শামসুর রাহমান

শামসুর রহমান

শামসুর রহমান ১৯২৯ সালের ২৪ অক্টোবর ঢাকার মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর ডাক নাম বাচ্চু। তাঁর পিতা মুখলেসুর রহমান আর মাতা আমেনা বেগম। তাঁর পৈতৃক নিবাস নরসিংদী জেলার রায়পুরার পাহাড়তলি গ্রামে। শামসুর রহমানকে নাগরিক কবি বলা হয়।তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় ‘মজলুম আদিব’ ছদ্মনামে লিখতেন।২০০৬ সালের ১৭ আগস্ট তিনি ঢাকাতে মারা যান।

সাহিত্য

কাব্যগ্রন্থ: তাঁর প্রধান কাব্যগ্রন্থগুলো হল-প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে, নিরালোকে দিব্যরথ, প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে, বিধ্বস্ত নীলিমা, রৌদ্র করোটিতে, বন্দী শিবির থেকে (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক), বাংলাদেশ স্বপ্ন দেখে, উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ, আদি নগ্ন পদধ্বনি, দুঃসময়ের মুখোমুখি, নিজ বাসভূমে, বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়, এক ধরনের অহংকার, শূণ্যতায় তুমি শোকসভা, অবিরল জলাভূমি, এক ফোঁটা কেমন অনল, হরিণের হাড়।

 

কবিতা: স্বাধীনতা তুমি, বারবার ফিরে আসে, তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা, পণ্ডশ্রম, একটি ফটোগ্রাফ, ফেব্রুয়ারী ৬৯, এ লাশ আমরা রাখবো কোথায়, ‘বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা’।

 

উপন্যাসঃ অক্টোপাস।

 

শিশুতোষঃ গোলাপ ফুটে খুকির হাতে, এলাটিং বেলাটিং, ধান ভানলে কুঁড়ো দেবো।

 

আত্মস্মৃতি: স্মৃতিশহর, কালের কুলোয় লেখা।

 

পক্তি: ১. পৃথিবীর একপ্রান্ত হতে অন্য প্রান্ত জ্বলন্ত

       ঘোষণার ধ্বনি-প্রতিধ্বনি তুলে,

       নতুন নিশানা, উড়িয়ে, দামাম বাজিয়ে দিগ্বিদিক

       এই বাংলায়

       তোমাকেই আসতে হবে। (তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা)

     ২. স্বাধীনতা তুমি, রবি ঠাকুরের অজর কবিতা।(স্বাধীনতা তুমি)

     ৩. স্বাধীনতা তুমি পিতার কোমল জায়নামাজের উদার জমিন। (স্বাধীনতা তুমি)

     ৪. এ আমার ছোট ছেলে, যে নেই এখন,

        পাথরের টুকরোর মতন

        ডুবে গেছে আমাদের গ্রামের পুকুরে

        বছর-তিনেক আগে কাক-ডাকা গ্রীষ্মের দুপুরে।(একটি ফটোগ্রাফ)

     ৫. মেঘনা নদী দেবো পাড়ি; কল-অলা একনায়ে।

        আবার আমি যাবো আমার; পাড়াতলী গাঁয়ে। (প্রিয় স্বাধীনতা)

     ৬. এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ কান নিয়েছে চিলে,

       চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

       কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

       আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে। (পন্ডশ্রম)।

     ৭. তোমার মুখের দিকে আজ আর যায় না তাকানো

        বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা। (বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা)

     ৮. শহীদের ঝলকিত রক্তের বুদবুদ,

        স্মৃতিগন্ধে ভরপুর একুশের কৃষ্ণচূড়া আমাদের চেতনারই রঙ।

             ৯. সমঋতি ঝলমল সুনীল মাঠের কাছে আমার অনেক ঋণ।