প্রাচীন সভ্যতা

Ancient civilization

প্রাচীন সভ্যতা

মেসোপটেমিয়া সভ্যতা

বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীনতম সভ্যতা মেসোপটেমিয়া। আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ৫০০০ বছর আগে ইরাকে টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদীর উর্বর তীরাঞ্চলে মেসোপটেমীয় সভ্যতার বিকাশ ঘটে।‘মেসোপটেমিয়া’ একটি গ্রিক শব্দ। এর অর্থ দুই নদীর মধ্যবর্তী ভূমি। মেসোপটেমিয়া সভ্যতার অন্তর্ভূক্ত রয়েছে সুমেরীয় সভ্যতা, ব্যাবিলনীয় সভ্যতা, আসেরীয় সভ্যতা ও ক্যালডীয় সভ্যতা।

 

সুমেরীয় সভ্যতা

মেসোপটেমিয়ার সবচেয়ে প্রাচীন সভ্যতা গড়ে তুলেছিল সুমেরীয়গণ। সুমেরীয়দের আদিবাস ছিল এলামের পাহাড়ি অঞ্চলে। খ্রিস্টপূর্ব ৪০০০ বছর আগে এদের একটি শাখা মেসোপটেমিয়ার দক্ষিণে বসতি গড়ে তোলে। সুমেরীয়দের আয়ের মূল উৎস ছিল কৃষি। তারা উন্নত সেচব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল। সুমেরীয়গণ ‘কিউনির্ফম’ নামে একটি নতুন লিপির উদ্ভাবন করে। কিউনির্ফমকে বলা হয় অক্ষরভিত্তিক বর্ণলিপি। সুমেরীয়দের বর্ণমালার কোন কোনটি দেখতে ইংরেজী বর্ণমালার V এর মত। সভ্যতায় সুমেরীয়দের সবচেয়ে বড় আবিষ্কার বা অবদান ‘চাকা’।

 

ব্যাবলনীয় সভ্যতা

সিরিয়ার মরুভূমি অঞ্চলের আমোরাইট জাতি আনুমানিক ২০৫০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে মেসোপটেমিয়া অঞ্চলে একটি নগর সভ্যতা গড়ে তোলে। ব্যাবলনীয় সভ্যতার স্থপতি ছিলেন বিখ্যাত আমোরাইট নেতা হাম্মুরাবি। পৃথিবীতে প্রথম লিখিত আইনের প্রচলন হয় ব্যাবিলনে। প্রথম লিখিত আইন প্রণেতা ছিলেন ব্যাবলনীয় সভ্যতার স্থপতি হাম্মুরাবি। এই সভ্যতায় আইন সংক্রান্ত ‘হাম্মুরাবি কোড’ প্রণীত হয়েছিল। সুমেরীয়দের অনুকরণে ব্যাবলনীয়রাও সাহিত্য রচনা করে। কিউনিফর্ম লিপিতে লেখা বিখ্যাত মহাকাব্য ‘গিলগামেশ’। পৃথিবীর প্রাচীনতম মানচিত্র পাওয়া যায় ব্যাবিলনের উত্তরের গাথুর শহরের ধ্বংসাবশেষে। এটি ছিল ভ্রমণকারীদের পথ নির্দেশ করার জন্য সহজ ও সরল প্রকারের মানচিত্র।

 

আসেরীয় সভ্যতা

ব্যাবিলন থেকে প্রায় দুইশত মাইল উত্তরে টাইগ্রিস নদীর তীরে ‘আশুর’ নামে একটি সমৃদ্ধ শহর গড়ে তোলে। আসিরীয় দেবতা নিজেকে মনে করত সূর্যদেবতা শামসরুর প্রতিনিধি। ইতিহাসে আসিরিয়ার পরিচয় সামরিক রাষ্ট্র হিসেবে। তাইরই প্রথম লোহার অস্ত্রে সজ্জিত বাহিনী গঠন করে এবং যুদ্ধরথের ব্যবহার করে।আসিরীয়রা প্রথম বৃত্তকে ৩৬০ তে ভাগ করে। পৃথিবীকে সর্বপ্রথম তারাই অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশে ভাগ করেছিলেন।

 

ক্যালডীয় সভ্যতা

ব্যাবিলন শহরকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠায় ক্যালডীয় সভ্যতা ইতিহাসে ‘নতুন ব্যাবলনীয় সভ্যতা’ নামেও পরিচিত। ক্যালডীয় সভ্যতার স্থপতি ছিলেন সম্রাট নেবুচাদনেজার। ‘ব্যাবিলনের শূন্যউদ্যান’ নির্মাণের জন্য তিনি অমর হয়ে আছেন। সম্রাট নেবুচাঁদ নেজারের সম্রাজ্ঞী বাগান করতে খুব পছন্দ করতেন। তাঁরই উৎসাহে সম্রাট নগর দেওয়ালের উপর তৈরি করলেন আশ্চর্য সুন্দর এক বাগান। ইতিহাসে যা ‘শূন্যউদ্যান’ নামে পরিচিত।

‘ব্যাবিলনের শূন্যউদ্যান’ প্রাচীন পৃথিবীর সপ্তাশ্চর্যের একটি। ক্যালডেরীয়রাই প্রথম সপ্তাহকে ৭ দিনে বিভক্ত করে।আবার প্রতিদিনকে ১২ জোড়া ঘন্টায় ভাগ করার পদ্ধতি তারা বের করে। ক্যালডেরীয়রা ১২ টি নক্ষত্রপুঞ্জের সন্ধান পান। তা থেকে ১২ টি রাশিচক্রের সৃষ্টি হয়।

 

 

প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতা

মিশরে নগর সভ্যতা গড়ে উঠেছিল খ্রিস্টপূর্ব ৫০০০ অব্দে। নীল নদকে কেন্দ্র করে মিশরের এ সভ্যতা গড়ে উঠেছিল বলে গ্রিক ইতিহাসবিদ হেরোডোটাস মিশরকে বলেছেন ‘নীল নদের দান’। ৫০০০-৩২০০ খ্রিস্টপূবাব্দ পর্যন্ত সময়ের মিশরকে প্রাক-রাজবংশীয় যুগ বলা হয়। এ সময়ে মিশর কতগুলো নগর রাষ্ট্রে বিভক্ত ছিল।এগুলোকে বলা হত ‘নোম’। ৩২০০ খ্রিস্টপূবাব্দে ‘মেনেস’ নামের রাজা সমগ্র মিশরকে একত্রিত করে একটি নগর রাষ্ট্র গড়ে তোলেন। দক্ষিণ মিশরের ‘মেম্ফিস’ হয় এর রাজধানী। এভাবে মিশরে রাজবংশের সূচনা হয়।

ধর্ম

ফারাও চতুর্থ আমেনহোটেপ বহুদেবতার পরিবর্তে একমাত্র সূর্যদেবতার আরাধনার কথা প্রচার করেন। সূর্যদেবতার নাম দেওয়া হয় ‘এটন’। দেবতাদের নামের সাথে মিল রেখে তিনি নিজের নাম রাখেন ‘ইখনাটন’। এভাবেই ইখনাটন সভ্যতার ইতিহাসে সর্বপ্রথম ঈশ্বরের ধারনা দেন।

স্থাপত্য ও ভাস্কর্য

প্রাচীন মিশরের রাজাদের বলা হত ‘ফারাও’। মিশরীয়রা মৃত্যুর পর আরেকটি জীবনের অস্তিত্বের প্রতি বিশ্বাসী ছিল।সে জীবনেও রাজা হবেন ফারাও।ফারাও রাজাদের মৃতদেহ সংরক্ষণের জন্য তৈরি করা হয় পিরামিড। পৃথিবীর সবচয়ে পুরাতন কীর্তিস্তম্ভ পিরামিড। মিশরের সবচেয়ে বড় পিরামিড হচ্ছে ফারাও খুফুর পিরামিড। খুফুর পিরামিড গড়ে উঠেছিল তের একর জায়গা জুড়ে। এ উচ্চতা ছিল প্রায় সাড়ে সাতশত ফুট। মিশরীয় ভাস্করদের সবচেয়ে গৌরব ‘স্ফিংস’ তৈরিতে। বহুখন্ড পাথরের গায়ে ফুটিয়ে তোলা হতো এ ভাস্কর্য। স্ফিংসের দেহ সিংহের আকৃতির, আর মাথা ছিল ফারাওয়ের। ফারাওদের আভিজাত্য শক্তির প্রতীক ছিল এই এ মূতি। ফারাও তুতেনখামেন খ্রিস্টপূবূ ১৩৩৩-১৩২৪ অব্দে মিশরে রাজত্ব করেন। ১৯২২ সালে হাওয়ার্ড কার্টার তুতেনখামেনে সমাধি আবিষ্কার করে বিশ্বব্যাপী আলোড়ন তোলেন।

লিখন পদ্ধতির উদ্ভাবন

মিশরীয়রা একটি লিখন পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন। প্রথম দিকে ছবি এঁকে এঁকে মিশরীয়রা মনের ভাব প্রকাশ করতো। এক একটি ছবি ছিল এক একটি অক্ষরের প্রতীক। অক্ষরভিত্তিক মিশরীয় এ চিত্রলিপিকে বলা হয় ‘হায়ারোগ্লিফিক’। গ্রিক শব্দ ‘হায়ারোগ্লিফিক’ অর্থ পবিত্রলিপি। ‘প্যারিপাস’ নামক এক ধরনের নল গাছের বাকল দিয়ে তারা সাদা রঙের কাগজও তৈরি করত।

বিজ্ঞান

মিশরীয়রা সর্বপ্রথম ১২ মাসে ১ বছর, ৩০ দিনে ১ মাস এই গণনারীতি চালু করেন। যেহেতু ফারাও মৃত্যুর পর পরকালে রাজা হবেন সেহেতু তাঁর মৃতদেহকে পচন থেকে রক্ষার জন্য মিশরীয় বিজ্ঞানীরা মমি তৈরি করতে শেখেন।

সিন্ধু সভ্যতা

মিশর ও মেসোপটিয়ায় যখন গড়ে উঠেছিল নগর সভ্যতা, প্রায় কাছাকাছি সময়ে ভারতবর্ষে গড়ে উঠেছিল একটি নগর সভ্যতা। এটি ব্রোঞ্জযুগের সভ্যতা। এখানে লোহার কোনো জিনিস পাওয়া যায়নি। প্রায় ৩৫০০ বছর পূর্বে দ্রাবিড় জাতি এ সভ্যতা গড়ে তুলেছিল বলে মনে করা হয়। এ প্রাচীন সভ্যতা আবিষ্কৃত হয় ১৯২১ সালে। সভ্যতাটি সিন্ধু নদের তীরে গড়ে উঠেছিল বলে এটি ‘সিন্ধু সভ্যতা’ নামে পরিচিত। হরপ্পা নগরীটি গড়ে উঠেছিল সিন্ধুর উপনদী রাভী’র তীরে। এটি অবস্থিত বর্তমান পাকিস্থানের পাঞ্জাব প্রদেশে। আর মূল সিন্ধু নদের তীরে এক বর্গমাইল এলাকা জুড়ে গড়ে উঠেছিল মহেঞ্জোদারো নগরী।

১৯২২ সালে পাকিস্থানের লারকানা জেলায় মাটি খুঁড়ে আবিষ্কার করা হয় মহেঞ্জোদারো নগরীর ধ্বংসাবশেষ। সিন্ধু সভ্যতার আবিষ্কারক জন মার্শাল, দয়ারাম সাহনী ও রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়। সিন্ধু সভ্যতায় পাওয়া সীল ও মাটির পাত্রের সাথে মেসোপটিয়ার দ্রব্যের মিল আছে। তাই বিখ্যাত প্রত্নতত্ত্ববিদ স্যার জন মার্শাল মনে করেন যে, সিন্দু সভ্যতা গৌরবের শিখরে উঠেছিল খ্রিস্টপূর্ব ৩২৫০ থেকে ২৭৫০ অব্দের মধ্যে।

নগর পরিকল্পনা

সভ্যতার ইতিহাসে সিন্দু সভ্যতা পরিকল্পিত একটি নগরীর ধারণা দিয়েছেন। উভয় শহরের রাস্তার দুপাশে দোতলা তিনতলা বাড়ি ছিল। প্রতি বাড়িতে ছিল চৌবাচ্চাসহ গোছলখানা কূপ। দুইটি শহরেই পাকা নর্দমা ছিল।

পেশা

সিন্দু সভ্যতার বেশিরভাগ লোক কৃষিকাজ করতো।

পরিমাপ পদ্ধতি

সিন্দু সভ্যতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান হল পরিমাপ পদ্ধতি উদ্ভাবন করা। দ্রব্য ওজনের জন্য নগরবাসী বিভিন্ন পরিমাপের বাটখারা ব্যবহার করত। দৈর্ঘ্য পরিমাপের জন্য তারা বিভিন্ন স্কেল ব্যবহার করত।

সীলমোহর

মহেঞ্জোদারো ও হরপ্পায় হাড় ও পাথরের তৈরি সীলমোহর পাওয়া গেছে।

সিন্ধু সভ্যতা ধ্বংসের কারণ

সিন্ধু সভ্যতার পতন শুরু হয় আনুমানিক ২৭৫০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে। কিভাবে সিন্ধু সভ্যতার ধ্বংস হয় সে বিষয়ে পণ্ডিতগণ সঠিক কোন সিদ্ধান্তে আসতে পারেননি। হয়তো বাহিরের কোন শত্রুর আক্রমণ অথবা প্রচন্ড কোন ভূমিকম্প বা ভয়াবহ কোন বন্যার ফলে এ সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যায়।

 

ফিনিশীয় সভ্যতা

লেবানন পর্বত এবং ভূমধ্যসাগরের মাঝামাঝি এক ফালি সরু ভূমিতে ফিনিশীয় রাষ্ট্র গড়ে উঠেছিল। কৃষিকাজ করার মত এখানে উর্বর জমি ছিলনা। তাদের আয়ের একমাত্র উৎস ছিল বাণিজ্য।

ফিনিশীয়দের অবদান

প্রাচীন সভ্যতার ইতিহাসে ফিনিশীয়দের পরিচয় শ্রেষ্ঠতম নাবিক ও জাহাজ নির্মাতা হিসাবে। ধ্রুবতারা (North Star) দেখে তারা দিক নির্ণয় করত। এ কারণে ধ্রুবতারা অনেকের কাছে ‘ফিনিশীয় তারা’ (Phonecion Star) নামে পরিচিত।

সাংস্কৃতিক উন্নতি

সভ্যতার ইতিহাসে ফিনিশীয়দের সবচেয়ে বড় অবদান হল বর্ণমালা এ উদ্ভাবন। তারা ২২টি ব্যঞ্জনবর্ণের উদ্ভাবন করে। আধুনিক বর্ণমালার সূচনা হয় এখান থেকে। ফিনিশীয়দের উদ্ভাবিত বর্ণমালার সাথে পরবর্তীতে গ্রিকরা স্বরবর্ণ যোগ করে বর্ণমালাকে সম্পূর্ণ করে।

কারিগরি দক্ষতা

 ফিনিশীয়রা মাটির পাত্র তৈরি করতে পারত। দক্ষতার সাথে কাপড় তৈরি ও রং করতে পারত।

 

পারস্য সভ্যতা

আজকের ইরান প্রাচীনকালে পারস্য নাম পরিচিত ছিল। খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ অব্দ থেকে ৬০০ অব্দের মধ্যে এখানে আর্যরা এক উন্নত সভ্যতা গড়ে তোলে। এ সভ্যতার অধিবাসীরা সামরিক শক্তিতে খ্যাতিমান ছিল। সভ্যতার ইতিহাসে দুইটি ক্ষেত্রে পারসীয়দের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমটি সুষ্ঠ ও দক্ষ প্রশাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং দ্বিতীয়টি ধর্মীয় ক্ষেত্রে নতুন ধারণা নিয়ে আসা। জরথুস্ট্র নামে পারস্য পাস্যে এক ধর্মগুরু ও দার্শনিকের আবির্ভাব ঘটে। জরথুস্ট্র কর্তৃক প্রবর্তিত ধর্ম ‘জরথুস্ট্রবাদ’ নামে পরিচিত। পারস্যের ইতিহাসে কাইরাস ও দারিয়ুস ছিলেন সবচেয়ে সফল শাসক। ৩০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে গ্রিক বীর আলেকজান্ডার অধিকার করে নেন সমগ্র পারস্য সাম্রাজ্যকে।

 

হিব্রু সভ্যতা

প্যালেস্টাইনের জেরুজালেম নগরীকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠে হিব্রু সভ্যতা। হিব্রু কোন জাতির নাম নয়। ‘হিব্রু’ একটি সেমাটিক ভাষা। এ ভাষায় কথা বলা লোকেরাই হিব্রু নামে পরিচিত। হিব্রুদের আদিবাস ছিল আরব মরুভূমিতে। বর্তমানে ইসরাইলের অধিবাসীরা হিব্রুদের বংশধর। হিব্রুরা তাদের অবদানের পুরোটাই রেখেছে ধর্মীয় ক্ষেত্রে। হিব্রুরা সর্বপ্রথম একেশ্বরবাদের কথা ব্যাপকভাবে প্রচার করে। অবশ্য অনেককাল পূর্বে মিশরের ফারাও ইখনাটন এক দেবতার আরাধনার আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু তা তেমন জনপ্রিয় হতে পারেনি। হিব্রুদের নবী হযরত মুসা (আ:), হযরত দাউদ (আ:) এবং হযরত সুলাইমান (আ:) মানুষের প্রচলিত ধর্মীয় চেতনায় নতুন আলোড়ন তোলেন।

 

প্রাচীন চৈনিক সভ্যতা

তিনটি অঞ্চলে প্রাচীন প্রাচীন চৈনিক সভ্যতা বেড়ে উঠতে থাকে। প্রথমটি হোয়ংহো (পীত নদী) নদীর তীরে, দ্বিতীয়টি ইয়াংজেকিয়াং নদীর তীরে আর তৃতীয়টি দক্ষিন চীনে গড়ে উঠেছিল।

দর্শন

চীনের প্রাচীনতম দার্শনিক ছিলেন লাওৎসে। তাঁর মতবাদের নাম ছিল তাওবাদ। চীনের ইতিহামে সবচেয়ে প্রভাবশালী দার্শনিক ছিলেন কনফুসিয়াম। কনফুসিয়ামের প্রধান অনুসারী ছিলেন মেনসিয়াম।

 

ইজিয়ান সভ্যতা

গ্রিস ও এশিয়া মাইনরকে পৃথক করেছে ইজিয়ান সাগর। এই ইজিয়ান সাগর জুড়ে ছিল ছোট বড় অনেক দ্বীপ। ইজিয়ান সাগরের দ্বীপমালা ও এশিয়া মাইনরের উপকূলে একটি উন্নত নগর সভ্যতা গড়ে উঠে। ইতিহাসে এ সভ্যতা ইজিয়ান সভ্যতা নামে পরিচিত। গ্রিসে সভ্যতা গড়ে তোলার প্রস্তুতিপর্ব ছিল এ সভ্যতা। ১২০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে ইজিয়ান সভ্যতার পতন ঘটে।

 

গ্রিক সভ্যতা

‘গ্রিক’ ও ‘গ্রিস’ শব্দ দুটি যথাক্রমে জাতি ও দেশ। গ্রিক সভ্যতার সাথে দুইটি সংস্কৃতির নাম জড়িয়ে আছে। একটি ‘হেলেনিক’ এবং অন্যটি ‘হেলেনিস্টিক’। গ্রিক সভ্যতায় অনেকগুলো ছোট ছোট নগর রাষ্ট্র গড়ে উঠেছিল। গ্রিসকে গণতন্ত্রের সূতিকাগার বলা হয়। গ্রিসের ভৌগলিক পরিবেশ ছিল একটু ভিন্ন ধরনের। এ অঞ্চলে অনেকগুলো পাহাড় দাঁড়িয়ে ছিল দেয়ালের মত। ফলে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বেশ কয়েকটি অঞ্চলে ভাগ হয়ে যায় দেশটি। এ ছোট দেশগুলোর নাম হয় নগর রাষ্ট্র। এদের মধ্যে নেতৃস্থানীয় ছিল স্পার্টা ও এথেন্স। স্পার্টা ছিল একটি সামরিক নগর রাষ্ট্র। রাষ্ট্রনেতারা ছিল স্বৈরাচারী। পক্ষান্তরে প্রতিবেশী এথেন্স ছিল গণতান্ত্রিক নগর রাষ্ট্র। রাষ্ট্র পরিচালনায় জনগণের অংশগ্রহণের অধিকার থাকলে সে ব্যবস্থাকে বলে গণতন্ত্র। প্রাচীন পৃথিবীতে এথেন্সেই সর্বপ্রথম গণতন্ত্রের সূচনা করে। রাষ্ট্র পরিচালনায় তখন দুইটি সংসদ ছিল। গোত্র প্রধানদের নিয়ে গড়া সংসদকে বলা হত ‘এরিওপেগাস’ এবং সাধারণ নাগরিকদের সমিতিকে বলা হত ‘একলেসিয়া’। এথেন্সে চূড়ান্তভাবে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন পেরিক্লিস। পেরিক্লিস এথেন্সের ক্ষমতায় আসেন ৪৬০ খ্রিস্টাব্দে। এশিয়া মাইনরে প্রথম লোহা আবিষ্কৃত হয়।

পেলোপনেসীয় যুদ্ধ

স্পার্টা ও এথেন্স উভয় দেশ একে অন্যের শত্রু ছিল। এথেন্স তাঁর বন্ধু রাষ্ট্রগুলোকে নিয়ে একটি জোট গঠন করে। এর নাম হয় ‘ডেলিয়ান লীগ’।

অন্যদিকে স্পার্টা তাঁর বন্ধু রাষ্ট্রগুলোকে নিয়ে আরেকটি জোট গঠন করে। এ জোটের নাম ‘পেলোপনেসীয় লীগ’। এক সময় এই দুই জোটের মধ্যে যুদ্ধ বেধে যায়। ইতিহাসে এ যুদ্ধ ‘পেলোপনেসীয় যুদ্ধ’ নামে পরিচিত। ৪৬০ থেকে ৪০৪ খ্রিস্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত মোট ৩ বার যুদ্ধ হয়। এ যুদ্ধে চূড়ান্ত পতন হয় এথেন্সের।

ভৌগলিক অবস্থান

 প্রাচীন গ্রিক সভ্যতা গড়ে উঠেছিল ভূমধ্যসাগরকে কেন্দ্র করে। ভৌগলিকও সাংস্কৃতিক কারণে গ্রিক সভ্যতার সাথে দুইটি সংস্কৃতির নাম জড়িয়ে আছে। একটি ‘হেলেনিক’ এবং অন্যটি ‘হেলেনিস্টিক’। গ্রিসকে হেলেনীয় সভ্যতার দেশ বলা হয়। গ্রিসের প্রধান শহর এথেন্সে শুরু থেকেই যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল তাকে বলা হয় হেলেনিক সংস্কৃতি। গ্রিস উপদ্বীপ ছিল এ সংস্কৃতির মূল কেন্দ্র। খ্রিস্টপূর্ব ৩৩৭ অব্দ পর্যন্ত হেলেনিক সভ্যতাটি টিকে ছিল। এ সময় মিশরের আলেকজান্দ্রিয়াকে কেন্দ্র করে গ্রিক সংস্কৃতি ও অগ্রিক সংস্কৃতির মিশ্রণে এক নতুন সংস্কৃতির জন্ম হয়। ইতিহাসে এ সংস্কৃতির পরিচয় হয় হেলেনিস্টিক সংস্কৃতি নামে।

ধর্ম

গ্রিকরা বহুদেবতায় বিশ্বাসী ছিল। গ্রিকদের প্রধান দেবতা জিউস। দেবতা এপেলো ও দেবী এথেনাও ছিলেন বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। গ্রিকবাসী বিশ্বাস করত দেবতাদের বাস উত্তর গ্রিসে অলিম্পাস পর্বতের চূড়ায়।

 

গ্রিক দেবী বা দেবতার নাম পরিচিতি
আফ্রোডায়িট ভালবাসা, রোমাঞ্চ এবং সৌন্দর্যের দেবী
এপেলো সূর্য, আলো, চিকিৎসাবিদ্যা এবং সঙ্গীতের দেবতা
এরিস যুদ্ধদেবতা
আরটেমিস শিকার, বন, উর্বরতা এবং চাঁদের দেবী
এথেনা প্রঞ্জার দেবী (জিউসের কন্যা)
ডিমিটার কৃষি বিষয়ক দেবী
হারমেস ব্যবসা বিষয়ক দেবতা (রোমান নাম মারকারি)
হেরা বিবাহ বন্ধন অটুট রাখার দেবী (জিউসের স্ত্রী)
জিউস দেবতাদের রাজা

দর্শন

গ্রিকদের সবচেয়ে বড় অবদান ছিল দর্শন চর্চায়। প্রথম দিকের বিখ্যাত দার্শনিক ছিলেন থ্যালেস। থ্যালেস কল্পকাহিনীর বদলে প্রথম সূর্যগ্রহণের প্রাকৃতিক কারণ ব্যাখ্যা করেন। ধীরে ধীরে গ্রিসে এক ধরনের ‍যুক্তিবাদী দার্শনিকের আবির্ভাব ঘটে। এদের বলা হতো সফিস্ট।

 

সক্রেটিস

সক্রেটিস ছিলেন গ্রীসের দার্শনিকদের  মধ্যে সবচেয়ে খ্যাতিমান। অন্যান্য শাসনের প্রতিবাদ করায় গ্রিসের শাসকগোষ্ঠী ৩৯৯ খ্রিস্টপূর্বাব্দে এ মহান দার্শনিককে হেমলক লতার তৈরি বিষ খাইয়ে হত্যা করা হয়। তাঁকে ‘সব জ্ঞানীদের গুরু’ বলা হয়।

 

প্লেটো

সক্রেটিসের ছাত্র দার্শনিক প্লেটো গ্রিক দর্শনকে চরম উন্নতির দিকে নিয়ে যান। তিনি গ্রিসে জন্মগ্রহণ করেন এবং গ্রিসের নাগরিক ছিলেন। তিনি তাঁর চিন্তাগুলো ধরে রাখেন ‘দি রিপাবলিক’ নামক গ্রন্থ রচনা করে। প্লেটো ৩৮৫ খ্রিস্টপূর্বাব্দে দর্শনের স্কুল ‘Akademia’ প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি সক্রেটিসের শিক্ষার বক্তব্যগুলোকে নিয়ে ‘ডায়ালগস অব সক্রেটিস’ আরেকটি গ্রন্থ রচনা করেন।

 

এরিস্টটল

প্লেটোর ছাত্র এরিস্টটলও একজন বড় দার্শনিক ছিলেন। তাঁর একটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম ‘দ্য পলিটিক্স’। তিনি ‘লাইসিয়াম’ – এর প্রতিষ্ঠাতা। এরিস্টটল আলেকজান্ডারের শিক্ষক ছিলেন।

 

গ্রিক সাহিত্য

গ্রিক মহাকবি হোমার হাজার হাজার বছরের পুরোনো কাহিনী নিয়ে রচনা করেন মহাকাব্য ILIAD (ইলিয়াড) এবং Odyssey (ওডিসি)। গ্রিসের সবচেয়ে জনপ্রিয় নাট্যকার ছিলেন ‘এস্কাইলাস’। তাঁর বিখ্যাত দুইটি নাটকের নাম ‘প্রমেথিউস বাউন্ড’ ও ‘আগামেমনন’। নাট্যকার সফোক্লিস একশটিরও বেশি নাটক লেখেন। এর মধ্যে দুইটি জনপ্রিয় নাটক হচ্ছে ‘এন্টিগনে ও ‘ইলেক্ট্রা’। নাট্যকার সফোক্লিসের বিখ্যাত ট্রাজেডি ‘রাজা ঈদিপাস’। ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রেও সমান কৃতিত্ব ছিল গ্রিকদের। গ্রিক ইতিহাসবেত্তা হেরোডোটাসকে ইতিহাসের জনক বলা হয়। তিনি আনুমাণিক ৪৮৪ খ্রিস্টপূর্বে বর্তমান তুরস্কের বোদরামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বিখ্যাত গ্রন্থ ‘The Histories’। অন্য খ্যাতিমান ইতিহাসবিদ ছিলেণ ‘থুকুডাইডিস’। তাকে বিজ্ঞানসম্মত ইতিহাসের জনক বলা হয়।

বিজ্ঞান

গ্রিক বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর মানচিত্র অঙ্কন করেছিলেন। তারাই প্রমাণ করেছিলেন যে পৃথিবী একটি গ্রহ এবং তা নিজ কক্ষপথে আবর্তিত হয়। বিখ্যাত গ্রিক গনিতবিদ ‘পিথাগোরাস’ খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে জন্ম নিয়েছিলেন। খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতকে জন্ম নেন বিজ্ঞানী এনাক্সাগোরাস। চিকিৎসাবিজ্ঞানী হিপোক্রেটিস যথেস্ট খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।

খেলাধুলা

খ্রিস্টপূর্ব ৭৭৬ অব্দে গ্রিসে অলিম্পিক প্রতিযোগিতার জন্ম হয়। প্রতি চার বছর অন্তর অন্তর এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হতো। বিভিন্ন নগর রাষ্ট্রের খেলোয়াড়রা অংশ নিত। এ খেলার সূত্র ধরে পারস্পরিক শত্রুতার বদলে গ্রিকদের মধ্যে সাংস্কৃতিক ঐক্য গড়ে উঠে।

 

স্থাপত্য ও ভাস্কর্য

কয়েকজন খ্যাতিমান গ্রিক ভাস্কর হচ্ছেন মাইনর, ফিদিয়াস এবং প্রাকসিটেলেস। প্রাচীন গ্রিসে মৃৎপাত্রের গায়ে চিত্রকর্ম অঙ্কন হতো।

রোমান সভ্যতা

প্রাচীনকালের অধিকাংশ সভ্যতা নদীমাতৃক হলেও রোমান সভ্যতা নদীমাতৃক ছিলনা। ইতালির পশ্চিমাংশে অবস্থিত ছোট্ট শহর রোমকে কেন্দ্র করে রোমান সভ্যতার বিকাশ ঘটেছিল। ইন্দো-ইউরোপীয় গোষ্ঠীয় একদল মানুষ ২০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে উত্তর ইতালিতে বসতি গড়ে তোলে। এদের বলা হত ল্যাটিন।ক্রমে এদের ভাষা ‘ল্যাটিন ভাষা’ নামে পরিচিতি পায়। ল্যাটিন রাজা রেমিউলাস একটি নগরী পত্তন করেন। দাসশ্রমের উপর নির্ভরশীল ছিল রোমের অর্থনীতি। দাসদের উপর অমানবিক অত্যাচার করা হত। অবশেষে স্পার্টাকাস নামক একজন দাসের নেতৃত্বে সংঘঠিত হয় দাস বিদ্রোহ। বিদ্রোহী দাসরা দুই বছর দক্ষিন ইতালিতে টিকে ছিল। স্পার্টাকাস ৭১ খ্রিস্টপূর্বাব্দে নিহত হলে দাস বিদ্রোহের অবসান হয়। রোমের সবচেয়ে খ্যাতিমান সম্রাট জুলিয়াস সিজার। তিসনি ৪৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দে রোমের সম্রাট হন। তাঁর বিখ্যাত উক্তি ‘এলাম, দেখলাম, জয় করলাম’। কিন্তু রোমের ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও ষড়যন্ত্র প্রবল হতে থাকলে ব্রুট্স ও ক্যাসিয়াস নামে দুই অভিজাতের হাতে জুলিয়াস সিজার নিহত হন। এবার গৃহ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে রোম। অবশেষে তিন নেতা একযোগে ক্ষমতায় আসেন। এরা হলেন অক্টোভিয়াম সিজার, মার্ক এন্টনি এবং লেপিডাস। এ তিনজনের একত্র শাসনকে ইতিহাসে ‘ত্রয়ী শাসন’ বলা হয়। কিন্তু ত্রয়ী শাসন বেশিদিন টিকেনি। অক্টোভিয়াম সিজার প্রথমে লেপিডাসকে পরাজিত করেন। এন্টনি মিশরের রাজকণ্যা ক্লিওপেট্টাকে বিয়ে করে শক্তি অর্জন করেছিলেন। ক্লিওপেট্টাকে ইতিহাসে Serpent of the Nile (নীল নদের সর্প) নামে পরিচিত।কিন্তু তিনিও পরাজিত হন অক্টোভিয়াম সিজারের কাছে। এভাবে রোমান সাম্রাজ্যের একচ্ছত্র অধিপতি হয়ে অক্টোভিয়াম সিজার অগাস্টাস সিজার উপাধি ধারন করেন। অগাস্টাস সিজারের রাজত্বকালে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা হল খ্রিস্টধর্মের প্রবর্তক যীশুখ্রিস্টের জন্ম। অগাস্টাস সিজার ১৪ সালে মারা যান। ৪৭৬ সালে রোমান সাম্রাজ্যের পতন হয়। শেষ রোমান ছিলেন রোমিউলাস অগাস্টুলাস।

দর্শন

রোমের সবচেয়ে জনপ্রিয় দার্শনিক মতবাদের নাম ‘স্টোয়িকবাদ’। এ দর্শনের উন্নয়নের পিছনে তিন ব্যক্তির বিশেষ ভূমিকা ছিল। এরা ছিলেন ধনী রোমান ‘সেনেকা’, অন্যজন এক দাস ‘এপিকটেটাস এবং শেষ ব্যক্তিত্ব হলেন রোমান সম্রাট ‘মার্কাস অরেলিয়াস’।

সাহিত্য

এ যুগের কবি হোরাস ও ভার্জিল যথেষ্ট খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। ভার্জিলের মহাকাব্য ‘ইনিড’ বহুভাষায় অনূদিত হয়েছে। ওভিদ ও লিভিএ যুগের অন্য দুই খ্যাতিমান কবি। বিখ্যাত ইতিহাসবিদ ট্যাসিটাস এ যুগে রোমে জন্ম হিয়েছিল।

স্থাপত্য ও ভাস্কর্য

রোমের একটি বিখ্যাত স্থাপত্য নিদর্শন হচ্ছে সম্রাট হাড্রিয়ানের তৈরি ধর্মমন্দির প্যানথিয়ন।কলোসিয়াম নামে রোমে তৎকালীন বিশ্বের সবচেয়ে বড় নাট্যশালা তৈরি হয়েছিল। এখানে একসাথে ৫৬০০ দর্শক বসতে পারত।

আইন

 রোমানদের সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব আইনের ক্ষেত্রে। বার্জেন্টাইন সম্রাট জাস্টিনিয়ান সর্বপ্রথম সম্পূর্ণ। রোমান আইন সংকলিত করেন। আইনের ক্ষেত্রে আধুনিক বিশ্ব সম্পূর্ণভাবে রোমান আইনের উপর নির্ভরশীল।

 

ইনকা সভ্যতা

পেরুর দক্ষিণাংশে শক্তিশালী ইনকা সভ্যতা বিকাশ ঘটেছিল। ইনকা সভ্যতার ব্যাপ্তিকাল ছিল ১৪৩৮-১৫৩২ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত। ইনকা সভ্যতার শক্তিশালী সম্রাটগণ তাদের বাসস্থান হিসাবে মাচু-পিচ্চু নগরী গড়ে তুলেছিলেন।

 

মায়া সভ্যতার নিদর্শন পাওয়া যায় মেক্সিকোর দক্ষিণে এবং উত্তর মধ্য আমেরিকাতে।

 

আদিবাসী গোষ্ঠী

 

আদিবাসী সম্প্রদায় দেশের নাম তথ্য
Zulu (জুলু) দক্ষিণ আফ্রিকা  
Pygmy (পিগমি) মধ্য আফ্রিকা পৃথিবীর সবচেয়ে খর্বকায়
Maasi (মাসাই) কেনিয়া, তাঞ্জানিয়া  
Maori (মাওরি) নিউজিল্যান্ড  
Kurdi (কুর্দি) ইরান, ইরাক, সিরিয়া, তুরস্ক  
Afridi (আফ্রিদি) পাকিস্থান  
Gurkha (গুর্খা) নেপাল  
Toda (টোডা)  

 

 

ভারত

সমাজে বহুস্বামী ভিত্তিক পরিবার দেখা যায়।
Naga (নাগা)  
Dravidian (দ্রাবিড়) সাধারণভাবে দ্রাবিড়িয়ান ভাষাসমূহে (তেলেগু, কর্ণাটক, মালায়ালাম প্রভৃতি) কথা বলে এমন জনগোষ্ঠীকে দ্রাবিড় বলে।
Bedya (বেদে) ভারতীয় উপমহাদেশ যাযাবর জাতি বিশেষ
Eskimos (এস্কিমো) সার্বিয়া (রাশিয়া), আলাস্কা (যুক্তরাষ্ট), কানাডা, গ্রীনল্যান্ড এস্কিমোরা শিকারের জন্য কুকুর চালিত যে গাড়ি ব্যবহার করে তার নাম স্লেজ (Sledge)। স্লেজ গাড়ি চালাতে Siberian Huskies বা Alaskan malamutes কুকুর ব্যবহৃত হয়।
Red Indian (রেড ইন্ডিয়ান) আমেরিকা আমেরিকার আদি অধিবাসী
হুট ও টুটসি রুয়ান্ডা রুয়ান্ডা ক্ষমতার লড়াইয়ে লিপ্ত দুটি প্রধান উপজাতি।

 

 

আদি মানব

 

Java Man (জাভা মানব)

১৮৯১ সালে ইন্দোনেশিয়ার অর্ন্তগত পূর্ব জাভার সোলো নদীর তীরে প্রাগৈতিহাসিক মানুষের মাথার খুলি আবিষ্কৃত হয়। এই আদি মানবের নাম দেওয়া হয় ‘জাভা মানব’।

 

Heidelberg Man (হেইডেলবার্গ মানব)

১৯০৭ সালে জার্মানির হেইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের জনিক অধ্যাপক প্রাগৈতিহাসিক মানুষের নিচের চোয়ালের হাড় আবিষ্কার করেন এবং নামকরণ করেন ‘হেইডেলবার্গ মানব’।

Peking Man (পিকিং মানব)

১৯২৯ সালে পিকিংয়ের (আধুনিক বেইজিং) নিকট পাওয়া যায় প্রাগৈতিহাসিক মানুষের মাথার খুলি। এ আদি মানুষের নাম দেওয়া হয় ‘পিকিং মানব’।

Lucy (অস্ট্রালোপিতিসিন্স লুসি)

১৯৭৪ সালের ২৪ নভেম্বর ইথিওপিয়ার ৩.২ মিলিয়ন বছরের পুরোনো কংকাল আবিষ্কৃত হয়। কংকালটির নামকরণ করা হয় লুসি (Lucy)। এর স্পেসিস: Australopithecus afarensis।