স্নায়ুযুদ্ধ

স্নায়ুযুদ্ধ

স্নায়ুযুদ্ধ বা ঠান্ডা লড়াই মূলত একটি মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ, যার অর্থ সরাসরি প্রথাগত যুদ্ধে না জড়িয়ে একে অপরকে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামরিক কলা-কৌশলগতভাবে পরাভূত করা।

স্নায়ুযুদ্ধের ইতিহাস

স্নায়ুযুদ্ধ বা শীতলযুদ্ধ হচ্ছে ২য় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রসমূহ বনাম সোভিয়েত ইউনিয়ন ও তার মিত্রসমূহের ম্যেকার টানাপোড়নের নাম।যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত তাদের স্বীয় প্রভাব বলয় বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় লিপ্ত থেকে বিশ্ব রাজনীতির ক্ষেত্রে সংঘাতময় পরিস্থিতি সৃষ্টি করে।ইংরেজীতে ‘Cold War’ শব্দটি ব্যবহার করেন মার্কিন সাংবাদিক ওয়াল্টার লিপম্যান ১৯৪৭ সালে তাঁর একটি প্রকাশিত বইতে। স্নায়ুযুদ্ধের সময় মার্কিন মিত্র ছিল –যুক্ত্যরাজ্য, ফ্রান্স, পশ্চিম জার্মানি, ও কানাডিআর সোভিয়েত ইউনিয়নের মিত্র ছিল পূর্ব ইউরোপের দেশ-বুলগেরিয়া, হাঙ্গেরি, পোল্যান্ড, পূর্বজার্মানি, রোমানিয়া প্রভৃতি।এই যুদ্ধ শরু হয় ১৯৪০ এর দশকের মাঝামাঝি আর শেষ হয় ১৯৮০ এর শেষ দিকে।যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশ সমূহ ছিল গণতন্ত্র ও পুজিঁবাদের পক্ষে এবং সোভিয়েত ও তার মিত্ররা ছিল সাম্যবাদী বা সমাজতান্ত্রীক।তবে সোভিয়েত ইউনিয়নের নাটকীয় পরিবর্তন ও পতনের মধ্য দিয়ে এই যুদ্ধের শেষ হয়।

Comecon (কমেকন)

২য় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির পরাজয় এবং ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের বিধ্বস্ত অবস্থা পূর্ব ইউরোপকে অভিবাবক শূর্ণ করে ফেলে। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সম্মতিতে ইয়াল্টা কনফারেন্সের মাধ্যমে স্ট্যালিনের রাশিয়া পূর্ব ইউরোপের অভিবাবকত্ব পায়। স্ট্যালিন প্রথম পূর্ব ইউরোপে কম্যুনিস্ট চাপিয়ে না দিলেও ধীরে ধীরে প্রতিটা দেশেই (পোল্যান্ড, হাঙ্গেরী, চেকোস্লোভাকিয়া, রোমানিয়া, বুলগেরিয়া) কম্যুনিস্ট দলকে ক্ষমতায় বসায়।কিন্তু অল্প কিছুদিনের মধ্যেই পূর্ব ইউরোপিয়ান কম্যুনিস্টদের মধ্যে ঝামেলা সৃষ্টি হয়। একদল ছিল যারা ছিলো মস্কোর অনুগত। মস্কো যা বলে সেটাই তাদের মতে শেষ কথা এবং মস্কোর আনুগত্য মেনে নেওয়া।

কিন্তু অন্য আরেকদল ছিল যারা কম্যুনিস্ট কিন্তু মস্কোর কথাই শেষ বলে না মেনে নিজ দেশের পরিস্থিতি ও সমাজ অনুযায়ী কর্মপদ্ধতি ঠিক করতে চেয়েছিল। যাদের বলা হত জাতীয়তাবাদী সোশ্যালিস্ট।জাতীয়তাবাদী সমাজতান্ত্রিকের আদর্শ হয়ে উঠে, যুগোশ্লাভিয়ার মার্শাল টিটো।সমাজতন্ত্রের দুটি ধারার সৃষ্টি হয়, স্ট্যালিনিজম এবং টিটোইজম। এই পর্যায়ে সোভিয়েত দেশগুলোর মাঝে একটি অর্থনৈতিক জোট গঠন করা হয় ‘কমেকন’ নামে।স্ট্যালিন শাস্তি স্বরূপ টিটোর যুগোস্লাভিয়াকে এই জোটে নিষিদ্ধ করে এবং অন্যান্য সদস্যদের সাথে যুগোস্লাভিয়ার বানিজ্য বন্ধ করে দেয়।ফলে প্রথম সমাজতান্ত্রিক দেশে হিসেবে যুগোস্লাভিয়া যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বানিজ্য শুরু করে এবং বেশ কিছু আর্থিক সাহায্য পায়।