সংবিধান

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংবিধান

  • বাংলাদেশের সাংবিধানিক নাম – গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ (People’s Republic of Bangladesh)
  • গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন হলো সংবিধান।
  • রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য প্রত্যেকটি রাষ্ট্রের কিছু নির্দিষ্ট বিধি-বিধান বা আইন থাকে। এই বিধি-বিধানকে রাষ্ট্রের সংবিধান বা আইন বলে। সংবিধান হচ্ছে রাষ্ট্রের মূল ও সর্বোচ্চ আইন।
  • বিশ্বের সবচেয়ে বড় সংবিধান হলো ভারতের এবং সবচেয়ে ছোট সংবিধান হলো যুক্তরাষ্ট্রের।
  • সংবিধানকে দুইভাগে ভাগ করা যায়। যথাঃ ক) লিখিত সংবিধান ও খ) অলিখিত সংবিধান। বাংলাদেশের সংবিধান হলো লিখিত সংবিধান।
  • যুক্তরাজ্য, নিউজিল্যান্ড, স্পেনের সংবিধান হলো অলিখিত।
  • সৌদি আরবের কোন সংবিধান নেই।
  • সংশোধনের ভিত্তিতে সংবিধান দুই রকমের। যথাঃ সুপরিবর্তনীয় সংবিধান ও দুষ্পরিবর্তনীয় সংবিধান।
  • মূল সংবিধানের কপিটি বর্তমানে বাংলাদেশের জাতীয় যাদুঘরে সংরক্ষিত আছে।

সুপরিবর্তনীয় সংবিধান পরিবর্তনে কোনো জটিল পদ্ধতির দরকার হয়না।আইন সভার সাধারণ আইনের মতোই তা পরিবর্ত করা যায়।

দুষ্পরিবর্তনীয় সংবিধানের ক্ষেত্রে সংবিধানের পরিবর্তন বেশ জটিল ও বিষেশ পদ্ধতির প্রয়োজন হয়।বাংলাদেশের সংবিধান দুষ্পরিবর্তনীয় সংবিধান। এর কোনো অংশ পরিবর্তন করতে হলে সংসদ সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশ সদ্যসের সমর্থন প্রয়োজন হয়।

বাংলাদেশের সংবিধান রচনাকালের ইতিহাস

সংবিধান তৈরির জন্য ১৯৭২ সালের ১১ই জানুয়ারি তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান বাংলাদেশ অস্থায়ী সংবিধান আদেশ জারি করেন। পরবর্তীতে ১৯৭২ সালের ২৩ মার্চ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবু সাইদ চৌধুরী বাংলাদেশ গণপরিষদ আইন জারি করেন। সংবিধান রচনার উদ্দেশ্যে এই গণপরিষদ গঠন করা হয়। ১৯৭০ সালের ৭ই ডিসেম্বর এবং ১৭ ডিসেম্বর জাতীয় পরিষদ ও প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন এবং ১৭ই জানুয়ারির উপনির্বাচনে পূর্ব পাকিস্থান হতে নির্বাচিত সদস্যগণ গণপরিষদের সদস্য বলে পরিগনিত হয়। জাতীয় পরিষদের ১৬৯ জন এবং প্রাদেশিক পরিষদের ৩০০ জন মিলে মোট ৪৬৯ জন সদস্য হওয়ার কথা থাকলেও যুদ্ধপরাধী , মৃত ও দেশত্যাগের জন্য সদস্য সংখ্যা নেমে দাড়ায় ৪৩০ জনে।

  • স্বাধীনতার ইশতেহার ঘোষনা করা হয় ৩ মার্চ, ১৯৭১।
  • সংবিধানের মূলনীতি ৪ টি। ধর্মনিরপেক্ষতা, জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র।
  • গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন বসে ১০ এপ্রিল ১৯৭২ সালে। গণপরিষদের প্রথম স্পীকার ছিলেন শাহ আবদুল হামিদ এবং প্রথম ডেপুটি স্পীকার ছিলেন মোহাম্মদ উল্লাহ।
  • গণপরিষদের প্রথম সভাপতি মাওলানা আবদুর রশিদ তর্কবাগীশ।
  • গণপরিষদরে সদস্য ছিল ৪৩০ জন।
  • সংবিধান রচনা কমিটির সদস্য ছিলেন ৩৪ জন। কমিটির সভাপতি ছিলেন ড. কামাল হোসেন। এজন্য ড. কামাল হোসেনকে সংবিধানের রূপকার বা স্থপতি বলা হয়।
  • সংবিধান রচনা কমিটির একমাত্র মহিলা সদস্য ছিলেন বেগম রাজিয়া বানু।
  • সংবিধান রচনা কমিটির একমাত্র বিরোধী দলের সদস্য ছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।
  • সংবিধান রচনা করা হয় ভারত ও যুক্তরাজ্যের সংবিধানের আলোকে।
  • বাংলাদেশ সংবিধানের ৯০ পৃষ্ঠা সংবলিত ‘ খসড়া সংবিধান ’ প্রথম ১২ই অক্টোবর ১৯৭২ সালে (২য় অধিবেশনে) ড. কামাল হোসেন প্রথম গণপরিষদে প্রথম উত্থাপন করেন।
  • গণপরিষদের সদস্যরা হস্তলিখিত মূল সংবিধানের বাংলা ও ইংরেজী লিপিতে স্বাক্ষর করে ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে। এতে স্বাক্ষর করেন ৩৯৯ জন।
  • ৪ই নভেম্বর ১৯৭২ সালে সংবিধানের খসড়া গণপরিষদে গৃহীত হয়। এজন্যই ৪ই নভেম্বর সংবিধান দিবস হিসেবে পালন করা হয়।
  • বাংলাদেশের সংবিধান বাংলা ও ইংরেজী দুই ভাষায় রচিত। তবে বাংলা ও ইংরেজীর মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে বাংলা গ্রহণযোগ্য।
  • গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধান কার্যকর বা প্রবর্তিত হয় ১৬ই ডিসেম্বর, ১৯৭১।
  • বাংলাদেশের প্রথম হস্থলিখিত সংবিধানটি ছিলো ৯৩ পাতার। হস্থলিখিত সংবিধানটির লেখক ছিলেন শিল্পী আব্দুর রউফ। হস্থলিখিত সংবিধানটির অঙ্গসজ্জা করেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন। গণপরিষদের সদস্যরা হস্থলিখিত মূল সংবিধানের বাংলা ও ইরেজী লিপিতে স্বাক্ষর করেন ১৪ই ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে। গণপরিষদের ৩৯৯ জন সদস্য হস্থলিখিত মূল সংবিধানে স্বাক্ষর করেন। স্বাক্ষরসহ মোট খসড়া সংবিধানটি হয় ১০৮ পৃ্ষ্ঠার। কিন্তু সংবিধান রচনা কমিটির একমাত্র বিরোধী দলের সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত হস্থলিখিত মূল সংবিধানে স্বাক্ষর করেননি। বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হওয়ার সময় রাষ্ট্রপতি ছিলেন আবু সাইদ চৌধুরি এবং প্রধানমন্ত্রী ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।

বাংলাদেশের সংবিধান

বাংলাদেশের সংবিধানে ১১ টি অধ্যায় বা ভাগ আছে। এর অনুচ্ছেদ হলো ১৫৩ টি। বাংলাদেশের সংবিধান শুরু হয়েছে প্রস্তাবনা দিয়ে এবং শেষ হয়েছে ৭টি তফছিল দিয়ে। সংবিধান হল বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন। বাংলা ও ইংরেজীর মধ্যে অর্থগত পার্থক্য দেখা দিলে বাংলা রূপ অনুসরনীয় হবে।

প্রস্তাবনাঃ “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম” দিয়ে শুরু।

সংবিধানের বিভাগ বা অধ্যায়সমূহ

প্রথম বিভাগ প্রজাতন্ত্র (০১-০৭) ৭টি অনুচ্ছেদ
দ্বিতীয় বিভাগ রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি(০৮-২৫) ১৮টি অনুচ্ছেদ
তৃতীয় বিভাগ মৌলিক অধিকার (২৬-৪৭) ২২টি অনুচ্ছেদ
চতুর্থ বিভাগ নির্বাহী বিভাগ (৪৮-৬৪) ১৭টি অনুচ্ছেদ
পঞ্চম বিভাগ আইনসভা (৬৫-৯৯) ২৯টি অনুচ্ছেদ
ষষ্ঠ বিভাগ বিচার বিভাগ (৯৪-১১৭) ২৩টি অনুচ্ছেদ
সপ্তম বিভাগ নির্বাচন (১১৮-১২৬) ০৯টি অনুচ্ছেদ
অষ্টম বিভাগ মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (১২৭-১৩২) ০৬টি অনুচ্ছেদ
নবম বিভাগ(ক) বাংলাদেশের কর্মবিভাগ (১৩৩-১৪১) ০৯টি অনুচ্ছেদ
নবম বিভাগ(খ) জরুরি বিধিমালা [১৪১(ক)-১৪১(গ)] ০৩টি অনুচ্ছেদ
দশম বিভাগ সংবিধান সংশোধনী ১৪২ ০১টি অনুচ্ছেদ
একাদশ বিভাগ বিবিধ ১৪৩-১৫৩ ১১টি অনুচ্ছেদ

বাংলাদেশের সংবিধানের ৭টি তফসিল

প্রথম তফসিলঃ অন্যান্য বিধান সত্ত্বেও কার্যকর আইন।

দ্বিতীয় তফসিলঃ বিলুপ্তি।

তৃতীয় তফসিলঃ শপথ ও ঘোষনা।

প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীপরিষদ, স্পীকার ও ডেপুটি স্পীকার, প্রধান উপদেষ্টা ও অন্যান্য উপদেষ্টা, প্রধান বিচারপতিকে শপথ বাক্য পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতি। তবে সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করান স্পীকার। (প্রধানমন্ত্রী এবং সংসদ সদস্য হতে হলে ২৫ বছর আর প্রেসিডেন্ট হতে হলে ৩৫ বছর বয়স হতে হবে।)

প্রধান বিচারপতি শপথ বাক্য পাঠ করাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, সরকারী কর্মকমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্য, সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোটের বিভাগের বিচারপতিদেরকে।

চতুর্থ তফসিলঃ ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধিমালা।

পঞ্চম তফসিলঃ ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ তারিখে ঢাকার রেসকোর্স (বর্তমানে সোহরাওদী উদ্যান) ময়দানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণ।

ষষ্ঠ তফসিলঃ ১৯৭১ সালের ২৫মার্চ মধ্যরাত শেষে অর্থাৎ ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান কর্তৃক প্রদত্ত স্বাধীনতার ঘোষনা।

সপ্তম তফসিলঃ ১০ এপ্রিল, ১৯৭১ সালের মুজিবনগর সরকারের জারিকৃত স্বাধীনতার ঘোষনাপত্র।

বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদসমূহ

প্রথম ভাগঃ প্রজাতন্ত্র (১-৭)

অনুচ্ছেদ-১ঃ প্রজাতন্ত্র – বাংলাদেশ একটি একক স্বাধীন ও স্বার্বভৌম প্রজাতন্ত্র যা ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’ নামে পরিচিত হইবে।

অনুচ্ছেদ-২ঃ প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় সীমানা।

অনুচ্ছেদ-২(ক): রাষ্ট্রধর্ম- প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম তবে হিন্দু,বৌদ্ধ, খিষ্টানসহ অন্যান্য ধর্মপালনে রাষ্ট্র সমমর্যাদা ও সম-অধিকার নিশ্চিত করবে।

অনুচ্ছেদ-৩ঃ রাষ্ট্রভাষা- প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা।

অনুচ্ছেদ-৪ঃ জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা ও প্রতীক।

১) প্রজাতন্ত্রের জাতীয় সঙ্গীত ‘আমার সোনার বাংলা’র প্রথম ১০ চরন।

২) প্রজাতন্ত্রের জাতীয় পতাকা হইতেছে সবুজের ক্ষেত্রের উপর স্থাপিত রক্তবর্ণের একটি ভরাট বৃত্ত।

৩) প্রজাতন্ত্রের জাতীয় প্রতীক হইতেছে উভয় পার্শ্বে ধানর্শীষ বেষ্টিত পানিতে ভাসমান জাতীয় পুষ্প শাপলা, তাহার শীর্ষ দেশে পাটগাছের তিনটি পরস্পর সংযুক্তপত্র, তাহার উভয় পার্শ্বে দুইটি করিয়া তারকা।

অনুচ্ছেদ-৪(ক): জাতির পিতার প্রতিকৃতি

অনুচ্ছেদ-৫ঃ রাজধানী- প্রজাতন্ত্রের রাজধানী ঢাকা

অনুচ্ছেদ-৬ঃ নাগরিকত্ব-বাংলাদেশের জনগন জাতি হিসেবে বাঙালি এবং নাগরিকগন বাংলাদেশী বলিয়া পরিচিত হইবেন।

অনুচ্ছেদ-৭ঃ সংবিধানের প্রাধান্য – প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগন।

অনুচ্ছেদ-৭(ক): সংবিধান বাতিল, স্থগিতকরণ ইত্যাদি অপরাধ।

অনুচ্ছেদ –৭(খ): সংবিধানের মৌলিক বিষয়াবলী সংশোধনের অযোগ্য- সংবিধান আইন ১৪২ অনুচ্ছেদে যা কিছুই থাকুক না কেন, সংবিধানের প্রস্তাবনা, প্রথম ভাগের সকল অনুচ্ছেদ, দ্বিতীয় ভাগের সব অনুচ্ছেদ,নবম – ক ভাগের বর্ণিত অনুচ্ছেদ সমূহের বিধানবলী সাপেক্ষে তৃতীয়ভাগের সকল অনুচ্ছেদ এবং একাদশ ভাগের ১৫০ অনুচ্ছেদসহ সংবিধানের অন্যান্য মৌলিক কাঠামো সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ সমূহের বিধানবলী সংযোজন, পরিবর্তন, প্রতিস্থাপন, রহিতকরণ কিংবা অন্য কোন পন্থায় সংশোধনের অযোগ্য হবে।

দ্বিতীয় ভাগ

রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি ( ৮-২৫ )

অনুচ্ছেদ-৮ঃ মূলনীতিসমূহ – ১) ধর্মনিরপেক্ষতা, জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র। এগুলো রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি।

অনুচ্ছেদ-৯ঃ জাতীয়তাবাদ।

অনুচ্ছেদ-১০ঃ সমাজতন্ত্র ও শোষনমুক্তি।

অনুচ্ছেদ-১১ঃ গনতন্ত্র ও মানবাধিকার।

অনুচ্ছেদ-১২ঃ নিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা।

অনুচ্ছেদ-১৩ঃ মালিকানার নীতি।

বাংলাদেশের মালিকানা নীতি তিনটি। ১) ব্যক্তি ২) সমবায় ৩) ও রাষ্ট্রীয় ।

অনুচ্ছেদ-১৪ঃ কৃষক ও শ্রমিক মুক্তি।

অনুচ্ছেদ-১৫ঃ মৌলিক প্রয়োজনের ব্যবস্থা।

অনুচ্ছেদ-১৬ঃগ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষি বিপ্লব।

অনুচ্ছেদ-১৭ঃ অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা।

অনুচ্ছেদ-১৮ঃ জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা।

অনুচ্ছেদ-১৮ (ক): পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও উন্নয়ন।

অনুচ্ছেদ-১৯ঃ ‘সুযোগের সমতা’।

অনুচ্ছেদ-২০ঃ অধিকার ও কর্তব্যরুপে কর্ম।

অনুচ্ছেদ-২১ঃ নাগরিকদের অধিকার ও সরকারী কর্মচারীদের কর্তব্য।

অনুচ্ছেদ-২২ঃ নির্বাহী বিভাগ হতে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ।

অনুচ্ছেদ-২৩ঃ জাতীয় সংস্কৃতি।

অনুচ্ছেদ-২৩(ক): উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি।

অনুচ্ছেদ-২৪ঃ জাতীয় স্মৃতিনিদর্শন।

অনুচ্ছেদ-২৫ঃ আর্ন্তজাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়ন।

তৃতীয় ভাগ

মৌলিক অধিকার

অনুচ্ছেদ- ২৬ : মৌলিক অধিকারের সহিত অসামাঞ্জস্য আইন বাতিল।

অনুচ্ছেদ- ২৭ : আইনের দৃষ্টিতে সমতা।

অনুচ্ছেদ- ২৮: র্ধম প্রভৃতি কারণে বৈষম্য।

অনুচ্ছেদ- ২৯: সরকারি নিয়োগ লাভে সুযোগের সমতা।

অনুচ্ছেদ- ৩০: বিদেশী খেতাব প্রভৃতি গ্রহনে নিষিদ্ধ। রাষ্ট্রপতির পূর্বনুমোদন ছাড়া কোন নাগরিক বিদেশী রাষেট্রর নিকট হইতে কোন খেতাব, সম্মান, পুরস্কার বা ভূষণ গ্রহন করিবেন না।

অনুচ্ছেদ- ৩১: আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার।

অনুচ্ছেদ- ৩২: জীবন ও ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার।

অনুচ্ছেদ- ৩৩: গ্রেফতার ও আটক সর্ম্পকে রক্ষাকবচ।

অনুচ্ছেদ- ৩৪: জবরদস্তি শ্রম নিষিদ্ধকরণ।

অনুচ্ছেদ- ৩৫: বিচার ও দন্ড সম্পর্কে রক্ষণ।

অনুচ্ছেদ- ৩৬: চলাফেরার স্বাধীনতা।

অনুচ্ছেদ- ৩৭: সমাবেশের স্বাধীনতা।

অনুচ্ছেদ- ৩৮: সংগঠনের স্বাধীনতা।

অনুচ্ছেদ- ৩৯: চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক-স্বাধীনতা। ১) চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা, ২) বাক ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতা, ৩) সংবাদপত্রের স্বাধীনতা।

অনুচ্ছেদ- ৪০: পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতা।

অনুচ্ছেদ- ৪১: ধর্মীয় স্বাধীনতা।

অনুচ্ছেদ- ৪২: সম্পত্তির অধিকার।

অনুচ্ছেদ- ৪৩: গৃহ ও যোগাযোগের রক্ষণ।

অনুচ্ছেদ- ৪৪: মৌলিক অধিকার বলদৎকরণ।

অনুচ্ছেদ- ৪৫: শৃঙ্খলামূলক আইনের ক্ষেত্রে অধিকারের পরিবর্তন।

অনুচ্ছেদ- ৪৬: দায়মুক্তির বিধানের ক্ষমতা।

অনুচ্ছেদ- ৪৭: কতিপয় আইনের হেফাজত।

গণহত্যাজনিত অপরাধ, মানবতা বিরোধী অপরাধ বা যুদ্ধপরাধ এবং আর্ন্তজাতিক আইনের অধীন অন্যান্য অপরাধের জন্য কোন সশস্ত্র বাহিনী বা প্রতিরক্ষা বাহিনী বা সহায়ক বাহিনীর সদস্য কিংবা যুদ্ধবন্দীকে আটক, ফৌজদারীতে সোপার্দ কিংবা দন্ডদান বিধান সংবলিত কোন আইনের বিধান এই সংবিধানের কোন বিধানের সহিত অসামাঞ্জস্য বা তাহার পরীপন্থী, এই কারণে বাতিল বা বেআইনী বলিয়া গণ্য হইবেনা।

চতুর্থ ভাগ

নির্বাহী বিভাগ

১ম পরিচ্ছেদ -রাষ্ট্রপতি

অনুচ্ছেদ-৪৮: রাষ্ট্রপতি। ৫৬(৩) অনুসারে প্রধানমন্ত্রী এবং ৯৫ (১) অনুসারে প্রধান বিচারপতির নিয়োগের ক্ষেত্র ব্যতিত রাষ্ট্রপতি তাঁর অন্য সকল দায়িত্বপালনে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করবেন।

কোন ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হইবার যোগ্য হইবেনা যদি তিনি-

ক) পয়ঁত্রিশ বছরের কম বয়স্ক হন।

খ) যদি তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হইবার যোগ্য না হয়।

গ) কখনও এই সংবিধানের অধীণ অভিশংসন দ্বারা রাষ্ট্রপতির পদ হতে অপসারিত হয়ে থাকেন।

অনুচ্ছেদ-৪৯: ক্ষমা প্রদর্শনের অধিকার।

অনুচ্ছেদ-৫০: রাষ্ট্রপতি পদের মেয়াদ।

ক) রাষ্ট্রপতি কার্যভার গ্রহণের তারিখ হইতে ৫ বছরের মেয়াদে তাঁর পদে অধিষ্ঠিত হইবে।

খ) একাধিক্রমে হউক বা না হউক দুই মেয়াদের অধিক রাষ্ট্রপতির পদে কোন ব্যক্তি অধিষ্ঠিত হতে পারবেনা।

গ) স্পিকারের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে রাষ্ট্রপতি স্বীয় পদত্যাগ করতে পারবে।

অনুচ্ছেদ-৫১: রাষ্ট্রপতির দায়মুক্তি।

রাষ্ট্রপতি তার দায়িত্বপালন করতে গিয়ে বা অনুরূপ বিবেচনায় কোন কার্য করে থাকলে বা না করে থাকলে তাকে কোন আদালতের নিকট জবাবদিহি করতে হবেনা।

অনুচ্ছেদ-৫২: রাষ্ট্রপতির অভিশংসন।

১) এই সংবিধান লংঘন বা ঘোরতর অসদাচারণের অভিযোগে রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসিত করা যাবে।

২) অভিযোগ বিবেচনার পর মোট সদস্য সংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশ ভোটের মাধ্যমে অভিযোগ যথার্থ বলিয়া ঘোষনা করিয়া সংসদ কোন প্রস্তাব গ্রহন করলে প্রস্তাব গৃহীত হবার তারিখে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হবে।

অনুচ্ছেদ-৫৩: অসামর্থ্যের কারণে রাষ্ট্রপতির অপসারণ।

অনুচ্ছেদ-৫৪: অনুপস্থিতি প্রভৃতি কালে রাষ্ট্রপতি পদে স্পিকার ।

রাষ্ট্রপতি পদ শূণ্য হলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অণ্য কোন কারণে রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে ক্ষেত্রমত রাষ্ট্রপতি নির্বাচিতনা হওয়া পর্যন্ত কিংবা রাষ্ট্রপতি পুনরায় স্বীয় কার্যাভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার দায়িত্ব পালন করিবেন।

২য় পরিচ্ছেদ- প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীসভা

অনুচ্ছেদ-৫৫: মন্ত্রীসভা।

অনুচ্ছেদ-৫৬: মন্ত্রীগণ।

অনুচ্ছেদ-৫৭: প্রধানমন্ত্রীর পদের মেয়াদ।

অনুচ্ছেদ-৫৮: মন্ত্রীদরে পদের মেয়াদ।

অনুচ্ছেদ-৫৮(ক): বিলুপ্তি।

৩য় পরিচ্ছেদ- স্থানীয় শাসন

অনুচ্ছেদ-৫৯: স্থানীয় শাসন

অনুচ্ছেদ-৬০: স্থানীয় শাসন সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতা।

৪র্থ-পরিচ্ছেদ-প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগ

অনুচ্ছেদ-৬১: সর্বাধিনায়কতা ।

বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগের সর্বাধিনায়কতা রাষ্ট্রপতির উপর ন্যস্ত হইবে।

অনুচ্ছেদ-৬২: প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগে ভর্তি।

অনুচ্ছেদ-৬৩: সংসদের অনুমোতি ব্যতিত যুদ্ধ ঘোষনা করা যাবেনা কিংবা প্রজাতন্ত্র কোন যুদ্ধে অংশগ্রহণ করিবেন না।

অনুচ্ছেদ-৬৪: অ্যার্টনি জেনারেল ।

১) সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হবার যোগ্য কোন ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের অ্যার্টনি জেনারেল পদে নিয়োগ দান করিবেন।

রাষ্ট্রপতির সন্তোষানুযায়ী সময়সীমা পর্যন্ত অ্যার্টনি জেনারেল স্বীয় পদে বহাল থাকবেন এবং রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নির্ধারিত পারিশ্রমিক লাভ করবেন।

পঞ্চম ভাগ : আইন সভা (৬৫-৯৩)

অনুচ্ছেদ-৬৫: সংসদ প্রতিষ্ঠা।

  • ‘জাতীয় সংসদ’ (House of the Nation) নামে বাংলাদেশের একটি সংসদ থাকবে। এই সংবিধানের বিধানবলী সাপেক্ষে প্রজাতন্ত্রের আইন প্রণয়নের ক্ষমতা সংসদের উপর ন্যস্থ হবে।
  • একক আঞ্চলিক নির্বাচনী এলাকাসমূহ হইতে প্রত্যক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে আইনানুযায়ী নির্বাচিত ৩০০ সদস্য নিয়ে এবং এই অনুচ্ছেদের (৩) দফায় কার্যকরতাবলে উক্ত দফায় বর্ণিত সদস্যদেরকে নিয়ে সংসদ গঠিত হবে। সদস্যগণ ‘সংসদ সদস্য’ বলে অভিহিত হবে। ৩ (ক) সংবিধান (পঞ্চদশ) আইন, ২০১১ প্রবর্তনকালে বিদ্যমান সংসদের অবশিষ্ট মেয়াদে এই অনুচ্ছেদের (২) দফায় বর্ণিত প্রত্যক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত ৩০০ সদস্য এবং (৩) দফায় বর্ণিত ৫০ জন মহিলা সদস্য নিয়ে সংসদ গঠিত হবে।

অনুচ্ছেদ-৬৬: সংসদে নির্বাচিত হবার যোগ্যতা ও অযোগ্যতা।

অনুচ্ছেদ-৬৭: সংসদের আসন শূণ্য হওয়া।

কোন সংসদ্য সদস্যের পদ শূণ্য হবে যদি –

১) যদি তাঁর নির্বাচনের পর সংসদের প্রথম বঠৈকের তারিখ হতে ৯০ দিনের মধ্যে তিনি তৃতীয় তফসিলের নির্ধারিত শপথগ্রহন এবং শপথগ্রহণপত্রে স্বাক্ষরদান করতে ব্যর্থ হলে।তবে শর্ত থাকে যে, অনুরূপ মেয়াদ অতিবাহিত হবার পূর্বে স্পিকার যথর্অথ কারণে তা বর্ধিত করতে পারবেন।

২) যদি সংসদের অনুমতি না নিয়ে একাধিক্রমে ৯০ বৈঠক দিবস অনুপস্থিত থাকে।

৩) যদি সংসদ ভেঙ্গে যায়।

অনুচ্ছেদ-৬৮: সংসদ সদস্যের পারিশ্রমিক।

অনুচ্ছেদ-৬৯: শপথগ্রহনের পূর্বে আসনগ্রহণ বা ভোটদান করলে সদস্যের অর্থদন্ড।

অনুচ্ছেদ-৭০: পদত্যাগ ও অন্যান্য কারণে আসন শূণ্য হওয়া।

কোন নির্বাচনে কোন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরূপে মনোনীত হওয়া কোন ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে তিনি যদি উক্ত দল হতে পদত্যাগ করেন বা সংসদে উক্তদলের বিপক্ষে ভোটদান করেন, তাহলে সংসদে তার আসন শূণ্য হবে।

অনুচ্ছেদ-৭১: দ্বৈত সদস্যতায় বাধাঁ।

অনুচ্ছেদ-৭২: সংসদের অধিবেশন।

সরকারি বিজ্ঞপ্তি দ্বারা রাষ্ট্রপতি সংসদ আহ্বান, স্থগিত ও ভেঙ্গে দিতে পারেন। তবে শর্ত থাকে যে, ১২৩ অনুচ্ছেদের (৩) দফার (ক) উপদফায় উল্লিখিত নব্বই ‍দিন ব্যতিত অন্য সময়ে সংসদের এক অধিবেশনর সমাপ্তি এবং পরবর্তী অধিবেশনের প্রথম বৈঠকের মধ্যে ৬০ দিনের অতিরিক্ত বিরতি থাকবেনা।

সংসদ সদস্যদের যে কোন সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষিত হইবার ৩০ দিনের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠানের জন্য সংসদ আহ্বান করা।

রাষ্ট্রপতি পূর্বে ভাঙ্গিয়া দিয়ে না থাকলে প্রথম বৈঠকের তারিখ হইতে ৫ বছর অতিবাহিত হইলে সংসদ ভেঙ্গে যাবে।

অনুচ্ছেদ-৭৩: সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ ও বাণী – (২) সংসদ সদস্যদের প্রত্যেক সাধারণ নির্বাচনের পর প্রমথ অধিবেশনের সূচনায় এবং প্রত্যেক বছর প্রথম অধিবেশনের সূচনায় রাষ্ট্রপতি সংসদে ভাষণ দান করবেন।

অনুচ্ছেদ-৭৩(ক): সংসদ সর্ম্পকে মন্ত্রীগণের অধিকার ।

অনুচ্ছেদ-৭৪: স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার।

অনুচ্ছেদ৭৫: কার্যপ্রণালি বিধি, কোরাম প্রভৃতি) এই সংবিধান সাপেক্ষে

উপস্থিত ও ভোটদানকারী সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে সংসদে সিদ্ধান্ত গ্রহীত হবে। তবে সমসংখ্যক ভোটের ক্ষেত্রে তিনি (স্পিকার) নির্ণায়ক ভোট বা কাস্টিং ভোট প্রদান করবেন।

সংসদে বৈঠক চলাকালে কোন সময় উপস্থিত সদস্য সংখ্যা ৬০ জন সদস্য উপস্থিত না হওয়া পর্যন্ত বৈঠক স্থগিত রাখবেন বা মুলতবী করবেন।

অনুচ্ছেদ ৭৬: সংসদের স্থায়ী কমিটি সমূহ

সংসদ সদস্যদের মধ্য হতে সদস্য নিয়ে সংসদ নিম্নলিখিত স্থায়ী কমিটি নিয়োগ করবেন।

ক) সরকারি হিসাব কমিটি।

খ) বিশেষ অধিকার।

গ) সংসদের কার্যপ্রণালী বিধিতে নির্দিষ্ট অন্যান্য স্থায়ী কমিটি।

অনুচ্ছেদ -৭৭: ন্যায়পাল

১) সংসদ আইন দ্বারা ন্যায়পালের পদ প্রতিষ্ঠার জন্য বিধান করতে পারবেন।

২) সংসদ আইনের দ্বারা ন্যায়পালকে কোন মন্ত্রণালয়, সরকারি কর্মচারী বা সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষের যে কোন কার্য সম্পর্কে তদন্ত পরিচালনার ক্ষমতাসহ যেরূপ ক্ষমতা প্রয়োগ বা দায়িত্ব প্রদান করবেন, ন্যায়পাল সেইরূপ ক্ষমতা বা দায়িত্ব পালন করবেন।

ন্যায়পালের ইতিহাস

১৮০৯ সালে বিশ্বে প্রথম সুইডেনের সংবিধানে ‘অম্বাডসম্যান’ বা ন্যায়পাল পদ সৃষ্টি করা হয়। সুইডিশ শব্দ অম্বাডসম্যান এর অর্থ হলো প্রতিনিধি বা মুখপাত্র।অর্থাৎ ন্যায়পাল হলেন এমন ব্যক্তি যিনি অন্যের জন্য কথা বলেন, বা প্রতিনিধিত্ব করেন। ব্রিটেনে ‘সংসদীয় কমিশনার’ নামে ন্যায়পালের সমবিধান প্রচলিত আছে। ভারতে ন্যায়পালের পরিবর্তে লোকপাল নামে পদ সৃষ্টির আলোচনা চলছে।বাংলাদেশের সংবিধানের ৭৭ নং অনুচ্ছেদে ন্যায়পাল পদ সৃষ্টির কথা বলা হয়েছে যা ১৯৮০ সালে আইন পাস হয় কিন্তু এখন পর্যন্ত কাউকে ন্যায়পাল পদে নিয়োগ দেয়া হয়নি।

অনুচ্ছেদ-৭৮: সংসদ ও সদস্যদের বিষেশ অধিকার ও দায়মুক্তি।

অনুচ্ছেদ-৭৯: সংসদের সচিবালয়।

অনুচ্ছেদ-৮০: আইন প্রণয়ন পদ্ধতি

রাষ্ট্রপতির কাছে কোন বিল পেশ করার ১৫ দিনের মধ্যে তিনি তাতে সম্মতি দান করবেন বা অর্থবিল ব্যতিত অন্য কোন বিলের ক্ষেত্রে বিলটি বা তার কোন বিশেষ বিধান পুনর্বিবেচনার কিংবা রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নির্দেশিত কোন সংশোধিত বিবেচনার অনুরোধ জ্ঞাপন করিয়া একটি বার্তাসহ তিনি বিলটি সংসদে ফেরত দিতে পারবেন এবং রাষ্ট্রপতি তা করতে অসমর্থ হলে উক্ত মেয়াদের অবসানে বিলটিতে সম্মতিদান করেছেন বলে গণ্য হবে।

অনুচ্ছেদ-৮১: অর্থবিল।

অনুচ্ছেদ-৮২: আর্থিক ব্যবস্থাবলির সুপারিশ।

অনুচ্ছেদ-৮৩: সংসদের আইন ব্যতিত করারোপে বাধা।

অনুচ্ছেদ-৮৪: সংযুক্ত তহবিল ও প্রজাতন্ত্রের সরকারি হিসাব।

অনুচ্ছেদ-৮৫: সরকারি অর্থের নিয়ন্ত্রণ।

অনুচ্ছেদ-৮৬: প্রজাতন্ত্রের সরকারি হিসাবে প্রদেয় অর্থ।

অনুচ্ছেদ-৮৭: বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি।

অনুচ্ছেদ-৮৮: সংযুক্ত তহবিলের উপর দায়।

অনুচ্ছেদ-৮৯: বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি সম্পর্কিত পদ্ধতি।

অনুচ্ছেদ-৯০: নির্দিষ্টকরণ আইন।

অনুচ্ছেদ-৯১: সম্পুরক ও অতিরিক্ত মজ্ঞুরি।

অনুচ্ছেদ-৯২: হিসাব ঋণ প্রভৃতির উপর ভোট।

অনুচ্ছেদ-৯২(ক): বিলুপ্ত।

অনুচ্ছেদ-৯৩: অধ্যাদেশ প্রণয়ন ক্ষমতা।

১) (সংসদ ভেঙ্গে যাওয়ার অবস্থায় বা উহার অধিবেশনকাল ব্যতিত) কোন সময়ে রাষ্ট্রপতির নিকট আশু ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি বিদ্যমান রয়েছে বলে সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হলে তিনি উক্ত পরিস্থিতিতে যেরূপ প্রয়োজনীয় বলে মনে করবেন, সেইরূপ অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও জারী করতে পারবেন এবং জারী হবার পর হতে অনুরূভাবে প্রনীত অধ্যাদেশ সংসদেও আইনের ন্যায় ক্ষমতাসম্পন্ন হবে।

২) কোন অধ্যাদেশ জারী হবার পর অনুষ্ঠিত সংসদের প্রথম বৈঠকে তাহা উপস্থাপিত হবে এবং ইতোপূর্বে বাতিল না হয়ে থাকলে অধ্যাদেশটি অনুরূপভাবে উপস্থাপনের পর ৩০ দিন অতিবাহিত হইলে কিংবা অনুরূপ উত্তীর্ণ হবার পূর্বে তা অনুমোদন করে সংসদে প্রস্তার গৃহীত হলে অধ্যাদেশটির কার্য়কারিতা লোপ পাবে।

ষষ্ঠ বিভাগ: বিচার বিভাগ (৯৪:১১৭)

অনুচ্ছেদ-৯৪: সুপ্রিম কোর্ট প্রতিষ্ঠা।

১) ‘বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট’ নামে দেশে একটি সর্বোচ্ছ আদালত থাকবে এবং আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ নিয়ে তা গঠিত হবে।

অনুচ্ছেদ-৯৫: বিচারক নিয়োগ ।

১) প্রধান বিচারপতি ও অন্যান্য বিচারপতিগণ রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হবেন।

বিচারক পদের জন্য অনুপযুক্ত ব্যক্তি

ক)কোনো ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগড়রিক না হলে ।

খ) সুপ্রিম কোর্টে অনূন্য ১০ বছরকাল এ্যাডভোকেসি না করে থাকলে।

গ) বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সীমানার মধ্যে অনূন্য ১০ বছরকাল কোনো বিচার বিভাগীয় পদে অধিষ্ঠান না করে থাকলে।

ঘ) সুপ্রিম কোর্টে বিচারক পদে নিয়োগ লাভের জন্য আইনের দ্বারা নির্ধারিত অন্যান্য যোগ্যতা না থাকলে তিনি বিচারক পদে নিয়োগ লাভের যোগ্য হবেনা।

অনুচ্ছেদ-৯৬: বিচারক পদের মেয়াদ।

কোন বিচারক ৬৭ বছর পর্যন্ত স্বীয় পদে বহাল থাকবেন।

অনুচ্ছেদ-৯৭: অস্থায়ী প্রধান বিচারপতি নিয়োগ।

অনুচ্ছেদ-৯৮: সুপ্রিম কোর্টের অতিরিক্ত বিচারকগণ ।

অনুচ্ছেদ-৯৯: বিচারকগণের ক্ষমতা।

অনুচ্ছেদ-১০০: সুপ্রিম কোর্টের আসন।

অনুচ্ছেদ-১০১: হাইকোর্ট বিভাগের এখতিয়ার।

অনুচ্ছেদ-১০২: কতিপয় আদেশ ও নির্দেশ প্রভৃতি দানের ক্ষেত্রে হাইর্কোট বিভাগের ক্ষমতা।

অনুচ্ছেদ-১০৩: আপিল বিভাগের এখতিয়ার ।

অনুচ্ছেদ-১০৪: আপিল বিভাগের পরোয়ানা জারী ও নির্বাহ।

অনুচ্ছেদ-১০৫: আপিল বিভাগ কর্তৃক রায় বা আদেশ পুনর্বিবেচনা।

অনুচ্ছেদ-১০৬: সুপ্রিম কোর্টের উপদেষ্টামূলক এখতিয়ার।

অনুচ্ছেদ-১০৭: সুপ্রিম কোর্টের বিধি-প্রণয়ন ক্ষমতা।

অনুচ্ছেদ-১০৮: ‘কোর্ট অব রেকর্ড’ রূপে সুপ্রিম কোর্ট।

অনুচ্ছেদ-১০৯: আদালত সমূহের উপর তত্ত্বাবধায়ক ও নিয়ন্ত্রণ।

অনুচ্ছেদ-১১০: অধঃস্তন বিভাগ হতে হাইকোর্ট বিভাগরে মামলা স্থানান্তর।

অনুচ্ছেদ-১১১: সুপ্রিম কোর্টের রায়ের বাধ্যতামূলক কার্যকারিতা।

অনুচ্ছেদ-১১২: সুপ্রিম কোর্টে সহায়তা।

অনুচ্ছেদ-১১৩: সুপ্রিম কোর্টের কর্মচারীগণ ।

অনুচ্ছেদ-১১৪: অধঃস্তন আদালতসমূহ প্রতিষ্ঠা।

অনুচ্ছেদ-১১৫: অধঃস্তন আদালত নিয়োগ।

অনুচ্ছেদ-১১৬: অধঃস্তন আদালতসমূহের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা।

অনুচ্ছেদ-১১৬(ক): বিচার বিভাগীয় কর্মচারীগণ বিচারকার্য পালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন।

অনুচ্ছেদ-১১৭: প্রশাসনিক ট্রাইবুন্যাল সমূহ।

সপ্তম ভাগ : নির্বাচন (১১৮-১২৬)

অনুচ্ছেদ-১১৮: নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠা।

নির্বাচন কমিশনারের পদের মেয়াদ তাঁর কার্যভার গ্রহনের তারিখ হতে ৫ বছর কাল হইবে।

অনুচ্ছেদ-১১৯: নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব।

অনুচ্ছেদ-১২০: নির্বাচন কমিশনের কর্মচারীগণ।

অনুচ্ছেদ-১২১: প্রতিটি জেলায় একটি মাত্র ভোটার তালিকা।

অনুচ্ছেদ-১২২: ভোটার তালিকায় নামভুক্তির যোগ্যতা।

কোন ব্যক্তি সংসদের নির্বাচনের জন্য নির্ধারিত কোন নির্বাচনী এলাকায় ভোটার তালিকাভুক্ত হইবার অধিকারী হইবেন যদি –

ক) তিনি বাংলাদেশের নাগরিক হন।

খ) তার বয়স ১৮ বছেরের কম না হয়।

গ) আদালত কর্তৃক অপ্রকৃতস্থ বলিয়া ঘোষনা বহাল না থাকলে।

ঘ) তিনি ঐ নির্বাচনী এলাকার অধিবাসী বা আইনের দ্বারা ঐ নির্বাচনী এলাকার অধিবাসী বলে বিবেচিত হন।

ঙ)তিনি ১৯৭২ সালেন বাংলাশে যোগসাজশকারী (বিশেষ ট্রাইব্যুনাল ) আদেশের অধীনে কোন অপরাধের জন্য দন্ডিত না হলে।

অনুচ্ছেদ-১২৩: নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময়।

১) রাষ্ট্রপতি পদের মেয়াদ অবসানের কারণে উক্ত পদ শূণ্য পদ হলে মেয়াদ সমাপ্তির তারিখের পূর্ববর্তী ৯০ দিন হতে ৬০ দিনের মধ্যে শূণ্য পদ পূরণের জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে।

২) মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণের ফলে রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হলে পদটি শূণ্য হবার পর ৯০ দিনের মধ্যে, তা পূর্ণ করবার জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

৩) সংসদ সদস্যদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে –

ক) মেয়াদ অবসানের কারণে সংসদ ভাঙ্গিয়া যাবার ক্ষেত্রে ভাঙ্গিয়া যাবার পূর্ববর্তী নব্বই দিনের মধ্যে ।

খ) মেয়াদ অবসান ব্যতীত অন্য কোন কারণে সংসদ ভাঙ্গিয়া যাবার ক্ষেত্রে ভাঙ্গিয়া যাওয়ার পরবর্তী নব্বই দিনের মধ্যে।

৪) সংসদ ভাঙ্গিয়া যাওয়া ব্যতীত কোন কারণে সংসদের কোন সদস্যপদ শূণ্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে উক্ত শূণ্যপদ পূরণ করবার জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

অনুচ্ছেদ- ১২৪: নির্বাচন সম্পর্কে সংসদে বিধান প্রণয়ণের ক্ষমতা।

অনুচ্ছেদ- ১২৫: নির্বাচনী আইন ও নির্বাচনের বৈধতা।

অনুচ্ছেদ- ১২৬: নির্বাচন কমিশনকে নির্বাহী কর্তৃপক্ষের সহায়তা দান।

বাংলাদেশের সংবিধান সংশোধনী

এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের সংবিধান ১৬ বার সংশোধন করা হয়েছে। সংশোধনী গুলো নিম্নরূপ:

১ম সংশোধনী:

শিরোনাম: সংবিধান (প্রথম সংশোধনী) আইন ১৯৭৩।

সংসদে উত্থাপনের তারিখ: ১২ই জুলাই, ১৯৭৩।

সংসদে পাসের তারিখ: ১৫ই জুলাই ১৯৭৩।

রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের তারিখ: ১৭ই জুলাই ১৯৭৩।

পক্ষে-বিপক্ষে ভোট: ২৫৪-০ (বিরত ৩ জন)।

উত্থাপনকারী : আইনমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন।

সংশোধনীর বিষয়বস্তু : যুদ্ধাপরাধীসহ অন্যান্য মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করা।

২য় সংশোধনী:

শিরোনাম: সংবিধান (দ্বিতীয় সংশোধনী) আইন, ১৯৭৩।

সংসদে উত্থাপনের তারিখ: ১৮ই সেপ্টেম্বর, ১৯৭৩।

সংসদে পাসের তারিখ: ২০ই সেপ্টেম্বর, ১৯৭৩।

রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের তারিখ: ২২ই সেপ্টেম্বর, ১৯৭৩।

পক্ষে-বিপক্ষে ভোট: ২৬৭-০ (স্বতন্ত্র ও বিরোধীরা ওয়াকআউট করেন)।

উত্থাপনকারী : আইনমন্ত্রী মনোরঞ্জন ধর।

সংশোধনীর বিষয়বস্তু : অভ্যন্তরীণ গোলযোগ বা বহিরাক্রমনে দেশের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক জীবন বাধাগ্রস্ত হলে “জরুরি অবস্থা” ঘোষণার বিধান।

তৃতীয় সংশোধনী:

শিরোনাম: সংবিধান (তৃতীয় সংশোধনী) আইন, ১৯৭৪।

সংসদে উত্থাপনের তারিখ: ২১শে নভেম্বর, ১৯৭৪।

সংসদে পাসের তারিখ: ২৩শে নভেম্বর, ১৯৭৪।

রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের তারিখ: ২৭শে নভেম্বর, ১৯৭৪।

পক্ষে-বিপক্ষে ভোট: ২৬১-০৭।

উত্থাপনকারী : আইনমন্ত্রী মনোরঞ্জন ধর।

সংশোধনীর বিষয়বস্তু : বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত চুক্তি অনুমোদন এবং চুক্তি অনুযায়ী ছিটমহল ( বেরুবাড়ীকে ভারতের নিকট হস্তান্তর) ও অপদখলীয় জমি বিনিময় বিধান।

চতুর্থ সংশোধনী:

শিরোনাম: সংবিধান (চতুর্থ সংশোধনী) আইন, ১৯৭৫।

সংসদে উত্থাপনের তারিখ: ২৫শে জানুয়ারি ১৯৭৫।

সংসদে পাসের তারিখ: ২৫শে জানুয়ারি ১৯৭৫।

রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের তারিখ: ২৫শে জানুয়ারি ১৯৭৫।

পক্ষে-বিপক্ষে ভোট: ২৯৪-০।

উত্থাপনকারী : আইনমন্ত্রী মনোরঞ্জন ধর।

সংশোধনীর বিষয়বস্তু: সংসদীয় শাসন পদ্ধতির পরিবর্তে রাষ্ট্রপতি শাসিত শাসন পদ্ধতি চালু এবং বহুদলীয় রাজনীতির পরিবর্তে একদলীয় রাজনীতি প্রবর্তন এবং বাকশাল গঠন।

পঞ্চম সংশোধনী :

শিরোনাম: সংবিধান (পঞ্চম সংশোধনী) আইন, ১৯৭৯।

সংসদে উত্থাপনের তারিখ: ৪ই এপ্রিল ১৯৭৯ ।

সংসদে পাসের তারিখ: ৬ই এপ্রিল ১৯৭৯।

রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের তারিখ: ৪ই এপ্রিল ১৯৭৯।

পক্ষে-বিপক্ষে ভোট: ২৪১-০।

উত্থাপনকারী : সংসদ নেতা শাহ আজিজুর রহমান

সংশোধনীর বিষয়বস্তু : ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে ১৯৭৯ সালের ৫ই এপ্রিল পর্যন্ত সামরিক সরকারের যাবতীয় কর্মকান্ডকে বৈধতা দান। এছাড়াও, ১৯৭৮ সালের ২য় ঘোষনাবলে ‘বাঙ্গালি’ জাতীয়তাবাদের পরিবর্তে” ‘বাংলাদেশী’ জাতীয়তাবাদ প্রবর্তন। ১৯৭৮ সালের ২য় ঘোষনাপত্রে আদেশ নম্বর ৪ এর ২য় তফসিলবলে বাংলাদেশের সংবিধানের শুরুতে দান,”বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম” সংযোজন করা হয়।

  • ♣ সুপ্রীম কোর্ট কর্তৃক অবৈধ ঘোষিত এবং বাতিলকৃত।

ষষ্ঠ সংশোধনী :

শিরোনাম: সংবিধান (ষষ্ঠ সংশোধনী) আইন, ১৯৮১।

সংসদে উত্থাপনের তারিখ: ১লা জুলাই ১৯৮১।

সংসদে পাসের তারিখ: ৮লা জুলাই ১৯৮১।

রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের তারিখ: ৯লা জুলাই ১৯৮১।

পক্ষে-বিপক্ষে ভোট: ২৫২-০।

উত্থাপনকারী : সংসদ নেতা শাহ আজিজুর রহমান।

সংশোধনীর বিষয়বস্তু: উপ-রাষ্ট্রপতি পদে বহাল থেকে রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনের বিধান নিশ্চিতকরন।

সপ্তম সংশোধনী :

শিরোনাম: সংবিধান (সপ্তম সংশোধনী) আইন, ১৯৮৬।

সংসদে উত্থাপনের তারিখ: ১০ নভেম্বর ১৯৮৬।

সংসদে পাসের তারিখ: ১০ নভেম্বর ১৯৮৬।

রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের তারিখ: ১০নভেম্বর ১৯৮৬।

পক্ষে-বিপক্ষে ভোট: ২২৩-০।

উত্থাপনকারী : সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী বিচারপতি কে এম নুরুল ইসলাম।

সংশোধনীর বিষয়বস্তু: ২৪শে মার্চ থেকে ১৯৮৬ সালের ৯ই নভেম্বর পর্যন্ত সামরিক আইন বলবৎ থাকাকালীন সময়ে প্রণীত সকল ফরমান, প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের আদেশ, নির্দেশ ও অধ্যাদেশসহ অন্যান্য সকল আইন অনুমোদন।

  • সুপ্রীম কোর্ট কর্তৃক অবৈধ ঘোষিত এবং বাতিলকৃত।

অষ্টম সংশোধনী :

শিরোনাম: সংবিধান (অষ্টম সংশোধনী) আইন, ১৯৮৬।

সংসদে উত্থাপনের তারিখ: ১১ই মে ১৯৮৮।

সংসদে পাসের তারিখ: ৭ জুন, ১৯৮৮।

রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের তারিখ: ৯ জুন, ১৯৮৮।

পক্ষে-বিপক্ষে ভোট: ২৫৪-০।

উত্থাপনকারী : সংসদ নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ।

সংশোধনীর বিষয়বস্তু: রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ইসলামকে স্বীকৃতিদান ও ঢাকার বাইরে ৬টি জেলায় হাইকোর্টের স্থায়ী বেঞ্চ স্থাপন। Dacca-এর নাম Dhaka এবং Bengali-এর নাম Bangla-তে পরিবর্তন করা হয়।

নবম সংশোধনী :

শিরোনাম: সংবিধান (নবম সংশোধনী) আইন, ১৯৮৯।

সংসদে উত্থাপনের তারিখ: ৬ই জুলাই ১৯৮৯।

সংসদে পাসের তারিখ: ১০ই জুলাই ১৯৮৯।

রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের তারিখ: ১১ই জুলাই ১৯৮৯।

পক্ষে-বিপক্ষে ভোট: ২৭২-০।

উত্থাপনকারী : সংসদ নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ।

সংশোধনীর বিষয়বস্তু: রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনের সাথে একই সময়ে উপরাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠান করা, রাষ্ট্রপতি পদে কোন ব্যক্তিকে পর পর দুই মেয়াদে সীমাবদ্ধ রাখা।

দশম সংশোধনী :

শিরোনাম: সংবিধান (দশম সংশোধনী) আইন, ১৯৯০।

সংসদে উত্থাপনের তারিখ: ১০ই জুন ১৯৯০।

সংসদে পাসের তারিখ: ১২ই জুন ১৯৯০।

রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের তারিখ: ২৩ই জুন ১৯৯০।

পক্ষে-বিপক্ষে ভোট: ২২৬-০।

উত্থাপনকারী : আইন ও বিচারমন্ত্রী হাবিবুল ইসলাম।

সংশোধনীর বিষয়বস্তু: রাষ্ট্রপতির কার্যকালের মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বে ১৮০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ব্যাপারে সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদের বাংলা ভাষ্য সংশোধন ও সংসদে মহিলাদের ৩০টি আসন আরো ১০ বছরকালের জন্য সংরক্ষণ।

একাদশ সংশোধনী :

শিরোনাম: সংবিধান (দশম সংশোধনী) আইন, ১৯৯১।

সংসদে উত্থাপনের তারিখ: ২রা জুলাই ১৯৯১।

সংসদে পাসের তারিখ: ৬ আগষ্ট, ১৯৯১।

রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের তারিখ: ১০ আগষ্ট, ১৯৯১।

পক্ষে-বিপক্ষে ভোট: ২৭৮-০।

উত্থাপনকারী : আইন ও বিচারমন্ত্রী মীর্জা গোলাম হাফিজ।

সংশোধনীর বিষয়বস্তু: অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের স্বপদে ফিরে যাবার বিধান।

দ্বাদশ সংশোধনী :

শিরোনাম: সংবিধান (দ্বাদশ সংশোধনী) আইন, ১৯৯১।

সংসদে উত্থাপনের তারিখ: ২রা জুলাই ১৯৯১।

সংসদে পাসের তারিখ: ৬ আগষ্ট, ১৯৯১।

রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের তারিখ: ১৮ই সেপ্টেম্বর ১৯৯১।

পক্ষে-বিপক্ষে ভোট: ৩০৭-০।

উত্থাপনকারী : প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।

সংশোধনীর বিষয়বস্তু: সংসদীয় পদ্ধতির সরকার পুনঃপ্রবর্তন ও উপরাষ্ট্রপতি পদ বিলুপ্তি।

ত্রয়োদশ সংশোধনী :

শিরোনাম: সংবিধান (ত্রয়োদশ সংশোধনী) আইন, ১৯৯৬।

সংসদে উত্থাপনের তারিখ: ২১শে মার্চ ১৯৯৬।

সংসদে পাসের তারিখ: ২৭শে মার্চ ১৯৯৬।

রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের তারিখ: ২৮শে মার্চ ১৯৯৬।

পক্ষে-বিপক্ষে ভোট: ২৬৮-০।

উত্থাপনকারী : আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী জমির উদ্দিন সরকার।

সংশোধনীর বিষয়বস্তু: অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নিরপেক্ষ-নিদর্লীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন।

  • সুপ্রীম কোর্ট কর্তৃক অবৈধ ঘোষিত এবং বাতিলকৃত।

চতুর্দশ সংশোধনী :

শিরোনাম: সংবিধান (চতুর্দশ সংশোধনী) আইন, ২০০৪।

সংসদে উত্থাপনের তারিখ: ২৭শে মার্চ ২০০৪, দ্বিতীয়বার ২৮শে এপ্রিল ২০০৪

সংসদে পাসের তারিখ: ১৬মে, ২০০৪।

রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের তারিখ: ১৭মে, ২০০৪।

পক্ষে-বিপক্ষে ভোট: ২২৬-১।

উত্থাপনকারী : আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ।

সংশোধনীর বিষয়বস্তু: নারীদের জন্য সংসদে ৪৫টি সংসদীয় আসন ১০ বছরের জন্য সংরক্ষণ, সরকারীভাবে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি সরকারী অফিসসহ নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানে সংরক্ষন ও প্রধর্শন। সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতির বয়স ৬৫ হতে ৬৭ বছর, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের বয়স নিয়োগ লাভের বয়স হতে ৫ বছর বা ৬৫ বছর পর্যন্ত এবং সরকারী কর্ম কমিশনেরর সভাপতি ও অন্যান্য সদস্যদের বয়স ৬২ হতে ৬৫ বছর উন্নীতকরণ। নির্বাচনের পর নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহন করাতে স্পিকার ব্যর্থ হলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথবাক্য পাঠ করাবেন।

পঞ্চদশ সংশোধনী :

শিরোনাম: সংবিধান (পঞ্চদশ সংশোধনী) আইন, ২০১১।

সংসদে উত্থাপনের তারিখ: ২৫শে জুন ২০১১

সংসদে পাসের তারিখ: ৩০শে জুন ২০১১

রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের তারিখ: ৩ জুলাই, ২০১১

পক্ষে-বিপক্ষে ভোট: ২৯১-১।

উত্থাপনকারী : আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমদ

সংশোধনীর বিষয়বস্তু: তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল।৫৮ এর ক অনুচ্ছেদ এবং ২ ক পরিচ্ছেদ (৫৮ খ, ৫৮ গ, ৫৮ ঘ এবং ৫৮ ঙ অনুচ্ছেদ) বিলুপ্ত।নির্বাচনের আগের ৯০ দিন সংসদ অধিবেশন বসার বাধ্যবাধকতা না রাখা। প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অনধিক চারজন নির্বাচন কমিশনার নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন। সংরক্ষিত নারী আসন ৪৫ হতে ৫০ এ উন্নতীকরণ ও সংরক্ষন। বঙ্গবন্ধু শে মুজিবুর রহমানকে জাতির পিতা স্বীকৃতি ও তাঁর প্রতিকৃতি সরকারি অফিসসহ নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানে সংরক্ষন ও প্রদর্শন।পঞ্চম,ষষ্ঠ, সপ্তম তিনটি তফসিল সংযোজন

পঞ্চম তফসিলঃ ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ তারিখে ঢাকার রেসকোর্স (বর্তমানে সোহরাওদী উদ্যান) ময়দানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণের পূর্ণবিবরণ।

ষষ্ঠ তফসিলঃ ১৯৭১ সালের ২৫মার্চ মধ্যরাত শেষে অর্থাৎ ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান কর্তৃক প্রদত্ত স্বাধীনতার ঘোষনার টেলিগ্রাফ।

সপ্তম তফসিলঃ ১০ এপ্রিল, ১৯৭১ সালের মুজিবনগর সরকারের জারিকৃত স্বাধীনতার ঘোষনাপত্রের পূর্ণবিবরণ।

রাষ্ট্রপতি কর্তৃক ঘোষিত জরুরী অবস্থার মেয়াদকাল সর্বোচ্চ ৪ মাস।

ষোড়শ সংশোধনী :

শিরোনাম: সংবিধান (ষোড়শ সংশোধনী) আইন, ২০১৪।

সংসদে উত্থাপনের তারিখ: ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৪।

সংসদে পাসের তারিখ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৪।

রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের তারিখ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৪।

পক্ষে-বিপক্ষে ভোট: ৩২৮-০।

উত্থাপনকারী : আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক।

সংশোধনীর বিষয়বস্তু: বাহাত্তরের সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদ পুনঃস্থাপনের মাধ্যমে বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদকে ফিরিয়ে দেয়া।

সপ্তদশ সংশোধনী :

মূল বিষয়: মহিলাদের জন্য সংসদে আসন সংরক্ষিত থাকবে আরও ২৫ বছর
পাশ: ৮ জুলাই , ২০১৮
প্রস্তাবক: আইনমন্ত্রী আনিসুল হক
পাশের ধরণ: কণ্ঠভোট
কার্যকর: একাদশ সংসদের প্রথম বৈঠক শুরু হবার দিন থেকে এই ২৫ বছর
সংবিধাননে সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদ :৬৫(৩)

  • সুপ্রীম কোর্ট কর্তৃক অবৈধ ঘোষিত এবং বাতিলকৃত।