীতে রাধারানী দেবী কর্তৃক এটির বাকি অংশ শেষ হয়।

** ‘আগামীকাল ও ‘জাগরণ’ নামে দুটি উপন্যাসও তিনি শেষ করে যেতে পারেননি।

নাটক

ষোড়শী, বিজয়া, রমা ও বিরাজবৌ।

 

প্রবন্ধ

তাঁর ১২টি প্রবন্ধ।এগুলো: নারীর মূল্য (অনীলা দেবী নামে ছদ্মনামে লেখেন), স্বদেশ ও সাহিগত্য, সাহিত্য ও নীতি, আর্ট ও দুনীতি, স্বরাজ সাধনায় নারী, নারীর মূল্য, গুরু-শিষ্য সংবাদ, স্মৃতিকথা, শিক্ষার বিরোধ, ভবিষ্যৎ বঙ্গ সাহিত্য, অভিনন্দন, ভারতীয় উচ্চ সংগীত, তরুণের বিদ্রোহ।  

গল্প

মন্দির: শরৎচন্দ্রের প্রথম গল্প। এটি তাঁর মুদ্রিত প্রথম রচনা।তিনি এই গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে ‘কুন্তলীন’ পুরস্কার পান।

 

বিলাসী: এই গল্প ‘ভারতীয়’ পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। এই গল্পের ন্যাড়া চরিত্র শরৎচন্দ্রের নিজের ছায়াপাত।

 

মেজদিদি: ‘মেজদিদি’, ‘দর্পচূর্ণ’ ও ‘আধাঁরে আলো’ এই তিনটি গল্পের সংকলন মেজদিদি গল্পগ্রন্থ। এই তিনটি গল্পই চলচ্চিত্রায়িত হয়েছে। মেজদিদি গল্পের প্রধান চরিত্র: হেমাঙ্গিনী, কাদম্বিনী।

 

মহেশ: প্রধান চরিত্র – গফুর ও তাঁর মেয়ে আমেনা।

শরৎচন্দ্রের অন্যান গল্পগুলো হলো: বিন্দুর ছেলে, সতী, একাদশীর বৈরাগ্য, কাশীনাথ, মামলার ফল, রামের সুমতি, ছবি, অভাগীর স্বর্গ, স্বামী, কাশিনাথ,পরেশ, অনুরাধা, হরিলক্ষী।

** বিন্দুর ছেলে, রামের সুমতি ও পথনির্দেশ এই তিনটি গল্পের সংকলন হলো ‘বিন্দুর ছেলে ও অন্যান্য গল্প’।

 

** ছবি গল্পগ্রন্থে ছবি, বিলাসী ও মামলার ফল এই তিনটি গল্পের সংকলন।